চুল স্ট্রেইট করার ঘরোয়া উপায়পুজো আসতে এখনও দেরি থাকলেও অনেকেই পার্লারের ভিড় এড়াতে আগেভাগেই গিয়ে যাবতীয় কাজ সেরে নিতে পছন্দ করেন। হালফিলের ফ্যাশনে চুল স্ট্রেট করা এখন সব মেয়েদেরই অতি আবশ্যক হয়ে গিয়েছে। অনেকেই বহু টাকা খরচ করে থাকেন চুল স্ট্রেট করার জন্য।স্ট্রেট চুল সাম্প্রতিককালে নয়, শুরু থেকেই ফ্যাশনের ট্রেন্ডিং-এ রয়েছে। কিন্তু পার্লারে গিয়ে এই স্ট্রেটনিং করাতে হাজার হাজার টাকা নষ্ট হয়। তবে ঘরে বসেই কিন্তু পেতে পারেন আপনি মনের মতো চুল। তার ওপর কেমিক্যাল কিছুক্ষণের জন্য খুব চমক দিলেও কয়েকদিন বাদেই চুলের খারাপ অবস্থা হয়ে যায়। চুল পড়া থেকে শুরু করে অন্যান্য নানা ধরনের উপসর্গ দেখা যায়। তাই ভরসা রাখুন ঘরোয়া উপায়েই। সহজ এবং স্বাভাবিক উপায়ে বাড়িতে বসেই আপনি পেতে পারবেন স্ট্রেট চুল।
চুল বেঁধে ঘুমোন
রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে চুল ভাল করে আঁচড়ে নিন, যেন কোনও জট না থাকে। এ বার একটি স্প্রে বোতলে জল ভরে নিয়ে স্প্রের সাহায্যে ৮০ শতাংশ চুল ভিজিয়ে নিন। এ বার পুরো চুল কাঁধের এক দিকে নিয়ে রবার ব্যান্ডের সাহায্য শক্ত করে বেঁধে নিন। এ বার খানিকটা চুল ছেড়ে আবার রবার ব্যান্ড দিয়ে বাঁধুন। এ ভাবেই গোটা চুলটা বেনির মতো করে বেঁধে শুয়ে পড়ুন। সকালে উঠে চুলের বাঁধন খুলে নিলেই পেয়ে যাবেন সাঁলোর মতো সোজা চুল।
অ্যালোভেরা জেল
স্ট্রেট চুল পেতে অ্যালোভেরা পাতা কেটে শাঁস বার করে গোটা চুলে মাস্ক হিসাবে লাগান। ঘণ্টা দুয়েক রেখে শ্যাম্পুর সঙ্গে অ্যালো ভেরার শাঁস মিশিয়ে ভাল করে চুল ধুয়ে নিন। এই পদ্ধতিতেও কম খরচে বাড়িতেই আপনি চুল সোজা করে নিতে পারেন।
আলু দিয়ে চুল করুন স্ট্রেট
একটা বড় মাপের আলু ঘষে নিন। এ বার এক কাপ জলে সেই আলু ভাল করে সেদ্ধ করে নিন। আলু সেদ্ধ হয়ে ঠান্ডা করে মিক্সিতে ঘুরিয়ে নিন। এ বার আলু থেকে রস বার করে নিন। সেই রস আবার খানিক ক্ষণ ফুটিয়ে তার সঙ্গে জলে গুলে রাখা কর্নফ্লাওয়ার মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি ঘন হয়ে এলে গ্যাস থেকে নামিয়ে ঠান্ড করে নিন। ঠান্ডা মিশ্রণের সঙ্গে এক চামচ নারকেল তেল আর এক চামচ বাদাম তেল মিশিয়ে নিন। স্নানের আগে মিশ্রণটি মাথায় লাগিয়ে রাখুন। ঘণ্টা দুয়েক পরে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আলুর বদলে এ ক্ষেত্রে ঢেঁড়শও ব্যবহার করতে পারেন।
মেয়োনিজ ও কলার হেয়ার মাস্ক
এই মাস্ক তৈরি করতে প্রথমে ২টি কলা ব্লেন্ড করে নিন। এরপর কলার সঙ্গে ২ টেবিল চামচ মেয়োনিজ ও ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। তারপর ধীরে ধীরে চুল ভাগ করে চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ব্যবহার করুন মেয়োনিজ ও কলার মাস্কটি। ৪৫ মিনিট পর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্ক নিস্তেজ ও ক্ষতিগ্রস্ত চুলকে দ্রুত ঝলমলে ও কোমল করে।