আচার্য চাণক্য তাঁর নীতির জন্য বিখ্যাত। তিনি মানব প্রকৃতি এবং সমাজের সত্যকে খুব সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করেছিলেন। তাঁর কথা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পথপ্রদর্শক। আচার্য চাণক্য পুরুষ ও নারীর সম্পর্ক সম্পর্কেও অনেক গভীর কথা বলেছিলেন। আচার্য চাণক্য বিশ্বাস করতেন যে যখনই একজন ব্যক্তি তাঁর ক্ষমতা, যুক্তি বা সামাজিক আধিপত্যের কারণে হেরে যান, তখন তিনি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। নারীর প্রেক্ষাপটে এই আগ্রাসন প্রায়শই তাঁদের চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করার আকারে আসে। এটি পুরুষের দুর্বলতা এবং তাঁদের প্রকৃত স্বভাবের প্রতিচ্ছবি।
অহংকার আঘাতপ্রাপ্ত হয়
পুরুষরা দীর্ঘদিন ধরে সমাজে নিজেদেরকে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করে আসছে। যখন একজন মহিলা তাঁকে ছাড়িয়ে যায় বা তাঁকে পরাজিত করেন, তখন তাঁর অহংকার ভেঙে যায়। এই অহংকারকে বাঁচানোর জন্য তিনি মিথ্যা অভিযোগ করে নারীকে অপমান করার চেষ্টা করেন। সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পুরুষ-শাসিত - সামাজিক চিন্তাভাবনা এখনও পুরুষতান্ত্রিক। নারীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা সবচেয়ে সহজ উপায়, কারণ সমাজ তা দ্রুত বিশ্বাস করে। নিজের পরাজয় মেনে নেওয়ার পরিবর্তে, একজন ব্যর্থ পুরুষ একজন নারীর ভাবমূর্তি নষ্ট করেন তাঁর দুর্বলতা লুকোনোর চেষ্টা করেন।
যদিও শতাব্দী আগে এই কথাটি বলা হয়েছিল, তবুও আজও এটি সত্য বলে মনে হয়। কর্মক্ষেত্রে, রাজনীতিতে, খেলাধুলোয় এমনকি পরিবারেও, যখন মহিলারা পুরুষদের চেয়ে ভাল পারফর্ম করেন, তখন প্রায়শই তাঁদের দিকে আঙুল তোলা হয়। চরিত্রের উপর আক্রমণে নারীদের কখনই হতাশ হওয়া উচিত নয়। বরং, আপনার পরিচয়ে অটল থাকুন। যে কোনও পরিস্থিতিতে আপনার কাজ এবং প্রতিভার উপর বিশ্বাস রাখুন।
আচার্য চাণক্যের নীতির এই উক্তিটি কেবল পুরুষদের চরিত্রের অন্ধকার দিকটিই উন্মোচিত করে না, বরং সমাজকে আয়নাও দেখায়। আজকের মহিলাদের জন্য এটি বোঝা গুরুত্বপূর্ণ যে এই ধরনের আক্রমণ কেবল তাঁদের সাফল্য এবং শক্তিকে প্রতিফলিত করে। আসল জয় তখনই হয় যখন মহিলারা এই অভিযোগের ঊর্ধ্বে উঠে তাঁদের কাজ এবং কর্মের মাধ্যমে পরিচয় তৈরি করেন।