প্রতীকী ছবি বয়স বাড়া একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। কিন্তু বর্তমানের ইঁদুর দৌড়, দূষণ, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং মাত্রাতিরিক্ত স্ট্রেসের কারণে সময়ের আগেই মুখে বয়সের ছাপ স্পষ্ট হতে শুরু করে। তিরিশ বা চল্লিশের কোঠা পার হতে না হতেই ত্বকে কোলাজেনের মাত্রা কমতে থাকে। ফলে বলিরেখা, সুক্ষ্ণ রেখা, ত্বক ঝুলে পড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এসব সমস্যার মোকাবিলায় মহিলারা অনেক সময় দামি অ্যান্টি-এজিং সিরাম বা রাসায়নিক যুক্ত ক্রিমের পেছনে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচ করে ফেলেন। কিন্তু এর প্রভাব যেমন ক্ষণস্থায়ী হয়, তেমনই অনেক ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ারও ভয় থেকে যায়।
আপনিও যদি কোনওরকম ক্ষতি ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে ত্বকের তারুণ্য ও জেল্লা ধরে রাখতে চান, তবে বাড়িতেই বানিয়ে নিতে পারেন আপনার নিজস্ব অ্যান্টি-এজিং ক্রিম। আয়ুর্বেদ এবং প্রাকৃতিক রূপচর্চায় এমন কিছু উপাদানের খোঁজ মেলে, যা ত্বকের গভীরে পুষ্টি জুগিয়ে টানটান ভাব ফিরিয়ে আনে। নিয়মিত এই ক্রিমের ব্যবহারে ৪০ বছর বয়সেও আপনার ত্বক ২৫ বছরের তরুণীর মতোই সতেজ ও উজ্জ্বল দেখাবে।
ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে পুষ্টিকর ডায়েট
ত্বককে ভেতর থেকে টানটান ও সুন্দর রাখার প্রথম শর্তই হল সঠিক পুষ্টি। খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন এবং মিনারেলস রাখা অত্যন্ত জরুরি। মনে রাখবেন, বাইরের সৌন্দর্যের চাবিকাঠি কিন্তু লুকিয়ে থাকে ভেতরের সুস্থতার ওপরই।
কীভাবে বানাবেন এই অ্যান্টি-এজিং ক্রিম?
এই ক্রিম তৈরির মূল উপাদান হল ভাতের ফ্যান বা চাল-ধোয়া জল, যা কোরিয়ান রূপচর্চার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ত্বকের টানটান ভাব ফেরাতে এই উপাদানের জুড়ি মেলা ভার।
উপকরণ: ২ চামচ ভাতের গাঢ় ফ্যান বা মাড়, ১ চামচ খাঁটি নারকেল তেল, ১টি ভিটামিন-ই ক্যাপসুল।
তৈরির পদ্ধতি: একটি পরিষ্কার পাত্রে ভাতের গাঢ় ফ্যান বা মাড় নিন। এবার তাতে নারকেল তেল এবং ভিটামিন-ই ক্যাপসুলটি কেটে ভেতরের নির্যাসটুকু মিশিয়ে দিন। যতক্ষণ না মিশ্রণটি একটি মসৃণ বা ক্রিমি টেক্সচার নিচ্ছে, ততক্ষণ খুব ভালো করে ফেটিয়ে নিন। ব্যস, আপনার অ্যান্টি-এজিং ক্রিম একেবারে তৈরি! রোজ রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে এই ক্রিম দিয়ে মুখ মাসাজ করুন।
ব্যবহারের সঠিক নিয়ম ও কিছু জরুরি টিপস
লাগানোর আদর্শ সময়: অ্যান্টি-এজিং ক্রিম সবচেয়ে ভাল কাজ করে রাতে ঘুমোনোর সময়। কারণ, রাতে ঘুমের মধ্যে আমাদের ত্বক নিজেকে সারিয়ে তোলে। তাই রাতে শুতে যাওয়ার আগে মুখ ভাল করে ধুয়ে পরিষ্কার করে তবেই এই ক্রিম লাগান।
মাসাজের সঠিক পদ্ধতি: শুধু মুখে ক্রিম মেখে ছেড়ে দিলে হবে না। আঙুলের ডগায় ক্রিম নিয়ে মুখের নিচ থেকে ওপরের দিকে এবং ভেতর থেকে বাইরের দিকে হালকা হাতে মাসাজ করতে হবে। এতে ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং ত্বক টানটান হয়।
ডার্ক সার্কেলের যম: এই ক্রিমে ভিটামিন-ই থাকায় এটি চোখের নিচের কালি (ডার্ক সার্কেল) এবং ফোলাভাব (পাফিনেস) কমাতেও জাদুর মতো কাজ করে। অনামিকা দিয়ে চোখের চারপাশে আলতো করে ম্যাসাজ করুন।
সংরক্ষণের উপায়: যেহেতু এই ক্রিমটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং এতে কোনও প্রিজারভেটিভ বা সংরক্ষক নেই, তাই এটি সবসময় একটি পরিষ্কার ও শুকনো কাঁচের কৌটোয় রাখা উচিত। গরমকালে ক্রিমটি ভাল রাখতে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। ২-৩ দিন পর্যন্ত এটি অনায়াসেই ব্যবহার করা যায়।
প্যাচ টেস্ট বাধ্যতামূলক: ক্রিমটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি হলেও, মুখে লাগানোর আগে কানের পেছনে, গলায় বা কনুইয়ে সামান্য লাগিয়ে 'প্যাচ টেস্ট' করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। এর ফলে কোনও অ্যালার্জির সম্ভাবনা থাকলে তা আগেই ধরা পড়বে।