পুঁটি মাছের ঝালবাঙালি মধ্যবিত্তদের হেঁশেলে রুই-কাতলা মাছের আনাগোনা বেশি হয়ে থাকে। কিন্তু গ্রাম বাংলার অনেক বাড়িতে এখনও ছোট মাছ খাওয়ার চল প্রচুর রয়েছে। এই ছোট মাছ দামেও সস্তা আর এতে প্রচুর পরিমাণে একাধিক গুণ থাকে। সেরকমই একটি মাছ হল পুঁটি মাছ। এই মাছ রোগ প্রতিরোধশক্তি বাড়াতে সিদ্ধহস্ত। ক্যালসিয়াম যুক্ত হওয়ায় হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে। বর্তমান যুগে পুঁটি মাছ খেতে অনেকেই ভুলে গেছেন। বাজারেও তাই সেভাবে পাওয়া যায় না। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সব সময় এই সব মাছ খাওয়ার কথা বলেন। কথাতেই বলে মাছে-ভাতে বাঙালি। তাই রোগপ্রতিরোধ বাড়ানোর মূলমন্ত্র লুকিয়ে থাকে সেই মাছের মধ্যেই। মাছের নানা রকমের রেসিপি তো খেয়েছেন। তবে এই রেসিপিটা খুবই বিশেষ। গ্রাম বাংলার এই পুঁটি মাছের রেসিপিটি জেনে নিন ঝটপট।
উপকরণ
পুঁটি মাছ, কাঁচা লঙ্কা, সর্ষের তেল, ঝিঙে টুকরো করে কাটা, বেগুন টুকরো করে কাটা, নুন, হলুদ গুঁড়ো ও রাঁধুনি।
পদ্ধতি
প্রথমে মাছগুলোকে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিয়ে নুন-হলুদ দিয়ে মাখিয়ে নিন। এর পর অল্প তেলে সাঁতলে নিয়ে মাছগুলো তুলে রেখে দিন। কড়া ভাজা একেবারেই হবে না।
অন্য একটা বাটিতে ঝিঙে ও বেগুনের টুকরো অল্প হলুদ গুঁড়ো-নুন-চিনি মাখিয়ে রেখে দিন। যে কড়াইতে মাছ সাঁতলে রেখেছিলেন তাতে কিছুটা তেল দিয়ে সামান্য রাঁধুনি ফোড়ন দিন।
এবার ওই তেলে দিন ঝিঙের টুকরোগুলো। ভালো করে নেড়েচেড়ে নিন। দেখবেন সবজি থেকে জল ছাড়তে শুরু করেছে।
এর পর দিন চেরা কাঁচা লঙ্কাগুলো। খানিক্ষণ ভেজে নেওয়ার পর যোগ করুন বেগুনের টুকরোগুলো।
এর পর ঢাকা দিয়ে রাখতে হবে। সবজি সেদ্ধ হয়ে জলটা শুকিয়ে গেলে সাঁতলানো মাছগুলো দিয়ে দিন।
ঢাকা খুলে কাঁচা সর্ষের তেল দিয়ে দিন। ব্যাস তৈরি পুঁটির তেলঝাল। গরম ভাতের সঙ্গে খেতে কিন্তু জব্বর।
উপকারিতা
এই মাছ নিয়ম করে বাচ্চাদেরও খাওয়ান। এতে তাদের রুচি ফিরবে আর শরীর থাকবে সুস্থ। বড় কাটা মাছের চাইতে সব সময় ভাল ছোট মাছ। চেষ্টা করুন সপ্তাহে অন্তত দু'দিন এই মাছ খেতে।