প্রেগন্যান্ট মহিলাদের যোগাগর্ভাবস্থা প্রতিটা মহিলাদের কাছে খুবই সুখের সময়। এই সময় অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের খুবই সাবধানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। এই সময়ে মা ও শিশু উভয়ের স্বাস্থ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সময়ে অনেকেই প্রেগন্যান্সিতে যোগাসন করে থাকেন মহিলারা। সঠিক যোগাসন অনুশীলন করলে শরীরের নমনীয়তা বজায় থাকে, মানসিক চাপ কমে, ব্যথা উপশম হয় এবং প্রসব সহজ হয়। তবে, যে কোনো আসন শুরু করার আগে একজন ডাক্তার বা প্রশিক্ষিত যোগ শিক্ষকের সঙ্গে পরামর্শ করতে ভুলবেন না। আসুন জেনে নিন কোন কোন যোগাসন করতে পারবেন প্রেগন্যান্ট মহিলারা।
তদাসন
এটি সবচেয়ে সহজ এবং নিরাপদ ভঙ্গি। সোজা হয়ে দাঁড়ান এবং উভয় হাত মাথার উপরে তুলুন, হাতের তালু একে অপরের দিকে মুখ করে থাকবে। আপনার গোড়ালি উপরে তুলুন এবং শরীর প্রসারিত করুন। এটি আপনার মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী করে, ভারসাম্য উন্নত করে এবং আপনার শিশুকে সঠিকভাবে অবস্থান করতে সাহায্য করে।
মার্জারিয়াসন
হাঁটু ও হাতের উপর ভর দিয়ে বসুন। শ্বাস নিন এবং পিঠ নিচের দিকে বাঁকান (গরুর ভঙ্গি) এবং শ্বাস ছাড়ুন ও পিঠ গোল করুন (বিড়ালের ভঙ্গি)। এটি পিঠ ও কোমরের ব্যথা কমাতে, মেরুদণ্ডকে নমনীয় রাখতে এবং আপনার শিশুর অবস্থান বজায় রাখতে সাহায্য করে।
বাদ্ধ কোনাসন
মেঝেতে বসুন, পা দুটি একসাথে আনুন এবং হাঁটু দুটি বাইরের দিকে ছড়িয়ে দিন। আপনার হাত দিয়ে পা দুটি ধরে ধীরে ধীরে হাঁটু উপরে-নিচে নাড়াচাড়া করুন। এই ভঙ্গিটি কোমরকে প্রসারিত করে, যা স্বাভাবিক প্রসবের সম্ভাবনা বাড়ায় এবং পায়ের ফোলাভাব কমায়।
ভিপারিতা
দেওয়ালের কাছে শুয়ে দুই পা দেওয়ালের উপর রাখুন। এটি একটি খুব আরামদায়ক ভঙ্গি। এটি পায়ের ফোলাভাব কমায়, রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং ঘুম আনতে সাহায্য করে। গর্ভাবস্থার তৃতীয় ত্রৈমাসিকে এটি খুবই উপকারী।
চাইল্ড পোজ
গর্ভাবস্থায় পুরোপুরি সামনের দিকে ঝুঁকে পড়া উচিত নয়। তাই, দুই হাত সামনের দিকে বাড়িয়ে এবং কপাল মেঝেতে রেখে হাঁটু গেড়ে বসুন, কিন্তু পেট যেন ঝুলে না যায়। এতে মন শান্ত হয়, পিঠের ব্যথা কমে এবং শ্বাস-প্রশ্বাস বাড়ে।
এই ৫টি যোগাসন গর্ভবতী মহিলাদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ! এগুলো মা ও শিশু উভয়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।