Avocado vs Guava: অ্যাভোকাডো নাকি দেশি পেয়ারা? কোনটি বেশি উপকারী

স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় আজকাল দুটি ফলের নাম বারবার উঠে আসছে, পেয়ারা ও অ্যাভোকাডো। দু’টিই পুষ্টিগুণে ভরপুর, তবে উপকারিতার ধরন আলাদা। একদিকে সহজলভ্য ও কমদামি পেয়ারা, অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিং ও তুলনামূলক দামি অ্যাভোকাডো। ফলে অনেকের মনেই প্রশ্ন, ওজন কমানো ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আসলে কোনটি বেশি ভালো?

Advertisement
অ্যাভোকাডো নাকি দেশি পেয়ারা? কোনটি বেশি উপকারী
হাইলাইটস
  • স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় আজকাল দুটি ফলের নাম বারবার উঠে আসছে, পেয়ারা ও অ্যাভোকাডো।
  • দু’টিই পুষ্টিগুণে ভরপুর, তবে উপকারিতার ধরন আলাদা।

স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় আজকাল দুটি ফলের নাম বারবার উঠে আসছে, পেয়ারা ও অ্যাভোকাডো। দু’টিই পুষ্টিগুণে ভরপুর, তবে উপকারিতার ধরন আলাদা। একদিকে সহজলভ্য ও কমদামি পেয়ারা, অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিং ও তুলনামূলক দামি অ্যাভোকাডো। ফলে অনেকের মনেই প্রশ্ন, ওজন কমানো ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আসলে কোনটি বেশি ভালো?

পুষ্টিগুণে কার জোর বেশি?
১০০ গ্রাম পেয়ারায় থাকে প্রায় ৬৮ ক্যালোরি। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে, যা দৈনিক প্রয়োজনের থেকেও বেশি। পাশাপাশি পেয়ারায় আছে ফাইবার, ভিটামিন এ, ফোলেট, পটাসিয়াম এবং লাইকোপিনের মতো শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিশেষ করে গোলাপি পেয়ারায়। পেয়ারা হজমশক্তি বাড়ায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মজবুত করে এবং শরীরকে ক্ষতিকর ফ্রি র‍্যাডিকেল থেকে রক্ষা করে।

অন্যদিকে, ১০০ গ্রাম অ্যাভোকাডোতে প্রায় ১৬০ ক্যালোরি থাকে। এতে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। অ্যাভোকাডো পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন কে, ই এবং বি-কমপ্লেক্সে সমৃদ্ধ। পাশাপাশি এটি স্বাস্থ্যকর চর্বি ও ফাইবারেরও একটি উৎকৃষ্ট উৎস।

ওজন কমাতে কোন ফলটি বেশি কার্যকর?
ওজন কমানোর লক্ষ্য থাকলে পেয়ারা নিঃসন্দেহে ভালো পছন্দ। কম ক্যালোরি ও বেশি ফাইবার থাকার কারণে এটি পেট ভরিয়ে রাখে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়। এর প্রাকৃতিক শর্করা ধীরে রক্তে মিশে যায়, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে না। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও পেয়ারা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।

অ্যাভোকাডো অত্যন্ত পুষ্টিকর হলেও এতে ক্যালোরি বেশি। তাই ওজন কমানোর সময় পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও উজ্জ্বল ত্বকের জন্য কী খাবেন?
পেয়ারায় থাকা বিপুল পরিমাণ ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এটি কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে, ত্বককে টানটান রাখে এবং বার্ধক্যের ছাপ দেরিতে পড়তে দেয়।

অন্যদিকে, অ্যাভোকাডোর ভিটামিন ই ত্বককে ফ্রি র‍্যাডিকেলের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। এর স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ত্বককে ভেতর থেকে পুষ্টি জোগায়, শুষ্কতা কমায় এবং ত্বককে করে তোলে নরম ও উজ্জ্বল।

Advertisement

তাহলে প্রতিদিন কোনটি খাবেন?
আসলে পেয়ারা ও অ্যাভোকাডো, দুটিরই নিজস্ব উপকারিতা রয়েছে। যদি আপনার লক্ষ্য হয় ওজন কমানো, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি বা হজমশক্তি উন্নত করা, তাহলে পেয়ারা হতে পারে আদর্শ পছন্দ। আর যদি হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখা, ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি গ্রহণ আপনার লক্ষ্য হয়, তাহলে খাদ্যতালিকায় অ্যাভোকাডো রাখতেই পারেন।

সবচেয়ে ভালো হয়, দুটিকেই পরিমিতভাবে খাদ্যতালিকায় রাখা। সকালে বা দুপুরে পেয়ারা খেতে পারেন, আর দুপুরের খাবারের সঙ্গে বা বিকেলের জলখাবারে অ্যাভোকাডো অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।

এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের জন্য। আপনার খাদ্যতালিকায় কোনও পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।

 

POST A COMMENT
Advertisement