
নারকেল তেল (Coconut Oll) নানা ক্ষেত্রে খুব উপকারি। তবে সমস্যার কথা হল, নারকেল তেলের সঙ্গে অনেক ভেজাল মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যা ব্যবহার করলে বড় সমস্যায় পড়তে হতে পারে।

আজও বহু ময়েশ্চারাইজার ও হেয়ার অয়েলে নারকেল তেল ব্যবহার হয়। এই তেলের মধ্যে অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান রয়েছে। তাই নারকেল তেল মাখলে বা খেলে স্বাস্থ্যেরই লাভ। কিন্তু তেলে যদি ভেজানো মেশানো থাকে, তখন কী করবেন?

নারকেল তেল ভেজাল মেশানো থাকলে তা খালি চোখে বোঝা যাবে না। তবে সেটা ল্যাবে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করারও দরকার নেই। ঘরেই কিছু কৌশল কাজে লাগিয়ে নারকেল তেলের বিশুদ্ধতা যাচাই করে নিতে পারেন।

নারকেল তেলের একটি মিষ্টি ও সতেজ সুবাস রয়েছে। হাতের তালুতে সামান্য নারকেল তেল নিয়ে ঘষুন। যদি উগ্র গন্ধ ছাড়ে বা তেলচিটে বা পোড়া গন্ধ বেরোয়, বুঝবেন এতে ভেজাল রয়েছে। খাঁটি তেল জিভে দিয়েও টেস্ট করতে পারেন।

একটি গ্লাসে জল নিন এবং তাতে ২ টেবিল চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে দিন। গ্লাসটা এক জায়গায় ২০-৩০ মিনিট রেখে দিন। যদি দেখেন জলের সঙ্গে তেল মিশে যাচ্ছে, বুঝবেন এতে ভেজাল রয়েছে। আর যদি তেল জমাট বেঁধে যায় বা আলাদা থাকে, তা হলে বুঝবেন নারকেল তেলটি খাঁটি।

একটি প্যানে দু’চামচ নারকেল তেল নিন। মাঝারি আঁচে রেখে সেটি গরম করুন। যদি দেখেন ফেনা বা বুদবুদ উঠছে এবং পোড়া গন্ধ বেরোচ্ছে, বুঝবেন এতে ভেজাল মেশানো রয়েছে। তেল খাঁটি হলে এসব কিছুই হবে না।

কম তাপমাত্রায় নারকেল তেল জমে যায়। তাই একটি পাত্রে কিছুটা নারকেল তেল নিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন। এক ঘণ্টা পর বের করে দেখুন, নারকেল তেল জমেছে কি না। তেল যদি জমে গিয়ে সাদা হয়ে যায়, বুঝবেন নারকেল তেল খাঁটি। কিন্তু তেল যদি না জমে এবং তেলের উপর যদি আলাদা স্তর সৃষ্টি হয়, তা হলে বুঝবেন এতে ভেজাল মেশানো আছে।

খাঁটি নারকেল তেল দেখতে প্রায় স্বচ্ছ বা বর্ণহীন হয়। আর ভেজাল মেশানো নারকেল তেল কিছুটা হলদেটে হয়। এ ছাড়া কাচের গ্লাস বা জারে কিছুটা নারকেল তেল নিয়ে আলোর সামনে রাখুন। ১০ মিনিট রাখবেন। তারপরে যদি তেল একদম স্বচ্ছ দেখায়, তবে বুঝবেন সেটি খাঁটি। ঘোলাটে ভাব থাকলে জানবেন সেটা ভেজাল।