বিশ্ব ফুসফুসের ক্যান্সার দিবস১ অগাস্ট বিশ্ব ফুসফুস ক্যান্সার দিবস। এই দিনটা সারা পৃথিবীতেই লাং ক্যান্সারের নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে পালিত হয়। আর এ বছরও তার অন্যথা হবে না। কারণ, চিকিৎসকেরা মনে করেন ফুসফুসের ক্যান্সার নিয়ে এখনও সাধারণ মানুষের মনে নানা ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকেই রোগের প্রথমিক লক্ষণগুলি অবহেলা করেন। তাই বিপদ বাড়ে।
এমন পরিস্থিতিতে ফুসফুসের ক্যান্সার নিয়ে সতর্ক করলেন কলকাতার বিশিষ্ট পালমোনোলজিস্ট ডা: বিউটি বিশ্বাস। তিনি জানালেন, 'বাংলায় যত জন মানুষের মধ্যে ক্যান্সার ধরা পড়ে, তার ১৪ শতাংশই ফুসফুসের ক্যান্সার। এই রোগে আক্রান্তদের অধিকাংশই পুরুষ। মহিলাদের মধ্যে ৬ শতাংশের মতো এই ক্যান্সারে ভোগেন।'
কেন হয় লাং ক্যান্সার?
আজকাল লাং ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। অনেকেই এই রোগের ফাঁদে পড়ছেন। তাই এই রোগের কারণ জেনে রাখা খুবই জরুরি। ডা: বিশ্বাসের কথায়, 'ফুসফসের ক্যান্সারের অনেক কারণ রয়েছে। তবে অন্যতম বড় কারণ হল ধূমপান। এছাড়া পরিবেশ দূষণ ও পরিবারে এই রোগের ইতিহাসও বড় কারণ। আবার কাজের জায়গায় বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক সংস্পর্শে আসার কারণে এটা হতে পারে।'
ও দিকে মহিলারা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাঠকয়লা, ঘুঁটে পোড়ানোর সময় বেরিয়ে আসা ধোঁয়া থেকে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন বলে জানালেন তিনি।
কোন কোন লক্ষণে সাবধান?
অধিকাংশ মানুষই ফুসফুসের ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ অবহেলা করেন। যার ফলে রোগটা এগিয়ে যায়। তখন গিয়ে বিপদ বাড়ে বলে জানালেন ডা: বিশ্বাস। তাই তিনি কয়েকটি লক্ষণে সাবধান হতে বললেন। যেমন ধরুন-
১. ক্রমাগত কাশি হয়ে যাওয়া
২. দীর্ঘদিন ধরে কাশি হওয়া
৩. না চাইতেও ওজন কমে যাওয়া
৪. খিদে কমে যাওয়া
৫. কাশির সঙ্গে রক্ত বেরনো
৬. বুকের তলা বা বগলের তলায় কোনও জায়গায় ফুলে যাওয়া
তাই এই ধরনের কোনও লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হন। নিয়ে ফেলুন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ। তাহলেই সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।
ফুসফুসের ক্যান্সার মানেই মৃত্যু নয়
ডা: বিশ্বাস জানালেন, ক্যান্সার মানেই মৃত্যু নয়। তবে রোগটা দেরিতে ধরা পড়লে বিপদ বাড়তে পারে। কিন্তু স্টেজ ১ বা ২-এর সময় রোগ ধরা পড়লে খুব একটা চিন্তার কিছু নেই। এই সব স্টেজ থেকে রোগ একবারে সেরে যায়।
এই রোগের ভাল চিকিৎসা রয়েছে। সার্জারি, রেডিওথেরাপি, কোমে থেরাপি, ইমিউনো থেরাপিও টার্গেটেড থেরাপির মতো উন্নত মানের চিকিৎসার মাধ্যমে একবারে সুস্থ হয়ে ওঠা যায় বা বলা যায় রোগটাকে কোন্ট্রোলে রাখা যায়। তাই অহেতুক চিন্তা করতে বারণ করলেন ডা: বিশ্বাস। তার বদলে সচেতন থাকার পরামর্শ দিলেন।
বিদ্র: এটা একটি সাধারণ প্রতিবেদন। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনও চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।