
হিট ওয়েভ থেকে বাঁচতে বেশি জল খাচ্ছেন? বাড়ছে হার্ট-কিডনি ফেলিওরের ঝুঁকি!Heat Wave, Heart-Kidney Failure: মাথার উপর আগুন ছড়াচ্ছে সূর্য। এপ্রিলের শুরু থেকেই ক্রমশ বাড়ছে তাপমাত্রার পারদ। কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় তাপপ্রবাহ চলছে ক’দিন ধরেই। প্যাচপ্যাচে গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন আট থেকে আশির সকলেই! গায়ে ফোসকা ধরানো উষ্ণ-আর্দ্র আবহাওয়ায় প্রচুর ঘাম হচ্ছে। ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে অতিরিক্ত জল-লবণ বেরিয়ে যাওয়ায় অল্পতেই ক্লান্তি গ্রাস করছে।
তাপপ্রবাহ থেকে শরীর বাঁচাতে, সুস্থ থাকতে অনেকেই অতিরিক্ত জল পান করছেন। চিকিৎসকরাও শরীরে জলের ঘাটতি মেটাতে বেশি করে জল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে অতিরিক্ত জল খেলে বেশ কিছু গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যাও বেড়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে হার্ট-কিডনি ফেলিওরের ঝুঁকি, শরীরে সোডিয়াম-পটাসিয়ামের ভারসাম্য বিগড়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুন: দাবদাহে ঘরে-বাইরে শিশুদের সুস্থ রাখবেন কীভাবে? রইল চিকিৎসকের Tips
এই প্রসঙ্গে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অরিন্দম পাণ্ডে বলেন, “যাঁরা হার্টের রোগী, যাঁদের হার্টের পাম্পিং কম, তাঁদের জল খুব মেপে খেতে বলেন চিকিৎসকরা। এঁদের কারও ক্ষেত্রে সারা দিনে এক থেকে দেড় লিটারের বেশি জল খাওয়া উচিত নয়। পাশাপাশি যাঁদের কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রেও জল খাওয়ায় এই রকম বিধিনিষেধ মেনে চলতে হয়। গরম থেকে বাঁচতে অতিরিক্ত জল খাওয়া এঁদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক! তাই গরম বাড়লেও যাঁদের গুরুতর হার্টের বা কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে নির্দিষ্ট পরিমাণে জল খেতে হবে। তার বেশি কখনওই নয়।”

হার্ট বা কিডনির গুরুতর সমস্যা যদি না থাকে সে ক্ষেত্রেও মাত্রাতিরিক্ত জলপান করা বিপজ্জনক হতে পারে। অতিরিক্ত জল খেলে তা ইন্ট্রাক্রানিয়ালের উপর চাপ বাড়ায়। ওভারহাইড্রেশন (Overhydration) এবং অতিরিক্ত জল খাওয়ার অভ্যাসে একজন ব্যক্তির কিডনিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। একটা সময়ের পর তাই কিডনি বিকল হয়ে পড়ে। তার পরই শরীরে বাড়তে থাকে একাধিক প্রাণঘাতী স্বাস্থ্য সমস্যা।
এ প্রসঙ্গে ডাঃ পাণ্ডে বলেন, “ওভারহাইড্রেশনের মতো সমস্যা এক দিনে হয় না। তাই এই সমস্যাকে যদি না-ও ধরা হয়, তাহলেও মাত্রাতিরিক্ত জল খেলে ডিলিউশনাল হাইপোনেট্রেমিয়ায় (Dilutional Hyponatremia) আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। পাশাপাশি, বিগড়ে যেতে পারে শরীরে সোডিয়াম-পটাসিয়ামের ভারসাম্য। এর ফলে মাথা ঘোরা, হাত-পা ফুলে যাওয়া, শরীরে জল জমার মতো নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই শরীরের ওজন বুঝে, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে জল খেতে হবে।”