Cleaning Tips: ঘষাঘষি নয়, কয়েক মিনিটেই ঝকঝকে হবে জানলা-দরজা, বারান্দার গ্রিল

How to Clean Window: বাড়ি পরিষ্কার রাখতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি সময় লাগে জানলা, দরজা আর বারান্দার গ্রিল পরিষ্কার করতে। বিশেষ করে গ্রিলে ধুলো জমে কালচে হয়ে গেলে তা পরিষ্কার করা বেশ ঝামেলার।

Advertisement
ঘষাঘষি নয়, কয়েক মিনিটেই ঝকঝকে হবে জানলা-দরজা, বারান্দার গ্রিল গ্রিলে ধুলো জমে কালচে হয়ে গেলে তা পরিষ্কার করা বেশ ঝামেলার।

How to Clean Window: বাড়ির জানলা, দরজা আর বারান্দার গ্রিল পরিষ্কার করা বেশ ঝক্কির ব্যাপার। গ্রিলে ধুলো জমে কালচে হয়ে গেলে তা পরিষ্কার করা বেশ ঝামেলার। জানলার কোণ এবং দরজার নিচের অংশেও ধুলো, ময়লা ও জালের স্তর জমে যায়।

অনেকেই এই ময়লা পরিষ্কার করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘষাঘষি করেন। কিন্তু একটু বুদ্ধি করে কাজ করলে পরিশ্রম অনেকটাই কমানো যায়। বাড়িতে থাকা সাধারণ জিনিস দিয়েই জানলা, দরজা এবং বারান্দার গ্রিল পরিষ্কার করা সম্ভব। নিয়মিত পরিষ্কার করলে পরে জমাট ময়লাও কম হবে।

প্রথমেই ধুলো সরান
পরিষ্কার করার সময় সবচেয়ে বড় ভুল হল প্রথমেই জল বা ক্লিনার ঢেলে দেওয়া। জানলা বা গ্রিলে জমে থাকা শুকনো ধুলো আগে ঝেড়ে ফেলুন। নরম ব্রাশ, পুরনো টুথব্রাশ বা শুকনো মাইক্রোফাইবার কাপড় ব্যবহার করতে পারেন।

জানলার ট্র্যাক বা দরজার নীচের খাঁজে অনেক ধুলো জমে থাকে। সম্ভব হলে আগে ব্রাশ বা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে সেই ময়লা তুলে নিন। শুকনো ধুলো আগে সরিয়ে নিলে পরে জল লাগিয়ে পরিষ্কার করা অনেক সহজ হয়।

জানলার কাচ ঝকঝকে করার সহজ উপায়
কাচ পরিষ্কার করার জন্য খুব বেশি সাবান ব্যবহার করার দরকার নেই। এক বোতল জলে সামান্য সাদা ভিনিগার মিশিয়ে স্প্রে তৈরি করতে পারেন। একটি সাধারণ জানলা পরিষ্কারের মিশ্রণে প্রায় ৩ টেবিল চামচ ভিনিগার ও ১ কোয়ার্টার জল ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

কাচের উপর অল্প করে স্প্রে করুন। তার পর মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে উপর থেকে নীচে মুছে নিন। শেষে শুকনো কাপড় দিয়ে আবার এক বার মুছে নিন। এতে জলের দাগ এবং হাতের ছাপ অনেকটাই কমে যাবে।

তবে ভিনিগার সব ধরনের পাথর, কাঠ বা বিশেষ প্রলেপ দেওয়া জায়গায় ব্যবহার করা ঠিক নয়। তাই কাচের অংশেই ব্যবহার করা ভাল।

Advertisement

গ্রিল পরিষ্কার  
বারান্দার গ্রিলে সাধারণত ধুলো, দূষণের ময়লা এবং চিটচিটে আস্তরণ জমে। প্রথমে শুকনো ব্রাশ দিয়ে ধুলো ঝেড়ে নিন। এর পর জলে সামান্য ডিটারজেন্ট মিশিয়ে নরম কাপড় বা ব্রাশ ভিজিয়ে গ্রিল মুছুন।

ময়লা বেশি জমে থাকলে পরিষ্কারের মিশ্রণ কয়েক মিনিট রেখে তার পর মুছলে কাজ সহজ হয়। বিশেষ করে গ্রিলের কোণ এবং জোড়ের জায়গাগুলি ভাল করে পরিষ্কার করুন। এই অংশেই সবচেয়ে বেশি ময়লা আটকে থাকে।

লোহার গ্রিল হলে পরিষ্কারের পরে জল জমিয়ে রাখবেন না। কাপড় দিয়ে ভাল করে শুকিয়ে নিন। কারণ দীর্ঘ সময় ভেজা থাকলে ধাতুতে মরচে পড়ার সমস্যা বাড়তে পারে।

দরজার কোণে নজর  
দরজার হাতল, কবজা এবং নীচের অংশে নিয়মিত ময়লা জমে। একটি বালতিতে হালকা গরম জল নিয়ে তাতে সামান্য লিকুইড ডিটারজেন্ট মেশান। কাপড় ভিজিয়ে ভাল করে নিংড়ে নিন। তার পর দরজা মুছে ফেলুন।

কবজার চারপাশে ময়লা জমে থাকলে পুরনো টুথব্রাশ ব্যবহার করতে পারেন। এতে সরু জায়গায় আটকে থাকা ধুলো সহজে বেরিয়ে আসে।

বেকিং সোডা 
গ্রিলে তেলতেলে বা জেদি ময়লা জমলে জল ও বেকিং সোডা দিয়ে হালকা পেস্ট তৈরি করে নির্দিষ্ট জায়গায় ব্যবহার করা যায়। তবে আগে ছোট কোনও অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভাল। ধাতব অংশে ব্যবহার করলে পরে পরিষ্কার জল দিয়ে মুছে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিন।

বেকিং সোডা ও ভিনিগার একসঙ্গে বোতলে ভরে রাখার প্রয়োজন নেই। দু’টি উপাদান একসঙ্গে মেশালে ফেনা তৈরি হলেও তাদের আলাদা পরিষ্কার করার ক্ষমতা কমে যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা ভাবে ব্যবহার করাই ভাল।

সপ্তাহে একবার 
জানলা-দরজা বা বারান্দার গ্রিল একেবারে নোংরা হয়ে যাওয়ার পর পরিষ্কার করতে গেলে বেশি সময় লাগে। তার বদলে সপ্তাহে অন্তত এক বার শুকনো ধুলো ঝেড়ে নিন। দুই সপ্তাহে এক বার ভেজা কাপড় দিয়ে ভাল করে মুছে নিলে ময়লা জমাট বাঁধবে না।

অর্থাৎ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘষাঘষি নয়। আগে শুকনো ধুলো সরান। তার পর প্রয়োজন অনুযায়ী হালকা পরিষ্কারের মিশ্রণ ব্যবহার করুন। শেষে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নিন। এই কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই বাড়ির জানলা, দরজা এবং বারান্দার গ্রিল অনেকটাই পরিষ্কার রাখা সম্ভব। 

POST A COMMENT
Advertisement