শশা গরমকাল হোক বা শীতের দুপুর, বাঙালির পাতের স্যালাডে শসা থাকা চাই-ই চাই। বাড়ি থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ কিংবা হাইওয়ের ধাবা— সব জায়গাতেই এর কদর। শরীরকে আর্দ্র রাখতে এবং পেট ঠান্ডা রাখতে জল ও পুষ্টিগুণে ভরপুর শসার জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু মুশকিল হল, আজকাল বাজারের থলিতে দেশি শসার নাম করে দেদার বিকোচ্ছে হাইব্রিড এবং রাসায়নিক দিয়ে ফলানো শসা।
অনেক সময়েই তাড়াহুড়োর চোটে আমরা দেশি এবং হাইব্রিড শসার পার্থক্য ধরতে পারি না। চকচকে, পেল্লায় আকারের শসা দেখলেই মন ভোলে আমাদের। এই বিভ্রান্তি দূর করতেই এক অভিজ্ঞ কৃষক ভাগ করে নিয়েছেন এমন ৩ সহজ ও বাস্তবসম্মত উপায়, যার সাহায্যে সবজির দোকানে দাঁড়িয়েই আপনি চিনে নিতে পারবেন আসল আর নকলের ফারাক।
১. চেহারা এবং আকার
দেশি এবং হাইব্রিড শসা চেনার সবচেয়ে প্রাথমিক উপায়টি লুকিয়ে আছে তার চেহারায়।
হাইব্রিড শসা: এই শসাগুলো দেখতে একেবারে নিখুঁত, সোজা, গাঢ় সবুজ রঙের এবং অত্যন্ত চকচকে হয়। এদের গা একেবারে মসৃণ থাকে।
দেশি শসা: আসল দেশি শসা আকারে একটু ছোট ও সামান্য বাঁকা হতে পারে। এর রং হয় হালকা সবুজ, আবার কোথাও কোথাও একটু হলদেটে ছোপও দেখা যায়। দেশি শসার খোসা সামান্য খসখসে হতে পারে এবং গায়ে ছোট ছোট কাঁটার মতো দানা বা উঁচু অংশ থাকে।
২. স্বাদ ও তেতো ভাব
অনেকেরই অভিযোগ থাকে যে, শসা কাটলেই তা তেতো বেরোয়। অভিজ্ঞ কৃষকদের কথায়, দেশি শসায় তেতো হওয়ার আশঙ্কা একটু বেশি থাকে, কারণ তা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে জন্মায়। তবে শসার বোঁটার দিকটা কেটে একটু ঘষে ফেনা বের করে নিলেই এই তেতো ভাব সহজেই দূর হয়ে যায়।
অন্যদিকে, হাইব্রিড শসাকে এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে তা তেতো না লাগে। কিন্তু এতে দেশি শসার মতো আসল স্বাদ বা সোঁদা গন্ধটা একেবারেই থাকে না। দেশি শসা কামড়ালে যে নিজস্ব মিষ্টতা ও তরতাজা ভাব পাওয়া যায়, হাইব্রিড শসায় তা অনেকাংশেই অনুপস্থিত।
৩. জলের পরিমাণ এবং স্বাস্থ্যগুণ
হাইব্রিড শসাকে দীর্ঘদিন সতেজ রাখতে এবং ওজন বাড়াতে অনেক সময় রাসায়নিক ও কীটনাশকের সাহায্য নেওয়া হয়। কিন্তু দেশি শসায় প্রাকৃতিকভাবেই জলের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে।
দেশি শসার বীজ: খুব ছোট এবং নরম হয়, যা সহজেই আমাদের শরীরে হজম হয়ে যায়।
হাইব্রিড শসার বীজ: তুলনামূলকভাবে একটু শক্ত এবং বড় হতে পারে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: নিজের এবং পরিবারের স্বাস্থ্যের সঙ্গে যদি আপস করতে না চান, তবে স্থানীয় বাজার থেকে একটু কম চকচকে, হালকা রঙের এবং সামান্য এবড়োখেবড়ো দেশি শসা কেনাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। বাহ্যিক চাকচিক্যের চেয়ে পুষ্টিগুণকেই সর্বদা প্রাধান্য দেওয়া উচিত।