Gold Alternatives: '১ বছর সোনা কিনবেন না'! বদলে মানুষ ঝুঁকছে এই সস্তা জিনিসের দিকে

Gold Alternative Jwellery: সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বানের পর থেকে বাজারে কৃত্রিম এবং সোনার প্রলেপযুক্ত গয়নার চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

Advertisement
'১ বছর সোনা কিনবেন না'! বদলে মানুষ ঝুঁকছে এই সস্তা জিনিসের দিকে প্রতীকী ছবি

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সম্প্রতি সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান এবং ফ্যাশন ট্রেন্ডের পরিবর্তনের ফলে, মানুষ এখন নতুন বিকল্পের দিকে ঝুঁকছে। এই বিকল্পটি আড়ম্বরপূর্ণ, সাশ্রয়ী এবং নিরাপদ। সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বানের পর থেকে বাজারে কৃত্রিম এবং সোনার প্রলেপযুক্ত গয়নার চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। লক্ষণীয় বিষয় হল, এই গয়নাগুলো এখন আর শুধু কোনও 'নকল' বা 'সস্তা বিকল্প' হিসেবে গণ্য হয় না। বরং এগুলো এখন ফ্যাশন জগতেই নতুন ট্রেন্ড প্রবর্তক হয়ে উঠেছে।

জয়পুর সহ দেশের অনেক শহরেই বর্তমানে এমন সব কৃত্রিম গয়না তৈরি হচ্ছে, যা দেখে আসল ও নকলের পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে জয়পুরের বিখ্যাত মীনাকারি গয়না, টেম্পল জুয়েলারি (মন্দির-শৈলীর গয়না), এবং আধা-মূল্যবান পান্না, তানজানাইট, নীলকান্তমণি, চুনি, মুক্ত ও অন্যান্য পাথর দিয়ে তৈরি গয়নার সেটগুলো ব্যাপক নজর কাড়ছে। বলা হয়ে থাকে যে, বর্তমানে একটি সোনার গয়না তৈরির মজুরি বাবদ যে অর্থ খরচ হয়, ঠিক সেই একই পরিমাণ অর্থে অনেকগুলো সুন্দর কৃত্রিম গয়নার সেট কিনে ফেলা সম্ভব।

বর্তমান যুগের আধুনিক কৃত্রিম গয়নাগুলো দেখতে কেবল 'প্রিমিয়াম' বা অভিজাতই নয়, বরং গুণমানের দিক থেকেও এগুলো প্রভূত উন্নতি সাধন করেছে। বিশেষ করে পিতল দিয়ে তৈরি গয়নাগুলোকে অ্যালার্জি-প্রতিরোধী হিসেবে গণ্য করা হয়। ফলে এগুলো পরলে ত্বকে অ্যালার্জি বা কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়। এছাড়া, এগুলো সহজে কালচে হয়ে যায় না বা ঔজ্জ্বল্য হারায় না—যার অর্থ হল, এগুলোর চাকচিক্য দীর্ঘস্থায়ী হয়। গয়না ব্যবসায়ীরা জানান যে, উচ্চমানের পিতল-ভিত্তিক কৃত্রিম গয়নাগুলো অন্তত চার থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত তাদের ঔজ্জ্বল্য অটুট রাখতে সক্ষম। ঠিক এই কারণেই মানুষ এখন এগুলোকে কেবল বিশেষ কোনও অনুষ্ঠানের জন্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের উপযোগী হিসেবেই বিবেচনা করছে। 

কৃত্রিম গয়নার সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এর সাশ্রয়ী মূল্য। সোনা কেনার ক্ষেত্রে যেখানে একটি বড় অঙ্কের বাজেটের প্রয়োজন হয় এবং সেই বাজেটের মধ্যে নকশার বৈচিত্র্যও থাকে সীমিত, সেখানে কৃত্রিম গয়নার ক্ষেত্রে একই বাজেটের মধ্যে অসংখ্য বৈচিত্র্যময় নকশা ও গয়নার সেট বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে। নারীরা এখন তাদের প্রতিটি পোশাক, অনুষ্ঠান এবং মেজাজের সঙ্গে মানানসই ভিন্ন ভিন্ন গয়না পরতেই বেশি পছন্দ করছেন। আর ঠিক এই বিষয়টিই কৃত্রিম গয়নাগুলোকে আরও অনন্য ও বিশেষ করে তুলেছে। গয়না নিজের পছন্দ মতো সাজিয়ে নেওয়ার বা 'কাস্টমাইজেশন'-র সুযোগও এখানে প্রচুর। ক্রেতারা তাদের পছন্দের পাথর, পলিশ, রঙের বিন্যাস এবং নকশার ধরন অনুযায়ী গয়নাগুলো কাস্টমাইজ করে নিতে পারেন-যা সোনার গয়নার ক্ষেত্রে করতে গেলে বেশ চড়া মূল্য গুনতে হত।

Advertisement

এক্ষেত্রে চুরি বা হারিয়ে যাওয়ার ভয় থাকে না

ভ্রমণের সময়ও কৃত্রিম গয়নাকেই সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে গণ্য করা হয়। দামী গয়না সঙ্গে রাখলে তা চুরি হয়ে যাওয়া বা হারিয়ে যাওয়ার নিরন্তর ভয় কাজ করে। অথচ কৃত্রিম গয়না পরলে মহিলারা কোনও রকম দুশ্চিন্তা ছাড়াই বেশ জমকালো ও রাজকীয় সাজে নিজেকে সাজিয়ে তুলতে পারেন। এর চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিশেষ করে বিয়েবাড়ি এবং ডেস্টিনেশন ওয়েডিং বা দূরবর্তী স্থানে আয়োজিত বিয়েগুলোতে। মানুষের ধারণা, বিয়ের অনুষ্ঠানে এমন গয়না পরাই বাঞ্ছনীয় যা দেখতে অত্যন্ত ভারী ও রাজকীয়। কিন্তু এই একই নকশার গয়না যদি খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি করা হয়, তবে তা পুরো বিয়ের বাজেটকেই প্রভাবিত করতে পারে।

সোনার প্রলেপযুক্ত এবং কৃত্রিম গয়নাগুলো একটি লাভজনক বিকল্প হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে। ফ্যাশন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, ভবিষ্যতে কৃত্রিম গয়না কেবল একটি বিকল্প হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং এটি ফ্যাশনের মূলধারার একটি অন্যতম প্রবণতা হয়ে উঠবে। স্বল্প মূল্য, নজরকাড়া নকশা, পছন্দ মতো সাজিয়ে নেওয়ার সুবিধা, নিরাপত্তা, অ্যালার্জিমুক্ত বৈশিষ্ট্য এবং দীর্ঘস্থায়ী উজ্জ্বলতার মতো বিষয়গুলো সব স্তরের মানুষের কাছেই এই গয়নাকে আকর্ষণীয় করে তুলছে। ঠিক এই কারণেই বাজারে কৃত্রিম গয়নার চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মানুষ একে স্মার্ট শপিংয়ের নতুন মূলমন্ত্র হিসেবে গণ্য করছে।


 

POST A COMMENT
Advertisement