প্রতীকী ছবি মুখের জেল্লা বাড়াতে আমরা কত রকম ক্রিম বা প্রসাধনীই না ব্যবহার করি!কিন্তু মুখের আসল সৌন্দর্য তো হাসিতে। আর সেই হাসির ফ্রেম, অর্থাৎ ঠোঁট এবং তার চারপাশ যদি কালচে হয়ে থাকে, তবে পুরো সাজটাই যেন মাটি হয়ে যায়। অনেকেই এই সমস্যায় ভোগেন, কারণ ঠোঁটের কোণের এই কালচে দাগ মুখের সৌন্দর্যকে অনেকটাই ম্লান করে দেয়।
কড়া রোদ, জল কম খাওয়া (ডিহাইড্রেশন), বারবার জিভ দিয়ে ঠোঁট চাটার বদভ্যাস বা রাসায়নিক যুক্ত প্রসাধনীর ব্যবহার— মূলত এসব কারণেই ধীরে ধীরে ঠোঁটের চারপাশের ত্বক কালচে হতে শুরু করে। বাজারচলতি দামি ক্রিম বা কেমিক্যাল প্রোডাক্টের বদলে এই সমস্যার সমাধানে ভরসা রাখতে পারেন একেবারে প্রাকৃতিক উপাদানে। এতে ত্বকের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাও কম, আর বানানোও খুব সহজ। জেনে নিন, ঠোঁটের কোণের কালচে ভাব দূর করার সেই ম্যাজিক ক্রিমের সুলুকসন্ধান।
কী ভাবে বানাবেন এই ঘরোয়া ক্রিম?
এই জাদুকরী ক্রিমটি বানাতে আপনার প্রয়োজন হবে মাত্র তিনটি সাধারণ উপাদানের:
১ চামচ নারকেল তেল
১ চামচ অ্যালোভেরা জেল
১ চামচ মধু
প্রণালী: একটি পরিষ্কার ছোট বাটিতে এই তিনটি উপকরণ একসঙ্গে নিয়ে চামচ দিয়ে খুব ভালো করে ফেটিয়ে নিন। মিনিট খানেক মেশালেই দেখবেন মিশ্রণটি একেবারে মসৃণ একটি ক্রিমের মতো হয়ে গিয়েছে।
কী ভাবে ব্যবহার করবেন?
রোজ রাতে শুতে যাওয়ার আগে ঠোঁটের কোণে এবং চারপাশের কালচে ত্বকে এই ক্রিমটি লাগিয়ে নিন। অন্তত ৫ মিনিট খুব হালকা হাতে মালিশ করুন। এরপর সারা রাত এভাবেই রেখে দিন। সকালে উঠে পরিষ্কার জলে মুখ ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত এই রুটিন মেনে চললে ত্বকের আর্দ্রতা ফিরবে এবং কালচে বা রুক্ষ ভাব অনেকটাই কমে যাবে।
উপাদানগুলির গুণাগুণ
নারকেল তেল: এটি ত্বকের গভীরে গিয়ে পুষ্টি জোগায় এবং ময়েশ্চারাইজারের কাজ করে। রুক্ষ ভাব কমিয়ে ত্বককে নরম ও কোমল করতে এর জুড়ি মেলা ভার।
অ্যালোভেরা জেল: ত্বকে আর্দ্রতা জোগানোর পাশাপাশি অ্যালোভেরা জেল ত্বককে ঠান্ডা রাখে। ত্বকের প্রাকৃতিক জেল্লা ফিরিয়ে আনতেও এটি দারুণ সাহায্য করে।
মধু: মধু একটি চমৎকার প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার। ত্বককে নরম রাখতে এবং স্বাস্থ্যকর গ্লো ফিরিয়ে আনতে মধুর গুণ অনস্বীকার্য।
ঠোঁটের চারপাশ কালচে হওয়া রুখতে যা যা খেয়াল রাখবেন:
সারা দিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খান।
বারবার জিভ দিয়ে ঠোঁট চাটার অভ্যাস সম্পূর্ণ ত্যাগ করুন।
রোদে বা দিনের বেলা বাইরে বেরোনোর আগে অবশ্যই এসপিএফ (SPF) যুক্ত ভালো মানের লিপবাম ব্যবহার করুন।
ধূমপান এবং তামাক জাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকুন।
যে কোনও ঘরোয়া টোটকা পুরো মুখে বা ঠোঁটে ব্যবহারের আগে, হাতের এক কোণে অল্প লাগিয়ে প্যাচ টেস্ট (Patch test) করে নেওয়া জরুরি।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
যদি দেখেন ঠোঁটের কোণের কালচে ভাব দীর্ঘ দিন ধরে রয়ে গিয়েছে বা ক্রমশ বেড়েই চলেছে, তবে তা সাধারণ ভেবে অবহেলা করবেন না। অনেক সময় শরীরে পুষ্টির অভাব, অ্যালার্জি বা অন্য কোনও শারীরিক সমস্যার কারণেও এমনটা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই এক জন ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
সতর্কতা: এই ঘরোয়া উপায়টি ত্বকের সাধারণ পরিচর্যার জন্য দেওয়া হল। ত্বকের ধরন অনুযায়ী এর ফল একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে। ব্যবহারের পর যদি জ্বালা, চুলকানি বা কোনও রকম অ্যালার্জি অনুভব করেন, তবে অবিলম্বে ব্যবহার বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।