এসির তাপমাত্রা কত হওয়া উচিত?সারা দেশ এখন পুড়ছে গরমের আঁচে। আর এই সময় রোদ থেকে বাড়িতে আসার পর অধিকাংশ মানুষই এসির তাপমাত্রা ১৬ বা ১৭ ডিগ্রিতে সেট করে দেয়, যাতে ঘর খুব তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হয়ে যায়। এতে গরম থেকে নিমেষে স্বস্তি মিললেও, বাস্তবে এই বিষয়টি স্বাস্থ্যের জন্য একেবারে ভাল নয়। আসলে, এই এত কম তাপমাত্রায় এসি চালালে তা শুধু আপনার বিদ্যুৎ বিল বাড়ায় তাই নয়, বরং আপনাকে অসুস্থ করে হাসপাতালে পৌঁছে দেয়। যার ফলে হাসপাতালের বিল মেটাতে গিয়ে আপনি ফতুর হয়ে যান। আসুন জেনে নিই যে এই অভ্যাস আমাদের শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর।
কী কী ক্ষতি হয়?
-যখন আপনি বাইরের ৪০ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তীব্র গরম থেকে সরাসরি ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের খুব ঠান্ডা একটি ঘরে বসেন, তখন আপনার শরীর একটি তীব্র থার্মাল শক খায়। হঠাৎ করে এই বড় তাপমাত্রা পরিবর্তন আমাদের শরীর সহ্য করতে পারে না। এর ফলে রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয়ে যায়, যা রক্ত সঞ্চালনকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে শুরু করে। এই কারণে এই ধরনের পরিবেশে বসবাসকারী মানুষেরা প্রায়ই সর্দি, কাশি এবং গলা ব্যথার মতো সমস্যায় ভোগেন।
-অত্যাধিক ঠান্ডা তাপমাত্রায় ক্রমাগত বসে থাকা বা ঘুমনো শরীরের পেশী ও স্নায়ুর ওপর প্রভাব ফেলে। ১৬-১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার ঠান্ডা বাতাসের সংস্পর্শে এলে গাঁটের ব্যথা এবং পেশীপ আড়ষ্টতা বাড়তে পারে। যারা আগে থেকেই আর্থ্রাইটিস বা সাইনাসের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য এটি বিশেষভাবে যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। এছাড়াও, ঠান্ডা বাতাসের কারণে মাথাব্যথাও হতে পারে, যা ধীরে ধীরে মাইগ্রেনে পরিণত হতে পারে।
-কম তাপমাত্রায় চলা একটি এসি ঘরের বাতাস থেকে সমস্ত আর্দ্রতা শুষে নেয়। এই শুষ্কতা আপনার ত্বক এবং চোখের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। ক্রমাগত ঠান্ডা, শুষ্ক বাতাসের সংস্পর্শে থাকলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে এবং চুলকানি হতে পারে। এছাড়াও, চোখের আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় চোখ শুষ্ক হয়ে যেতে পারে, যার ফলে জ্বালাভাব এবং লালচে ভাব দেখা দিতে পারে।
এসি চালানোর সঠিক পদ্ধতি
ডক্টর ও ব্যুরো অফ এনার্জি এফিসিয়েন্সি (BEE)-এর মতে, ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা মানবদেহের জন্য সর্বোত্তম ও স্বাস্থ্যকর। এই তাপমাত্রায় এসি চালালে শরীরে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়ে না এবং ঘরে সর্বোত্তম শীতলতা বজায় থাকে। এছাড়াও, ২৪ ডিগ্রিতে এসি চালালে বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, ফলে আপনার বিদ্যুৎ বিল নিয়ন্ত্রণে থাকে।