তাপপ্রবাহের গাইডলাইন দেশের বিভিন্ন রাজ্যে গরমের জেরে এখনও সবার খারাপ অবস্থা। গরমে মানুষের জীবন যেন আরও কঠিন হয়েছে। একাধিক জেলায় তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জেলাতেও গরম এবং অস্বস্তি চরমে থাকবে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। এমনকী, ৪০ ডিগ্রি বা তার বেশি সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকতে পারে বাঁকুড়া, বীরভূম এবং পশ্চিম বর্ধমানের কিছু অংশে। এদিকে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। গরমের তীব্রতায় এসি-কুলার কিছুই যেন কাজ করছে না।
গরমের তীব্রতা বাড়লে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিট স্ট্রোক হলে, শরীর তার ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না এবং ঘামও শরীরকে ঠান্ডা করতে ব্যর্থ হয়। সেক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। জেনে নিন হিটস্ট্রোক আসলে কী, কীভাবে বুঝবেন হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন এবং এর প্রতিকার কী কী।
হিটস্ট্রোক কী?
সাধারণত শরীর যখন তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে অক্ষম হয়, তখন হিটস্ট্রোক হয়। সেসময় শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং সহজে হ্রাস পায় না। হিটস্ট্রোক হলে শরীরে ঘাম হয় না, যা অত্যন্ত ক্ষতিকারক। হিটস্ট্রোক হলে, শরীরের তাপমাত্রা ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি বাড়তে পারে। যদি সময় মতো চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে এটি মৃত্যুর কারণও হতে পারে।
হিটস্ট্রোকের কারণ কী হতে পারে?
খুব গরম জায়গায় বেশিক্ষণ থাকলে, হিটস্ট্রোক হতে পারে। কেউ যদি ঠান্ডা আবহাওয়া থেকে হঠাৎ গরম জায়গায় যান, তাহলে হিটস্ট্রোকের সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। গরম আবহাওয়ায় অতিরিক্ত ব্যায়াম করাও হিটস্ট্রোকের একটি বড় কারণ। গরমে প্রচুর ঘামের পর পর্যাপ্ত জল পান না করলে, এই সমস্যা হতে পারে।
কেউ যদি খুব বেশি অ্যালকোহল পান করে, সেক্ষেত্রেও শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা হারিয়ে যায়। এটিও হিটস্ট্রোকের কারণ হতে পারে। আপনি যদি গ্রীষ্মে এমন পোশাক পরেন যা ঘাম শরীরের বাইরে এবং হাওয়া শরীরের ভিতরে না যায়, এটিও হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
হিটস্ট্রোকের লক্ষণ কী কী?
হিটস্ট্রোকের লক্ষণগুলো শনাক্ত করা গেলে এবং সময়মতো চিকিৎসা করা সম্ভব। এজন্যে সমস্ত লক্ষণ চিহ্নিত করা জরুরি। মাথাব্যথা, প্রচণ্ড জ্বর, জ্ঞান হারিয়ে যাওয়া, মানসিক অবস্থার অবনতি, গা বমিভাব, ত্বক লাল হয়ে যাওয়া, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, ত্বক নরম হয়ে যাওয়া, ত্বকের শুষ্কতা এবং ডিমেনশিয়া, এর সাধারণ লক্ষণ।
হিটস্ট্রোকের প্রাথমিক চিকিৎসা
যদি কারও হিটস্ট্রোক হয়, তাহলে প্রাথমিক কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করে, চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন। হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিকে রোদে রাখবেন না, শরীরে হাওয়া ঢোকার ব্যবস্থা করুন। শরীর ঠান্ডা করার জন্য তাকে কুলার বা ফ্যানের সামনে বসান, ঠান্ডা জলে স্নান করুন, ঠান্ডা জলে একটি কাপড় ভিজিয়ে শরীর মুছে নিন। মাথায় ঠান্ডা জল দিয়ে বরফের প্যাক বা কাপড় ভিজিয়ে রাখুন এবং মাথায়, ঘাড়ে, বগলে ও কোমরে ঠান্ডা জলে একটি তোয়ালে ভিজিয়ে রাখুন।
হিটস্ট্রোক এড়ানোর উপায় কী?
হিটস্ট্রোক এড়াতে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা উচিত।
* প্রচুর জল পান করুন।
* রোদে কম বেরোন। তাপপ্রবাহ সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে সবচেয়ে বেশি থাকে।
* হালকা, সুতির এবং ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। কালো এবং আঁটসাঁট পোশাক পরলে আরও গরম লাগতে পারে।
* সরাসরি সূর্যের আলো এড়াতে বাইরে বেরনোর সময় টুপি বা ছাতা পরুন। শরীরের উন্মুক্ত অংশে সানস্ক্রিন লাগান।
* গ্রীষ্মে ভাজা, মশলাদার বা ভারী খাবার খাওয়া এড়িয়ে, হালকা এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খান।
* শারীরিক পরিশ্রম কম করুন। বাইরে কাজ করার প্রয়োজন হলে, মাঝে বিশ্রাম নিন এবং প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন।
* ঘর ঠান্ডা রাখুন। পাখা, কুলার বা এসি ব্যবহার করুন। দিনের বেলা জানালা এবং পর্দা বন্ধ রাখুন যাতে গরম বাতাস প্রবেশ করতে না পারে।