
Cardamom Growing Tips: বাজারে গেলেই যেন পকেটে টান পড়ছে। ছোট এলাচের দাম এখন আকাশছোঁয়া। তবে চাইলে এই সমস্যার সমাধান করা যায় নিজের বাড়িতেই। একটু ধৈর্য আর সঠিক যত্ন নিলেই টব বা বাগানে ফলানো সম্ভব সুগন্ধি ছোট এলাচ। সাধারণত পাহাড়ি ও আর্দ্র পরিবেশে এলাচ ভালো জন্মালেও, কিছু নিয়ম মানলে সমতল এলাকাতেও সফল চাষ করা যায়।
ছোট এলাচ উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ভালো বাড়ে। ১৫ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা আদর্শ। সরাসরি রোদ একেবারেই সহ্য করতে পারে না এই গাছ। তাই আধা-ছায়াযুক্ত জায়গা, বড় গাছের তলা বা শেড নেটের নিচে এলাচ লাগানো সবচেয়ে ভালো।
মাটি কেমন হবে
দো-আঁশ ও জৈব পদার্থে ভরপুর ঝুরঝুরে মাটি এলাচ চাষের জন্য উপযুক্ত। জল দাঁড়িয়ে থাকলে শিকড় পচে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাই ভালো জলনিকাশি ব্যবস্থা জরুরি। মাটির pH ৫.৫–৬.৫ হলে ফলন ভালো হয়। রোপণের আগে পচা গোবর সার, ভার্মি কম্পোস্ট ও সামান্য বালি মিশিয়ে নিলে উপকার মিলবে।
রোপণের উপকরণ
ছোট এলাচ সাধারণত বীজ থেকে নয়, চারা বা রাইজোম থেকে লাগানো হয়। নির্ভরযোগ্য নার্সারি থেকে রোগমুক্ত সুস্থ চারা নেওয়াই নিরাপদ। টবে লাগাতে চাইলে অন্তত ১৮-২০ ইঞ্চি গভীর ও চওড়া টব ব্যবহার করুন।
রোপণের পদ্ধতি
মাটিতে ছোট গর্ত করে সাবধানে চারা বসান। শিকড় ভাঙা যেন না হয়, সে দিকে নজর রাখুন। লাগানোর পর হালকা জল দিন। টবের নীচে অবশ্যই জল বেরোনোর ছিদ্র থাকতে হবে।
জল ও আর্দ্রতা
এলাচ গাছ আর্দ্রতা খুব পছন্দ করে। নিয়মিত জল দিতে হবে, তবে জল জমতে দেওয়া চলবে না। গরমকালে সপ্তাহে ৩-৪ দিন জল লাগতে পারে। মাঝে মাঝে পাতায় জল স্প্রে করলে গাছ সতেজ থাকে।
সার ও পুষ্টি
প্রতি ২-৩ মাস অন্তর জৈব সার ব্যবহার করুন। ভার্মি কম্পোস্ট, নিমখোল বা তরল জৈব সার গাছের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত রাসায়নিক সার এড়িয়ে চলাই ভালো।
রোগ-পোকা ও পরিচর্যা
জল জমে থাকলে ছত্রাক বা পাতা পচা রোগ হতে পারে। পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন। প্রয়োজনে নিম তেল স্প্রে করলে পোকামাকড়ের হাত থেকে গাছ রক্ষা পায়।
ফল আসতে কত সময়
রোপণের প্রায় ২-৩ বছরের মধ্যে এলাচ গাছে ফল ধরা শুরু হয়। নিয়মিত যত্ন নিলে বহু বছর ধরে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।