কোলেস্টেরল কমানোর খাবারWinter Heart Cure Foods: শীত এলেই খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন জীবনে বড় পরিবর্তন আসে। ঠান্ডার কারণে জল খাওয়ার পরিমাণ কমে যায়, শরীরচর্চা কমে এবং ঘি-মাখন, ভাজাভুজির মতো ফ্যাটযুক্ত খাবারের পরিমাণ বেড়ে যায়। তার সরাসরি প্রভাব পড়ে শরীরের কোলেস্টেরল স্তরে। চিকিৎসকদের মতে, এই সময় এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল দ্রুত বাড়তে পারে, যা হার্ট অ্যাটাক, ব্লকেজ বা হার্ট ফেলিয়রের ঝুঁকি বাড়ায়।
তবে স্বস্তির খবর হল, সঠিক ডায়েট মেনে চললে শীতেও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট (M.Sc.) খ্যাতি প্যাটেলের মতে, শীতকালে পাওয়া কয়েকটি সাধারণ সবজি ও ফল নিয়মিত খেলে প্রাকৃতিক উপায়ে খারাপ কোলেস্টেরল কমানো যায় এবং হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখা যায়।
🌿 মেথি পাতা: শীতের সবচেয়ে শক্তিশালী সবজি
মেথি পাতা শীতকালের অন্যতম উপকারী শাক। এতে রয়েছে প্রচুর সলিউবল ফাইবার, যা অন্ত্রে গিয়ে এলডিএল কোলেস্টেরল শোষণ করে শরীর থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, মেথি পাতা ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রাও কমায়। শাক, তরকারি বা পরোটার আকারে নিয়মিত মেথি পাতা খেতে পারেন।
🧄 হরি লহসুন: রক্তনালির বন্ধু
সবুজ বা কাঁচা লহসুন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও সালফার যৌগে ভরপুর। এতে থাকা অ্যালিসিন রক্তনালিতে জমে থাকা অতিরিক্ত ফ্যাট কমাতে সাহায্য করে এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে। নিয়মিত হরি লহসুন খেলে খারাপ কোলেস্টেরল কমে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও অনেকটাই কমে। সবজি, ডাল বা চাটনিতে এটি সহজেই ব্যবহার করা যায়।
🍋 আমলকি: কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের সুপারফুড
আমলকি ফল হলেও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে এটি কার্যত এক সুপারফুড। এতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন C ও পলিফেনল, যা এলডিএল কোলেস্টেরলকে অক্সিডাইজ হওয়া থেকে আটকায়। পাশাপাশি এটি এইচডিএল বা ‘ভালো’ কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে। শীতে আমলকির রস, চূর্ণ বা মোরব্বা হার্টের জন্য বিশেষ উপকারী।
🫀 শুধু খাবার নয়, বদলান অভ্যাসও
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু এই তিনটি খাবার খেলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। নিয়মিত হাঁটা, পর্যাপ্ত জল পান, মানসিক চাপ কমানো এবং পর্যাপ্ত ঘুম—এই অভ্যাসগুলিও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। ডায়েট ও লাইফস্টাইল একসঙ্গে বদলালেই হৃদযন্ত্র থাকবে সুস্থ।