scorecardresearch
 

Corona: কোভিডে অ্যাপ ক্যাব বা হলুদ ট্যাক্সিতে ভ্রমণ আদৌ সুরক্ষিত? উঠছে প্রশ্ন

যদিও আম যাত্রীর সঙ্গে কোনও পার্থক্য খুঁজে পাওয়া মুশকিল। মাস্কে ঢাকা নাক-মুখ। কেউ কেউ ডাবল মাস্কের আড়ালে। একাধিক যাত্রী অ্যাপে গাড়ি বুক করছেন। কেউ হাত দেখিয়ে হলুদ ট্যাক্সি থামাচ্ছেন। নির্দিষ্ট গন্তব্যে নেমে যাচ্ছেন। বোঝার উপায় নেই, এঁদের মধ্যে অনেকে নিজেই করোনা রোগী!

প্রতীকী ছবি প্রতীকী ছবি
হাইলাইটস
  • যদিও আম যাত্রীর সঙ্গে কোনও পার্থক্য খুঁজে পাওয়া মুশকিল।
  • মাস্কে ঢাকা নাক-মুখ। কেউ কেউ ডাবল মাস্কের আড়ালে। একাধিক যাত্রী অ্যাপে গাড়ি বুক করছেন।
  • বোঝার উপায় নেই, এঁদের মধ্যে অনেকে নিজেই করোনা রোগী!

পেশায় আই টি কর্মী প্রশান্ত চাকরি করে সেক্টর ফাইভের বহুজাতিক সংস্থায়। করোনার জেরে বেশিরভাগ সময় ওয়র্ক ফ্রম হোম। তবে মাঝে মধ্যে অফিস যেতে হয়। ভিড় এড়াতে অ্যাপ ক্যাবেই সে দিন যাতায়াত করে। পায়েল চাকরি করে সংসাদ সংস্থায়। ফলে তাঁকে প্রায় রোজই বেরতে হচ্ছে। অনেক সময়ই অফিসের পুল ধরতে অসুবিধা হওয়ায় ভরসা বাড়ির সামনের ট্যাক্সি স্ট্যান্ড। ২০ টাকা বেশি দিলেই অফিসের দোরগোড়ায় নামিয়ে দেন চালক। আপাতত শহর কলকাতায় এটা খুবই চেনা দৃশ্য।

এই দৃশ্যের সঙ্গে আরও কিছু দৃশ্য একটু কল্পনা করে নিন। যদিও আম যাত্রীর সঙ্গে কোনও পার্থক্য খুঁজে পাওয়া মুশকিল। মাস্কে ঢাকা নাক-মুখ। কেউ কেউ ডাবল মাস্কের আড়ালে। একাধিক যাত্রী অ্যাপে গাড়ি বুক করছেন। কেউ হাত দেখিয়ে হলুদ ট্যাক্সি থামাচ্ছেন। নির্দিষ্ট গন্তব্যে নেমে যাচ্ছেন। বোঝার উপায় নেই, এঁদের মধ্যে অনেকে নিজেই করোনা রোগী! নিঃসন্দেহে চমকে যাওযার মতো ঘটনা। কিন্তু এটা এখন বহু ক্ষেত্রে ঘটছে।

মধ্য কলকাতায় বড় সংস্থায় চাকুরিরত সমীর দাশগুপ্ত জানাচ্ছেন, তিনি নিজেই এমন ঘটনার সাক্ষী থেকেছেন, যেখানে করোনা রোগী অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে অ্যাপ ক্যাব বুক করে হাসপাতালের কাছে নেমে যান। সমীর বলেন, 'আংশিক লক ডাউনকে যদি আমরা সমাধান হিসাবে ধরেও নিই, সে ক্ষেত্রে অ্যাপ ক্যাবের বেশ কিছু ঘটনা কিন্তু সাধারণের চিন্তা বাড়াবে। আমি নিজে অন্তত তিনটি এমন ঘটনার সাক্ষী যেখানে করোনা রোগী চুপিসাড়ে ট্যাক্সিতে চড়ে হাসপাতালে গিয়েছেন। আমার নিজের দুই আত্মীয় এমনটা করেছেন। একজন বন্ধুও আছেন তালিকায়। করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর চিকিৎসকের পরামর্শে হাসপাতালে ভরতি হতে গিয়েছেন। এগুলো জানার পর আমি নিজে অ্যাপ ক্যাব বা হলুদ ট্যাক্সি চড়া বন্ধ করে দিয়েছি। নিতান্ত বিপদে পড়লে অ্যাপে বাইক বুক করে নিই, সেটা অন্তত একটু নিরাপদ মনে হয়েছে।'

প্রশ্ন উঠছে এখানেই। তা হলে কোভিড পরিস্থিতিতে যাত্রী সাধারণের নিরাপত্তা কোথায়? নিশ্চয়তা কোথায় যে এর আগে যে যাত্রী ট্যাক্সিতে চড়েছেন, তাঁর বা ট্যাক্সিচালকের নিজেরই করোনা হয়নি? উত্তরগুলো খোঁজার আগে এখানে নিজেদের বিবেককে প্রশ্ন করতে হয়। কারণ এ ছাড়া এর উত্তর বোধহয় আর কারও পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। কোনও রোগী রোগ লুকিয়ে ট্যাক্সিতে চাপলে তার জরিমানা গুণতে হবে পরিবর্তী যাত্রী এবং ট্যাক্সি চালককেও। একই সঙ্গে ওই ব্যক্তিদের সংস্পর্শে যআঁরা আসবেন তাঁরাও সংক্রামিত হবেন। এই সাধারণ বিচার-বুদ্ধি যদি যাত্রীরা না করেন তবে ভবিষ্যতে আরও বড় স্প্রেডারের রূপ নিতে পারে ট্যাক্সি এবং অ্যাপ ক্যাব।