Coffee Benefits: কফি খেলে কি কমে কিডনি স্টোনের ঝুঁকি? জানুন চিকিৎসকদের মত

বর্তমানে কিডনির রোগ আগের চেয়ে বেশি বেড়ে গিয়েছে। কিডনিতে পাথর জমার সমস্যা এখন তো ঘপে ঘপে। কম জল খাওয়া, ডায়েটে বেশি নুন ও খারাপ লাইফস্টাইলের কারণে কিডনির রোগ দেখা যায়। কিডনিতে স্টোন যাঁদের রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসকেরা অনেক খাবার না খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

Advertisement
কফি খেলে কি কমে কিডনি স্টোনের ঝুঁকি? জানুন চিকিৎসকদের মতকফির উপকারিতা
হাইলাইটস
  • এখন অনেকেই কফি খেতে ভীষণভাবে ভালোবাসেন।

এখন অনেকেই কফি খেতে ভীষণভাবে ভালোবাসেন। কফি খাওয়ার প্রবণতা এখন চা খাওয়ার চেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে অনেকের মধ্যে। কফি লিভারের জন্য খুবই স্বাস্থ্যকর একটি পানীয়। কিন্তু কিডনির জন্য কি আদৌও কফি ভাল? নিয়মিত কফি খেলে কিডনির ওপর কী প্রভাব পড়ে, তা জানা আছে কি? কিডনি স্টোন ও কফির মধ্যে কী যোগসূত্র আসুন জেনে নেওয়া যাক। 

বর্তমানে কিডনির রোগ আগের চেয়ে বেশি বেড়ে গিয়েছে। কিডনিতে পাথর জমার সমস্যা এখন তো ঘপে ঘপে। কম জল খাওয়া, ডায়েটে বেশি নুন ও খারাপ লাইফস্টাইলের কারণে কিডনির রোগ দেখা যায়। কিডনিতে স্টোন যাঁদের রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসকেরা অনেক খাবার না খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এরকম অবস্থায় অনেকের মনে এই প্রশ্ন আসতেই পারে যে কফি খেলে কিডনি স্টোন কমে নাকি বাড়ে। কিডনিতে কফির প্রভাব নিয়ে কিডনি ফাউন্ডেশনের তরফ থেকে একটি রিসার্চ সামনে এসেছে। যেখানে বলা হয়েছে যে রোজ কফি খেলে কিডনি স্টোন থেকে রেহাই মিলতে পারে। এই গবেষণায় উঠে এসেছে যে প্রতিদিন এক থেকে দেড় কাপ কফি খেলে তিডনিতে রাথর হওয়ার ঝুঁকি ৪০ শতাংশ কমে যায়। 

কফি যাঁরা খান তাঁদের কিডনি স্টোনের ঝুঁকি কমে
গবেষকরা দুটি গবেষণা থেকে কিডনি পাথরে আক্রান্ত মোট ৫৭১,৬৫৭ জন ব্যক্তির তথ্য ব্যবহার করেছেন: এর মধ্যে ৩৯৫,০৪৪ জন ইউকে বায়োব্যাঙ্ক গবেষণা থেকে এবং ১৭৬,৬১৩ জন ফিনজেন গবেষণা থেকে। যারা নিয়মিত কফি পান করতেন, তাদের কিডনি পাথরের ঝুঁকি কফি পান না করা ব্যক্তিদের তুলনায় কম ছিল। ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ক্যারি উইলিস বলেছেন যে, কফি এবং ক্যাফেইন কিডনিতে পাথর হওয়া প্রতিরোধ করতে পারে। কিডনিতে পাথর এবং এ সম্পর্কিত রোগের ক্রমবর্ধমান প্রকোপের পরিপ্রেক্ষিতে, এটি একটি আশাব্যঞ্জক পন্থা হতে পারে। তবে, র‍্যান্ডমাইজড পর্যালোচনায় জেনেটিক ভ্যারিয়েন্ট ব্যবহার করা এটিই প্রথম গবেষণা। 

Advertisement

কিডনি স্টোন আসলে কী
চিকিৎসকদের মতে, মূত্রে উপস্থিত রাসায়নিক পদার্থের কারণে কিডনিতে পাথর তৈরি হয়। একবার তৈরি হয়ে গেলে, এই পাথরগুলো কিডনিতেই থেকে যেতে পারে অথবা মূত্রনালী দিয়ে ইউরেটারে চলে যেতে পারে। যে পাথরগুলো নিজেদের জায়গা থেকে সরে যায় না, সেগুলো মূত্রপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে ব্যথা হয়। এই ব্যথা কোমর থেকে পেট পর্যন্তও ছড়িয়ে পড়তে পারে। কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমাতে কফির কার্যকারিতা প্রসঙ্গে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন যে কফি একটি মূত্রবর্ধক। এটি পান করলে প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ে। কফিতে থাকা ক্যাফেইন প্রস্রাবের প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়, ফলে পাথর সৃষ্টিকারী খনিজ পদার্থ জমতে পারে না। প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ক্যালসিয়াম ও অক্সালেটের মতো খনিজ পদার্থগুলো পাতলা হয়ে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। কফিতে সাইট্রেট এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মতো প্রয়োজনীয় যৌগ থাকে, যা ক্রিস্টালগুলোকে একসঙ্গে জমাট বাঁধতে দেয় না। এর ফলে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমে। 

তাহলে কতটা কফি খেলে উপকার পাওয়া যাবে
কফি খেলে কিডনিতে স্টোন হওয়ার ঝুঁকি কমে এটা ঠিক কথা। তবে এর মানে এই নয় যে যাদের পাথর আছে, তারা শুধুই কফি খাবেন। কফি শুধুমাত্র সাহায্য করতে পারে, এবং তাও সীমিত পরিমাণে পান করলে। তবে বড় পাথরের ক্ষেত্রে সব সময় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এটাও মনে রাখা জরুরি যে কফি কিন্তু সবার জন্য নয়। যাদের উচ্চ রক্তচাপ, অ্যাসিডিটি বাব বদহজমের সমস্যা আছে, তাদের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করার পরেই কফি খাওয়া উচিত। 

কোন কোন খাবার থেকে কিডনিতে স্টোন হয়
অতিরিক্ত সোডিয়ামযুক্ত খাবার, যেমন অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার এবং ফাস্ট ফুড খাওয়াও কিডনিতে পাথর তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। অতিরিক্ত প্রোটিনযুক্ত খাবার, যেমন রেড মিট এবং অতিরিক্ত পরিমাণে বাদাম খাওয়াও কিডনিতে পাথর তৈরি করতে ভূমিকা রাখতে পারে। 

কিডনির যত্ন কীভাবে নেবেন
প্রতিদিন অন্তত ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করুন।

পরিমিত পরিমাণে লবণ গ্রহণ করুন। 

আপনার খাদ্যতালিকায় লেবুর জল এবং ডাবের জল অন্তর্ভুক্ত করুন।

অতিরিক্ত পরিমাণে প্রোটিন খাওয়া থেকে দূরে থাকুন। 

POST A COMMENT
Advertisement