মর্নিং ওয়াকে অ্যাজমা অ্যাটাকসুস্থ থাকতে চাইলে মর্নিং ওয়াক করতেই হবে। এর কোনও বিকল্প নেই বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও বর্তমানে সকালে হাঁটতে বেরলে স্বাস্থ্য ভাল হওয়ার বদলে বিগড়ে যেতে পারে। পিছু নিতে পারে অ্যাজমা অ্যাটাক। পাশাপাশি কাশি হতে পারে বলে জানালেন বিশিষ্ট মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ ডাঃ রুদ্রজিৎ পাল।
এখন প্রশ্ন হল, কেন সকালে হাঁটলে এমন সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা? তাঁর উত্তরটাও দিয়েছেন ডাক্তার রুদ্রজিৎ পাল।
কেন সমস্যা?
ডাঃ পাল বলেন, 'সকালের দিকে খুব ঠান্ডা রয়েছে। চলছে উত্তুরে হাওয়া। তাই এই সময় এমনিতেই অ্যাজমা রোগীদের অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া বর্তমানে সকালের ঠান্ডা আবহাওয়ায় ক্ষতিকর কণা PM 2.5 থেকে PM 10 মাটির কাছাকাছি চলে আসে। আর শ্বাস নিলে এই সব ক্ষতিকর কণা ফুসফুসে পৌঁছে যায়। যার ফলে বাড়তে পারে বিপদ। এই কারণে অ্যাজমা অ্যাটাক হতে পারে। পাশাপাশি কাশি হওয়ার রয়েছে আশঙ্কা।'
অ্যাজমা নিয়ে সাবধান
আসলে অ্যাজমা হল একটি অ্যালার্জিজনিত অসুখ। এই অসুখে আক্রান্ত রোগীর ফুসফুস অ্যালার্জেনের সম্পর্কে এলে বিপদ বাড়ে। তখন ফুসফুসের অন্দরে উপস্থিত ছোট ছোট শ্বাসনালী সরু হয়ে যায়। যার ফলে শুরু হয়ে যায় শ্বাসকষ্ট। আর এই সময় সকালে হাঁটলে অ্যাজমা অ্যাটাক হতে পারে বলে জানালেন ডাঃ পাল।
তবে যাঁদের অ্যাজমা নেই, তাঁদেরও সকালে হাঁটতে বারণ করছেন এই চিকিৎসক। তাঁর মতে, এই সময় সকালে হাঁটলে সুস্থ মানুষেরও কাশি হতে পারে। তাই সাবধান হয়ে মর্নিং ওয়াক করুন।
তাহলে কখন হাঁটবেন?
এই চিকিৎসক জানালেন, সুস্থ থাকতে চাইল হাঁটতে হবে। যদিও সকালে নয়, বিকেলের দিকে হাঁটুন। এমনকী সন্ধেতেও চলাফেরা করা যায়। তাতেই সুস্থ থাকতে পারবেন। সুগার, প্রেশার, কোলেস্টেরল কমবে। ওজন থাকবে নিয়ন্ত্রণে বলে মনে করছেন এই বিশিষ্ট চিকিৎসক।
কতক্ষণ হাঁটা জরুরি
সুস্থ থাকতে চাইলে ১০-১৫ মিনিট হাঁটলে চলবে না। বরং দিনে অন্তত ৩০ মিনিট চলতে হবে। তার বেশি সময় হাঁটা ভাল। তবে এর থেকে কম নয়। ব্যাস, এই নিয়মটা মেনে চললেই সুস্থ থাকার কাজে এগিয়ে যাবেন বলে মনে করছেন ডাঃ রুদ্রজিৎ পাল। তাই চিকিৎসকের এই পরামর্শ মেনে চলুন।
বিদ্র: এই প্রতিবেদটি সচেতনতার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।