ডিমের ফ্রেশনেস চেক করার উপায় জেনে নিন।How to Test Egg Freshness: বাঙালির রান্নাঘরে ডিম থাকবে না, তা হতেই পারে না। আসলে ডিম প্রোটিনের দুর্দান্ত উৎস। অনেকে তো প্রায় প্রতিদিনই ডিম খান। তবে বাজার থেকে ডিম কিনে আনার পর অনেক সময়ই বোঝা যায় না সেটি ভাল না পচা। ভুলবশত পচা ডিম খেলে শারীরিক সমস্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই ডিম কেনার আগে বা ব্যবহারের আগে তার গুণমান যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সবচেয়ে সহজ উপায় হল জল পরীক্ষা। একটি বাটি বা পাত্রে জল নিয়ে তার মধ্যে ডিমটি ছেড়ে দিন। যদি ডিমটি জলের তলায় একেবারে শুয়ে থাকে, তবে বুঝতে হবে সেটি একেবারে টাটকা। আর যদি ডিমটি একটু কাত হয়ে থাকে, তবে সেটি কয়েকদিনের পুরনো হলেও খাওয়ার উপযোগী। তবে যদি ডিমটি জলের উপর ভেসে ওঠে, তাহলে সেটি পচা; এমন ডিম একেবারেই না খাওয়াই ভালো।
আরও একটি উপায় হল ডিম ঝাঁকিয়ে দেখা। কানে নিয়ে হালকা করে ঝাঁকালে যদি ভিতরে জল বা নড়াচড়ার শব্দ শোনা যায়, তাহলে বুঝতে হবে ডিমটি পুরনো হয়ে গেছে। টাটকা ডিমে সাধারণত এই ধরনের শব্দ হয় না।
ডিম ভেঙে দেখেও সহজে বোঝা যায় তার গুণমান। একটি পাত্রে ডিমটি ভাঙলে যদি কুসুমটি গোল ও উঁচু থাকে এবং সাদা অংশ ঘন হয়, তাহলে সেটি ভালো ডিম। কিন্তু কুসুম ছড়িয়ে পড়ে গেলে বা সাদা অংশ বেশি তরল হলে ডিমটি আর ততটা টাটকা নয় বলে ধরে নেওয়া হয়।
গন্ধ থেকেও ডিমের অবস্থা বোঝা সম্ভব। পচা ডিমে সাধারণত তীব্র দুর্গন্ধ থাকে, যা সহজেই ধরা পড়ে। তাই ডিম ভাঙার পর যদি কোনও অস্বাভাবিক গন্ধ পান, তাহলে সেটি ব্যবহার না করাই উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করলে তার ভিতরে গ্যাস জমতে থাকে। সেই কারণেই পচা ডিম জলে ভেসে ওঠে। তাই ডিম সব সময় ফ্রিজে রাখা এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
সব মিলিয়ে, কয়েকটি সহজ পদ্ধতি জানলেই খুব সহজে বোঝা সম্ভব ডিম ভালো না পচা। এতে যেমন স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকবে, তেমনই অযথা খাবার নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও কমবে।