লাউ নাকি ঝিঙে, স্বাস্থ্যের গুণাগুণের বিচারে ঠিক কোনটা বেশি উপকারী?গরমের তীব্র দাবদাহে শরীর ঠান্ডা রাখা এবং হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এই সময়ে আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় হালকা ও জলীয় পুষ্টিতে ভরপুর সবজি রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। আর যখনই গ্রীষ্মকালীন হালকা সবজির কথা ওঠে, তখন লাউ এবং ঝিঙের নাম তালিকার শীর্ষে আসে। দুটি সবজিই জল, ফাইবার এবং নানা প্রয়োজনীয় ভিটামিনে ভরপুর। পেট ঠান্ডা রাখা থেকে শুরু করে ডিহাইড্রেশন রোধে এগুলির ভূমিকা অপরিসীম। তবে বাঙালির মনে প্রায়শই একটি প্রশ্ন জাগে; লাউ নাকি ঝিঙে, স্বাস্থ্যের গুণাগুণের বিচারে ঠিক কোনটা বেশি উপকারী?
পুষ্টিবিদদের মতে, দুটি সবজিরই নিজস্ব কিছু শারীরিক উপকারিতা রয়েছে। পুষ্টিগুণের নিরিখে কোন সবজি ঠিক কতটা এগিয়ে, দেখে নেওয়া যাক।
লাউয়ের পুষ্টিগুণ ও শারীরিক উপকারিতা
প্রতি ১০০ গ্রাম লাউয়ে প্রায় ৯২ থেকে ৯৬ শতাংশই থাকে জল। এ ছাড়া এতে থাকে মাত্র ১৫ ক্যালোরি, ৪ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ১.২ গ্রাম ফাইবার, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম এবং ক্যালসিয়াম।
ডিহাইড্রেশন রোধ: প্রচুর পরিমাণে জল থাকায় লাউ শরীরের জলের ঘাটতি পূরণ করতে দারুণ কাজ করে।
হজমশক্তি বৃদ্ধি: লাউ অত্যন্ত হালকা ও সহজে হজমযোগ্য। কোষ্ঠকাঠিন্য, অ্যাসিডিটি বা বুক জ্বালা ভাব কমাতে এর ফাইবার সাহায্য করে।
হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা: লাউয়ে থাকা পটাশিয়াম ও আয়রন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং হার্টকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।
ঝিঙের পুষ্টিগুণ ও শারীরিক উপকারিতা
অন্যদিকে, প্রতি ১০০ গ্রাম ঝিঙেতে জলের পরিমাণ প্রায় ৯৩ থেকে ৯৫ শতাংশ। এতে ক্যালোরির পরিমাণ প্রায় ১৮-২০, আর এতে ফাইবারের মাত্রা থাকে ২.৫ গ্রাম, যা লাউয়ের তুলনায় কিছুটা বেশি। পাশাপাশি ভিটামিন সি, আয়রন ও বিটা-ক্যারোটিন মেলে এই সবজিতে।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণে: ঝিঙেতে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার বেশি থাকায় এটি অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং বাওয়েল মুভমেন্ট স্বাভাবিক করে।
অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের খনি: ঝিঙেতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দিতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
তবে কোনটা বেছে নেবেন?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, লাউ এবং ঝিঙে; দুটিই অত্যন্ত পুষ্টিকর ও শরীরের জন্য পরম হিতকর। তবে আপনার শারীরিক চাহিদার ওপর নির্ভর করবে কোনটা বেশি জরুরি। যদি আপনি প্রচণ্ড গরম, শারীরিক ক্লান্তি কিংবা পেট ফাঁপার সমস্যায় ভুগে থাকেন, তবে লাউ খাওয়া সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত। অন্যদিকে, যদি আপনার মূল লক্ষ্য হয় হজম ক্ষমতা বাড়ানো, উচ্চ ফাইবার যুক্ত খাবার খাওয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা, তবে ঝিঙে বেশি ফলদায়ী হতে পারে। তাই কোনও একটিকে বাদ না দিয়ে, গরমের দিনে দু'টি সবজিকেই ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খাদ্যতালিকায় রাখাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।