বিড়াল বাঙালির অন্দরসজ্জায় ইনডোর প্ল্যান্ট হিসেবে মানিপ্ল্যান্টের জনপ্রিয়তা একেবারে তুঙ্গে। এর বিশেষ কোনও যত্ন-আত্তির প্রয়োজন হয় না, অল্প আলোতেও ঘরের কোণে দিব্যি বেড়ে ওঠে। কিন্তু আপনার বাড়িতে যদি আদরের পোষ্য বিড়াল থাকে, তবে এই গাছটি রাখার আগে সতর্ক হওয়া ভীষণ জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানি প্ল্যান্টের পাতা এবং কাণ্ডে ‘ক্যালসিয়াম অক্সালেট ক্রিস্টাল’ থাকে। বিড়াল যদি খেলার ছলে এর পাতা চিবিয়ে ফেলে বা গিলে নেয়, তবে তার মুখ, জিভ ও গলায় মারাত্মক জ্বালা হতে পারে।
মানিপ্ল্যান্ট খেলে বিড়ালের শরীরে কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে?
মুখ এবং জিভে তীব্র জ্বালা।
মুখ থেকে অতিরিক্ত লালা ঝরা।
বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
খাবার বা জল গিলতে কষ্ট হওয়া।
অস্বস্তিতে বার বার থাবা দিয়ে মুখ ঘষা।
খাওয়াদাওয়ায় অনীহা বা খাবার খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া।
সাধারণত এই পরিস্থিতি প্রাণঘাতী হয় না ঠিকই, তবে পোষ্যের জন্য তা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ও কষ্টকর হতে পারে। লক্ষণগুলি যদি গুরুতর আকার ধারণ করে বা শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, তবে অযথা দেরি না করে অবিলম্বে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
পোষ্যকে গাছের থেকে দূরে রাখবেন কীভাবে?
মানি প্ল্যান্ট সব সময় এমন কোনও উঁচু জায়গায় রাখুন, যেখানে বিড়ালের নাগাল পৌঁছবে না।
এই ধরনের গাছের ক্ষেত্রে ঝুলন্ত টব বা ‘হ্যাঙ্গিং পট’ ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ।
বিড়ালের পাতা চিবোনোর স্বভাব থাকলে তাদের জন্য ‘ক্যাট গ্রাস’-র মতো সম্পূর্ণ নিরাপদ গাছ লাগাতে পারেন।
পোষ্যকে ব্যস্ত রাখতে বাড়িতে পর্যাপ্ত খেলনা ছড়িয়ে রাখুন। তারা খেলাধুলায় মেতে থাকলে গাছের পাতার দিকে নজর যাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে।
আপনার বাড়িতে যদি ছোট বিড়াল ছানা থাকে বা আপনার পোষ্যটির যদি হাতের কাছের সব কিছুতেই কামড় বসানোর স্বভাব থাকে, তবে মানি প্ল্যান্ট ঘরে আনার আগে দু'বার ভাবুন। গাছ দেখতে যতই সুন্দর হোক না কেন, আদরের পোষ্যের সুরক্ষার সঙ্গে আপস করা কিন্তু মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়।