চিকেনগত কয়েক বছরে, মানুষ তাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে ক্রমশ সচেতন হয়ে উঠেছে। আমরা সবাই আমাদের খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম এবং জীবনযাত্রার উন্নতির দিকে নজর দিয়েছি। সবচেয়ে বড় বদলগুলির মধ্যে একটা হল, মানুষ তাদের প্রোটিন খাওয়ার দিকে মনোযোগ দিতে শুরু করেছে। ফিটনেসের দিকে যারা বিশেষ নজর দেন তারা ডিম এবং মুরগির মাংস খান। তবে সপ্তাহে কতটা মাংস খাওয়া উচিত?
এখন পর্যন্ত, সবাই তাদের প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে মুরগির মাংস খাচ্ছে। প্রতিদিন ২০০ গ্রাম, ৩০০ গ্রাম, অথবা ৫০০ গ্রাম যাই হোক না কেন, গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে যে অতিরিক্ত মুরগির মাংস খাওয়া গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। এমনকি প্রোটিনের ভালো উৎস হলেও আপনি অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন।
গবেষণা কী বলে?
নিউট্রিয়েন্টস জার্নালে প্রকাশিত ২০২৫ সালের একটি পর্যবেক্ষণ মূলক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে যে, সপ্তাহে ৩০০ গ্রামের বেশি সাদা মাংস (মুরগি, খরগোশ, টার্কি ইত্যাদি) খাওয়া আপনার স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। সাদা মাংসকে সাধারণত স্বাস্থ্যকর বলে মনে করা হয়, তবে এই গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা পাচনতন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত ক্যান্সার। যা চিকিৎসার পরিভাষায় জিআই ক্যান্সার বলা হয়। পাচনতন্ত্রের ক্যান্সারের মধ্যে রয়েছে খাদ্যনালী, পাকস্থলী, ছোট এবং বড় অস্ত্র, লিভার, অগ্ন্যাশয় এবং পিত্তথলি।
সপ্তাহে কতটা চিকেন খাওয়া নিরাপদ?
বিজ্ঞানীরা মুরগি, টার্কি বা হাঁসের মতো পাখির মাংস খাওয়ার সঙ্গে পাকস্থলীর ক্যান্সার এবং অকাল মৃত্যুর সম্পর্ক আছে কিনা তা দেখার চেষ্টা করছিলেন। এর জন্য, তারা ১৯ বছর ধরে ইতালির প্রায় ৪৮৬৯ জন প্রাপ্তবয়স্ককে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন, যেখানে দেখা গিয়েছে যে পেটের ক্যান্সার (যেমন লিভার, পাকস্থলী এবং অস্ত্রের ক্যান্সার) কারণে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সাদা মাংস খাওয়ার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি ছিল।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে যারা প্রতি সপ্তাহে ৩০০ গ্রামের বেশি সাদা মাংস খান তাদের যেকোনো কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি যারা প্রতি সপ্তাহে ১০০ গ্রামের কম মুরগি খান তাদের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেশি। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে ৬১ শতাংশে পৌঁছেছে, অর্থাৎ যারা ১০০ গ্রামের বেশি মুরগি খান তাদের অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় দেড় গুণ বেশি।
যারা প্রতি সপ্তাহে ১০০-২০০ গ্রামের বেশি মুরগি খান তাদের জিআই ক্যান্সারে মৃত্যুর ঝুঁকি ৬৫ শতাংশ বেশি, যেখানে যারা ৩০০ গ্রামের বেশি মুরগি খান তাদের পাচনতন্ত্র সম্পর্কিত ক্যান্সারে মৃত্যুর ঝুঁকি ১২৭ শতাংশ বেশি এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি, ১৬১ শতাংশ। গবেষণা দল স্পষ্টভাবে বলেছে যে যত কম মুরগি খান, ততই ভালো। গবেষকরা উল্লেখ করেছেন যে এটি একটি পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা, যার অর্থ এটি সাদা মাংস এবং রোগের মধ্যে একটি যোগসূত্র দেখায়, সরাসরি ফলাফল নয়। ফলাফল গুলি সম্পূর্ণরূপে বোঝার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।