গর্তে জল জমলে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ইঁদুর, ছুঁচো-সহ নানা ধরনের ছোট প্রাণী উঁচু, শুকনো আশ্রয় খোঁজে। বর্ষা এলেই বাড়িতে ইঁদুরের উৎপাত বেড়ে যায়। আসলে, গর্তে জল জমলে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ইঁদুর, ছুঁচো-সহ নানা ধরনের ছোট প্রাণী উঁচু, শুকনো আশ্রয় খোঁজে। আর তখনই ঘর, রান্নাঘর, স্টোররুম কিংবা দোকানে ঢুকে পড়ে। ইঁদুরের কারণে খাবার নষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে জামাকাপড়, কাগজপত্র এমনকি বৈদ্যুতিক তারও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ইঁদুর থেকে রোগেরও সম্ভাবনা থাকে। ফলে অনেকেই ইঁদুর তাড়াতে বাজারচলতি রাসায়নিক ব্যবহার করেন।
তবে সব সময় রাসায়নিক ব্যবহার করতে না চাইলে বাড়িতে থাকা কয়েকটি সাধারণ জিনিস দিয়েও ইঁদুরের আনাগোনা কিছুটা কমানোর চেষ্টা করা যায়। তীব্র গন্ধের কয়েকটি জিনিস ইঁদুরের চলাচলের জায়গায় রাখলে তারা সেই এলাকা এড়িয়ে চলতে পারে।
লবঙ্গের গন্ধে ইঁদুরের আনাগোনা কমতে পারে
রান্নাঘরের মশলার বাক্সেই থাকে লবঙ্গ। এর তীব্র গন্ধ ইঁদুরের পছন্দ নয় বলে অনেকে মনে করেন। কয়েকটি লবঙ্গ ছোট কাপড়ের পুঁটলিতে বেঁধে রান্নাঘরের আলমারি, স্টোররুম কিংবা যে জায়গায় ইঁদুরের আনাগোনা বেশি, সেখানে রাখা যেতে পারে। গন্ধ কমে গেলে লবঙ্গ বদলে দিতে হবে।
কর্পূরও হতে পারে ঘরোয়া উপায়
কর্পূরের তীব্র গন্ধও ইঁদুরকে নির্দিষ্ট জায়গা থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। যেখানে ইঁদুরের চলাচল চোখে পড়ে, সেখানে অল্প পরিমাণ কর্পূর রাখা যেতে পারে। তবে বাড়িতে শিশু বা পোষ্য থাকলে অবশ্যই তাঁদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে। বন্ধ ঘরে অতিরিক্ত কর্পূর ব্যবহার না করাই ভাল।
পুদিনার তেল কাজে লাগতে পারে
ইঁদুর তাড়ানোর ঘরোয়া উপায়ের তালিকায় রয়েছে পেপারমিন্ট অয়েল বা পুদিনার তেলও। তুলোয় কয়েক ফোঁটা পুদিনার তেল দিয়ে সেই তুলো ইঁদুরের যাতায়াতের জায়গায় রাখা যেতে পারে। গন্ধ কমে গেলে তুলোটি বদলে দিতে হবে। তবে এটি ইঁদুরকে স্থায়ী ভাবে নির্মূল করবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
তেজপাতা
রান্নায় ব্যবহৃত তেজপাতার গন্ধও ইঁদুর অপছন্দ করে বলে প্রচলিত ধারণা রয়েছে। তাই কয়েকটি শুকনো তেজপাতা ইঁদুরের চলাচলের জায়গায় রেখে দেখা যেতে পারে। গন্ধ কমে গেলে পুরনো পাতা সরিয়ে নতুন তেজপাতা দিতে হবে।
পেঁয়াজের গন্ধ
পেঁয়াজের ঝাঁঝালো গন্ধ ইঁদুরকে কিছুটা দূরে রাখতে পারে বলে অনেকে ব্যবহার করেন। ইঁদুরের আনাগোনার জায়গায় পেঁয়াজের কয়েক টুকরো রাখা যেতে পারে। তবে পেঁয়াজ দ্রুত পচে যায়। তাই নিয়মিত তা বদলাতে হবে। দীর্ঘ সময় পচা পেঁয়াজ ঘরের কোণে ফেলে রাখা উচিত নয়।
শুধু গন্ধ নয়, ইঁদুর ঢোকার পথও বন্ধ করুন
শুধু লবঙ্গ, কর্পূর বা পুদিনার তেলের উপর নির্ভর করলে ইঁদুরের সমস্যা পুরোপুরি মিটবে না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ইঁদুর ঘরে ঢোকার রাস্তা বন্ধ করা। দরজা, দেওয়াল, পাইপের আশপাশ, আলমারি এবং রান্নাঘরের নীচে থাকা ছোট ছোট গর্ত বা ফাঁক ভালো করে পরীক্ষা করুন। সম্ভব হলে সেগুলি বন্ধ করে দিন।
খাবারও খোলা অবস্থায় ফেলে রাখা উচিত নয়। চাল, ডাল, বিস্কুট, ময়দা-সহ সমস্ত শুকনো খাবার ঢাকনাযুক্ত পাত্রে রাখুন। আবর্জনার পাত্রও সব সময় ঢেকে রাখুন। রান্নাঘর এবং স্টোররুম পরিষ্কার রাখলে ইঁদুরের আনাগোনাও কমতে পারে।
মনে রাখবেন: এই ঘরোয়া উপায়গুলির তীব্র গন্ধ সাময়িক ভাবে ইঁদুরকে দূরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে এগুলি ইঁদুর নির্মূল করার নিশ্চিত পদ্ধতি নয়। বাড়িতে শিশু বা পোষ্য থাকলে যে কোনও উপাদান ব্যবহারের আগে তাঁদের নিরাপত্তার কথা অবশ্যই মাথায় রাখুন। সমস্যা বেশি হলে পেশাদার পেস্ট কন্ট্রোলের সাহায্য নেওয়াই ভাল।