ভুঁড়ি কমাতে কী কী ব্যায়াম করবেন? শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় পেটের মেদ ঝরানো বেশ কঠিন ও কষ্টসাধ্য। শত চেষ্টা করেও অনেকে ভুঁড়ি কমাতে পারেন না। এদিকে দিন দিন বাড়তে থাকা 'মধ্যপ্রদেশ' শরীরের আকৃতি বিকট করে তুলছে। কম খেয়ে বা একবেলা উপোস করেও সহজে কমানো যাচ্ছে না ভুঁড়ি। তাহলে উপায়? রোজ সকালে যোগব্যায়াম করলে নির্মেদ চেহারা পাওয়া সম্ভব। মিরাকল ঘটতে পারে শরীরে।
কোন কোন আসনে ভুঁড়ি কমবে?
ধনুরাসন: পেট উপুড় করে শুয়ে হাঁটু ভাঁজ করে পায়ের পাতা যতখানি সম্ভব পিঠের উপর নিয়ে আসতে হবে। এবার হাত দুটো পিছনে নিয়ে গিয়ে গোড়ালির উপর শক্ত করে চেপে ধরতে হবে। চেষ্টা করতে হবে পা দু'টো মাথার কাছাকাছি নিয়ে আসতে। এই ভঙ্গিতে মেঝে থেকে বুক হাঁটু ও উরু উঠে আসবে। তলপেট ও পেট মেঝেতে রেখে উপরের দিকে তাকাতে হবে। এই ভঙ্গিতে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ে ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড থাকতে হবে। বার তিনেক করতে হবে এই আসন।
ফলকাসন: ম্যাটের উপর উপুড় হয়ে শুয়ে শরীর টানটান রাখতে হবে। হাত ও কনুইয়ে ভর দিয়ে শরীরকে ধীরে ধীরে উপরে তুলতে হবে। পায়ের ভর থাকবে বুড়ো আঙুলের উপর। দু’পায়ের মধ্যে দূরত্ব কম করে নিতে হবে। হাঁটু আর পেটও মাটি থেকে যতটা পারবেন উপরে তুলুন। পেট ভিতর দিকে টেনে রাখতে হবে। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে ২০-৩০ সেকেন্ড ওই অবস্থানে থাকতে হবে।
কুম্ভকাসন: ইংরেজিতে একে বলা হয় ‘প্ল্যাঙ্ক পোজ’। প্রথমে ম্যাটে উপুড় হয়ে শুয়ে কনুইয়ে এবং পায়ের আঙুলের উপর ভর দিয়ে সমান্তরাল ভাবে গোটা দেহ মাটি থেকে তুলে ধরতে হবে। এই অবস্থায় ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড এই অবস্থায় থাকুন।
নৌকাসন: যোগা ম্যাটের উপর টান টান হয়ে শুয়ে মাথা থেকে কোমর পর্যন্ত ধীরে ধীরে মাটি থেকে তুলতে হবে। দুই হাত সামনের দিকে বাড়িয়ে নিতম্বের উপর ভর দিয়ে দুই পা-ও সামনের দিকে তুলে ধরতে হবে। এই অবস্থায় দেহের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করতে হবে।
পার্শ্বকোণাসন: ম্যাটের উপর দুই পায়ের মধ্যে ব্যবধান রেখে দাঁড়াতে হবে। ডান পা ৯০ ডিগ্রি কোণে মুড়ুন ও বা পাঁ আরও কিছু প্রসারিত করতে হবে। ডান হাতটি ডান পায়ের হাঁটুর উপর রাখতে হবে। বাঁ হাতটি মাথার উপর দিয়ে প্রসারিত করে শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে এই ভঙ্গিতে ২০-৩০ সেকেন্ড থাকতে হবে। পা বদলে আবার অভ্যাস করতে হবে দিনে ৩ সেট ৩০ সেকেন্ড করে।