ফ্রিজারে কতদিন মাছ রেখে খাওয়া যায়?মাছে-ভাতে বাঙালি। সপ্তাহের অধিকাংশ দিনেই বাঙালির পাতে মাছ থাকতেই হবে। এখন সময়ের অভাবে অনেকেই বাজারে গিয়ে বেশ কিছুটা মাছ কিনে আনেন এবং ফ্রিজে রেখে দেন। যাতে রোজ রোজ বাজারে যাওয়ার ঝক্কি না থাকে। কিন্তু ঠিক কতদিন পর্যন্ত ফ্রিজারে মাছ রেখে খাওয়া যেতে পারে, তা অনেকেই জানেন না। আসুন তাহলে জেনে নিন কতদিন ফ্রিজে মাছ রেখে খাওয়া যায়।
বাঙালি মানেই মেছো! তবে শুধু স্বাদে নয়, মাচের পুষ্টিগুণও অঢেল। প্রোটিনের ভরপুর উৎস মাছ। একাধিক গবেষণায় প্রমানিত, মাছ স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের পুষ্টি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু ফ্রিজারে রেখে মাছ কি খাওয়া উচিত, আসুন জেনে নেওয়া যাক।
ফ্রিজে মাছ কীভাবে রাখবেন? প্রথমে মাছের টুকরোগুলো একটি প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে সিল করে নিন। এর পর ব্যাগটি বরফ ভর্তি একটি বাটির মধ্যে রেখে দিন।মাছ কেনার পরপরই রান্না করতে চাইলে সর্বোচ্চ দুই দিন পর্যন্ত ফ্রিজে রাখা যায়। ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA)-এর মতে, তাজা মাছ, চিংড়ি, স্ক্যালপ ও স্কুইড ফ্রিজে মাত্র এক থেকে দুই দিন রাখাই নিরাপদ।
অন্যদিকে, বাসা, টুনা, সোর্ডফিশ, ট্রাউট ও স্যামন-এর মতো মাছ ফ্রিজে তিন থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত ভাল থাকতে পারে। ম্যাকারেল, ব্লুফিশ ও সার্ডিনের মতো তেলযুক্ত মাছ ফ্রিজে ৩ দিন পর্যন্ত রাখা যায়। যদি মাছ কেনার ২ দিনের মধ্যে মাছ রান্না না করতে চান, তা হলে আর্দ্রতা প্রতিরোধক ফ্রিজার পেপার বা ফয়েলে ভালভাবে মুড়ে নিন, যাতে বাতাস ঢুকতে না পারে। এর পর মাছ ফ্রিজারে রেখে দিতে পারেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরে বরফ গলিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।
প্রথমেই মাথায় রাখুন, তাজা মাছ কিনতে হবে। ভাল মাছের ফিলে দেখতে উজ্জ্বল হয়। ধূসর রং-এর বা শুকনো দেখতে মাছ কিনবেন না। রান্না করা মাছও ফ্রিজে রাখতে পারেন। রান্না করা মাছ ফ্রিজের ঠান্ডা তাপমাত্রায় দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত ভাল থাকে। অনেকে মনে করেন, ফ্রিজে রাখা মাছের থেকে বেশি পুষ্টিকর তাজা মাছ। কিন্তু দুই ধরণের মাছই পুষ্টিকর হতে পারে, যদি তা সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়। তাজা মাছ হিমায়িত করলে স্বাদ ও গঠনে পরিবর্তন আসতে পারে, পাশাপাশি ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়াও বাসা বাঁধতে পারে। হিমায়িত মাছ ব্যবহার করার আগেই যদি গলে যায়, যেমন পরিবহণের সময়, তাহলে তা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তবে হিমায়িত করার ফলে মাছের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয় না।