নন স্মোকারদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সারঅনেকেই মনে করেন, ফুসফুসের ক্যান্সার শুধুমাত্র ধূমপান করলেই হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, ধূমপান না করা মানুষরাও এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে এই রোগের প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে।
বিশিষ্ট পালমোনোলজিস্ট ডা: অরিন্দম দত্ত বলেন, 'আমি কখনও ধূমপান করিনি। তাহলে আমার ফুসফুসে ক্যান্সার হবে কীভাবে? এই প্রশ্ন এখন চিকিৎসকদের কাছে আগের তুলনায় বেশি আসছে।'
তিনি জানান, বিশ্বজুড়ে ফুসফুসের ক্যান্সারের প্রায় ১৫-২৫ শতাংশ এমন মানুষদের মধ্যে দেখা যায়, যাঁরা কখনও ধূমপান করেননি। ভারতেও এখন এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
ICMR-NCRP-এর হিসেব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতে ১.১ লক্ষেরও বেশি নতুন ফুসফুসের ক্যান্সারের ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালভিত্তিক গবেষণাতেও দেখা গিয়েছে, রোগীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ কখনও ধূমপান করেননি। উত্তর ভারতের ৭২৪ জন রোগীকে নিয়ে একটি গবেষণায় প্রায় ৪১ শতাংশ রোগীকে নন-স্মোকার হিসেবে পাওয়া গিয়েছিল।
কেন নন স্মোকারদের মধ্যে ধূমপান বাড়ছে?
ভারতে বায়ুদূষণ, বিশেষ করে PM2.5 বা বায়ুর অতি সূক্ষ্ম কণার সঙ্গে সংস্পর্শ একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে। এছাড়াও ঘরের ভিতরে জ্বালানি হিসেবে বায়োমাস ব্যবহারের ধোঁয়া, পরোক্ষ ধূমপান এবং কর্মক্ষেত্রে অ্যাসবেস্টস, সিলিকা ও ডিজেল ধোঁয়ার মতো ক্ষতিকর উপাদানের সংস্পর্শও ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে অনেক রোগীর ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট কোনও কারণ চিহ্নিত করা সম্ভব হয় না।
তিনি আরও জানান, ধূমপান না করা ব্যক্তিদের ফুসফুসের ক্যান্সারের ধরন ও বৈশিষ্ট্যও অনেক সময় আলাদা হতে পারে। এই রোগীদের মধ্যে অ্যাডেনোকার্সিনোমা বেশি দেখা যায়। এঁদের EGFR-এর পাশাপাশি ALK, ROS1, RET, MET ও HER2-এর মতো জিনগত পরিবর্তন থাকার সম্ভাবনাও বেশি। এই পরিবর্তনগুলি শনাক্ত করা গেলে নির্দিষ্ট জিনকে লক্ষ্য করে চিকিৎসা বা টার্গেটেড থেরাপির সুযোগ তৈরি হয়।
থোরাসিক অ্যান্ড ভাসকুলার সার্জারির সিনিয়র কনসালট্যান্ট প্রফেসর ডা: অমিতাভ চক্রবর্তীও একই বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, 'ফুসফুসের ক্যান্সার সম্পর্কে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি এখন বদলাতে শুরু করেছে। আগে মূলত ধূমপায়ীদের রোগ হিসেবে এটাকে দেখা হতো। এখন নন-স্মোকারদেরও ফুসফুসের ক্যান্সার দেখা যাচ্ছে।'
তাঁর মতে, যাঁরা জীবনে ১০০টিরও কম সিগারেট খেয়েছেন, তাঁদের নন-স্মোকার হিসেবে ধরা হয়। বিশ্বজুড়ে ফুসফুসের ক্যান্সারের প্রায় ১৫-২০ শতাংশ নন-স্মোকারদের মধ্যে দেখা যায়।
ভারতে ফুসফুসের ক্যান্সার একটি বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। গবেষণায় বায়ুদূষণের সঙ্গে এই রোগের যোগসূত্রের কথাও উঠে এসেছে।
কোন কোন লক্ষণে সাবধান?
এই সব লক্ষণ থাকলে ধূমপান না করলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।