সম্পর্কের টিপসস্বামীর কাছে নিজেদের ইচ্ছার কথা বলে থাকেন স্ত্রীরা। কিন্তু এমন ঘটনা খুব কমই ঘটে, যখন স্বামী নিজের কিছু চাওয়া-পাওয়ার কথা স্ত্রীকে খোলাখুলি বলেন। আসলে এই সমাজে পুরুষদের আবেগহীন ভাবা হয়। কিন্তু দাম্পত্য সুন্দর হবে যখন পরস্পরের মধ্যে বোঝাপড়া অটুট থাকে। বেশিরভাগ পুরুষই পাঁচটি বিষয় প্রত্যাশা করেন স্ত্রীর কাছ থেকে। সমস্যা হল, তাঁরা অনেক সময় সেগুলি মুখে বলেন না, মনের মধ্যেই রেখে দেন। তাই সুখী দাম্পত্য জীবন কাটাতে চাইলে জেনে নিন, স্বামীর মনের সেই পাঁচটি কথা।
স্ত্রীর কাছ থেকে প্রশংসা: স্ত্রীরা যখন সেজেগুজে তৈরি হন, তখন স্বামীর কাছ থেকে প্রশংসা বা সুন্দর মন্তব্য আশা করেন। ঠিক তেমনই স্বামীরাও চান, স্ত্রী তাঁদের প্রশংসা করুন, তাঁদের ভাল লাগার কথা জানান। পুরুষরা অনেক সময় এমন ভাব দেখান যে প্রশংসা তাঁদের কাছে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু সত্যি হল, মনের মধ্যে তাঁরাও স্ত্রীর প্রশংসায় খুশি হন। দিনের পর দিন নানা প্রত্যাশা ও দায়িত্বের চাপের মধ্যে থাকা একজন পুরুষ যখন নিজের কাজের জন্য স্ত্রীর কাছ থেকে প্রশংসা পান, তখন তাঁর ভাল লাগে। তাই স্বামী কোনও ভাল কাজ করলে তাঁর প্রশংসা করুন। যেমন, তাঁকে দেখতে ভাল লাগছে, কোনও কাজ খুব ভাল করেছেন বা বাবা হিসাবে কোনও ভাল দায়িত্ব পালন করেছেন, এই ছোট ছোট বিষয়গুলির জন্যও প্রশংসা করুন।
অবহেলা করবেন না: অনেক স্ত্রী অভিযোগ করেন, তাঁরা বাড়ির জন্য যে কাজগুলি করেন, তার কোনও প্রশংসা বা স্বীকৃতি মেলে না। একই বিষয়টি স্বামীর ক্ষেত্রেও মনে রাখুন। আপনার স্বামী যদি আপনার না বলা সত্ত্বেও বাড়ির কোনও কাজ করে দেন, বাসন ধুয়ে দেন, কল ঠিক করে দেন বা ঘর পরিষ্কার করেন, তা হলে তাঁর এই ছোট্ট সাহায্যটুকুরও প্রশংসা করুন। 'আমি তো রোজই করি, এক দিন করে এমন কী উপকার করল!', এই ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসুন।
অন্যদের সামনে প্রশংসা: স্বামীর প্রশংসা অন্যদের সামনে করুন। পুরুষরা এটা পছন্দ করেন। বন্ধু, পরিবার এমনকি পরিচিত নয় এমন কারও সামনেও স্বামীর কোনও ভাল দিক নিয়ে গর্বের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। নিজের সম্পর্কে স্ত্রীকে এভাবে বলতে শুনতে পুরুষদের অনেকেই পছন্দ করেন। এতে তাঁর আত্মবিশ্বাসও বাড়ে।
পুরনো ভুল মনে করা নয়: পুরনো খারাপ ঘটনাগুলি ভুলে সামনে এগিয়ে চলার নামই জীবন। স্বামী অতীতে আপনার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে থাকলে বা কোনও ভুল করে থাকলে, সেই বিষয়টি বার বার মনে করিয়ে তাঁকে কষ্ট দেবেন না। সম্ভব হলে সেই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে চলুন। ধরুন, প্রথম বিবাহবার্ষিকী বা গত বছরের জন্মদিন স্বামী ভুলে গিয়েছিলেন। তাই বলে প্রতি বছর সেই একই ভুলের জন্য তাঁকে কথা শোনানোর প্রয়োজন নেই। বরং আপনাকে খুশি করার জন্য তিনি পরে যে চেষ্টা করেছেন, সেটিকে গুরুত্ব দিন।
ফ্লার্ট করা বন্ধ করবেন না: সম্পর্কের শুরুর দিকে যেভাবে স্বামীর সঙ্গে মজা করে ফ্লার্ট করতেন, বিয়ের পরেও সেই অভ্যাস পুরোপুরি ছেড়ে দেবেন না। বিশ্বাস করুন, আপনার স্বামী এখনও সেই পুরনো দিন উপভোগ করতে চান। তাই মাঝেমধ্যে মজার বা ভালবাসায় ভরা বার্তা পাঠান, একটু খুনসুটি করুন। এতে সম্পর্কের উষ্ণতা অটুট থাকে।