এসি ছাড়াও ঘর ঠান্ডা থাকবেগরমকাল আসার সঙ্গে সঙ্গে এসি ছাড়া ঘরে থাকাও সমস্যার হয়ে যায়। আবার সারাক্ষণ এসি চালালে বিলও অনেকটা বেশি আসে। সেটা দেওয়াও সকলের সাধ্যের মধ্যে থাকে না। কিন্তু আজ আমরা আপনাদের দারুণ কিছু ট্রিক বলব যা মেনে চললে তীব্র গরমেও আপনাকে এসি চালাতে হবে না। এমনকি কিনতেও হবে। এতে যেমন আপনার খরচ অনেকটা কমে যাবে, তেমনই পরিবেশও ভাল থাকবে।
১. খড়ের পর্দা লাগান এবং তাতে ঘন ঘন জল দিন।
এই বহু পুরোনো পদ্ধতিটি এখনও খুব কার্যকর বলে প্রমাণিত। জানালা বা দরজায় খড়ের পর্দা লাগান। এগুলি বাজারে তৈরিই পাওয়া যায়। এগুলি জানালা ও দরজায় লাগিয়ে নির্দিষ্ট সময় পর পর জল ঢালুন। এই ভেজা পর্দার মধ্যে দিয়ে বাতাস চলাচল করার ফলে ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা হয়ে যায়। এই পদ্ধতিটি একটি কুলা রের মতো কাজ করে।
২. খুব সকালে জানালাগুলো খুলে দিন এবং বিকেলে সেগুলো পুরোপুরি বন্ধ রাখুন
সকালে বাতাস ঠান্ডা থাকে, অন্যদিকে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে হাওয়া খুব গরম থাকে। তাই, ঘরে তাজা, ঠান্ডা বাতাস ঢোকানোর জন্য সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত সব জানালা খোলা রাখুন। যদি আপনার খড়ের পর্দা না থাকে, তবে সকাল ১০টার পর জানালা ও দরজা বন্ধ করে দিন এবং গরম বাতাস প্রবেশ আটকাতে মোটা পর্ব লাগিয়ে নিন।
৩. মোটা, সাদা বা হালকা রঙের সুতির পর্দা ব্যবহার করুন।
গাঢ় রঙের পর্দা তাপ শোষণ করে, ফলে ঘর দ্রুত গরম হয়ে ওঠে। সাদা, ক্রিম বা আকাশী নীলের মতো হালকা রঙ সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে এবং ঘর ঠান্ডা রাখতে সাম্বয্য করে। গরম বাতাস ঘরে ঢোকা আটকাতে মোটা, হালকা রঙের পর্দ ব্যবহার করুন।
৪. সন্ধ্যায় ছাদে জল ঢালুন।
আপনার বাড়ির ছাদ যদি সিমেন্ট বা কংক্রিটের হয়, তবে সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে ছাদে ৩ থেকে ৪ বালতি জল ঢালুন। এতে ছাদ থেকে তাপ দূর হয় এবং ঘর সম্পূর্ণ ঠান্ডা থাকে। রাতে ফ্যানও ঠান্ডা হাওয়া সরবরাহ করে, যা ভালো ঘুম হয়। এই পদ্ধতিটি এসি ছাড়াই ঘরকে অনেকাংশে ঠান্ডা রাখে।
৫. ঘরে জলভর্তি মাটির পাত্র রাখুন।
ঘরে জলভর্তি একটি বড় মাটির পাত্র রাখলে তা স্বাভাবিকভাবেইঘরকে ঠান্ডা রাখে। মাটি নিজে থেকেই জলকে ঠান্ডা রাখে, যার ফলে ঘর ধীরে ধীরে ঠান্ডা হতে শুরু করে। এই পদ্ধতিটি কোনো বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেই ঘরকে স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা রাখা যায়। এছড়াও, যখন আপনি ফ্যান চালান, তখন পুরো ঘরটি ঠান্ডা হয়ে যাবে।