এই পানীয় অজান্তেই বাড়িয়ে দিচ্ছে টাক পড়ার ঝুঁকি! আপনিও খান নাকি?ভারতে পুরুষদের মধ্যে টাক পড়ার সমস্যা দ্রুত বাড়ছে। আগে সাধারণত বেশি বয়সীদের মধ্যেই চুল পড়া বা টাকের সমস্যা দেখা যেত। কিন্তু এখন অল্পবয়সী তরুণ এমনকি কিশোরদের মধ্যেও এই সমস্যা বাড়ছে। চুল পড়া রোধ করতে অনেকেই নানা ধরনের শ্যাম্পু, কন্ডিশনার বা তেলের ব্যবহার করেন। তবুও অনেক ক্ষেত্রে সমস্যা কমে না। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই বাড়তে থাকা টাকের পেছনে একটি চমকপ্রদ কারণ সামনে এসেছে, অন্ত্রের স্বাস্থ্য বা হজমের সমস্যা।
চুল পড়ার সঙ্গে পেটের সম্পর্ক
একটি স্বাস্থ্য-প্রযুক্তি সংস্থার সমীক্ষায় ৫ লক্ষেরও বেশি ভারতীয় পুরুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, প্রায় ৩৭ শতাংশ পুরুষের চুল পড়ার সমস্যার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে দুর্বল হজমশক্তির। সাধারণত আমরা চুল পড়ার জন্য জেনেটিক্স, দূষণ বা খারাপ মানের শ্যাম্পুকে দায়ী করি। কিন্তু গবেষণায় বলা হয়েছে, শরীরের পুষ্টি শোষণের সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
যেসব মানুষ নিয়মিত গ্যাস, অ্যাসিডিটি, কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেট ফাঁপার সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের ক্ষেত্রে অকাল চুল পড়ার ঝুঁকি বেশি। কারণ অন্ত্র সুস্থ না থাকলে খাবার থেকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ সঠিকভাবে শরীরে শোষিত হয় না। ফলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে পড়ে এবং চুল ঝরে যেতে শুরু করে।
জীবনযাত্রার প্রভাব
শুধু বয়স নয়, বর্তমান জীবনযাত্রাও চুল পড়ার একটি বড় কারণ হয়ে উঠছে। গবেষণায় দেখা গেছে, চুল পড়ার সমস্যায় ভোগা পুরুষদের মধ্যে ৫০ শতাংশেরও বেশি মানুষের বয়স ২৫ বছরের নিচে। তরুণদের মধ্যে বাড়তে থাকা মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং নিয়মিত জাঙ্ক ফুড খাওয়ার অভ্যাস হজমের সমস্যা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে অল্প বয়সেই টাক পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৩০ শতাংশ তরুণের ক্ষেত্রে চুল পড়ার প্রধান কারণ ঘুমের অভাব, আর প্রায় ৬০ শতাংশ ক্ষেত্রে মানসিক চাপ বড় ভূমিকা রাখছে।
খুশকিও বড় সমস্যা
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, খুশকিও চুল পড়ার অন্যতম বড় কারণ। ২৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ৬৫ শতাংশ তরুণ খুশকির সমস্যায় ভোগেন। মাথার ত্বকে খুশকি জমলে চুলের ফলিকল বা গোড়া আটকে যায়। এর ফলে নতুন চুল গজাতে বাধা সৃষ্টি হয় এবং ধীরে ধীরে চুল পাতলা হয়ে যায়।
কীভাবে এই সমস্যা এড়ানো যায়
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু তেল, সিরাম বা বাহ্যিক চিকিৎসা দিয়ে চুল পড়া পুরোপুরি বন্ধ করা যায় না। শরীরের ভেতরের স্বাস্থ্য ঠিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম নেওয়া এবং হজমশক্তি ভালো রাখা জরুরি।
যদি দীর্ঘদিন ধরে চুল পড়ার সমস্যা থাকে, তাহলে অন্ত্রের স্বাস্থ্য বা হজমের সমস্যা পরীক্ষা করানো উচিত। সময়মতো জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এবং সঠিক পুষ্টি গ্রহণ করলে অকাল টাক পড়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।