আরশোলা তাড়ানোর উপায় ঘর-বাড়ি পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রে আরশোলা চিন্তার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আপাতদৃষ্টিতে এই পতঙ্গকে নিরীহ বলে মনে হলেও, এটি আসলে খুবই ক্ষতিকর। মূলত স্যাঁতেসেঁতে বা আবর্জনা আছে, এরকম স্থানে এই পতঙ্গ বংশবিস্তার করে। খাবার-দাবারের উপর আরশোলা বসে, জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। কীটনাশক ব্যবহার করেও আরশোলার হাত থেকে নিস্তার মেলেনি? ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করছেন, কিন্তু পারছেন না? জানুন না কীভাবে বাড়ি থেকে তাড়াবেন আরশোলা।
তেজপাতা
আরশোলা তাড়ানোর একটি সাশ্রয়ী উপায় হল তেজপাতা ব্যবহার করা। তেজপাতার কড়া গন্ধ এরা একদমই পছন্দ করে না। ৪-৫টি তেজপাতা হালকা করে চূর্ণ বা ভেঙে নিন এবং সেগুলোকে সিঙ্কের নিচে, গ্যাসের পিছনে কিংবা রান্নাঘরের বিভিন্ন কোণায় রেখে দিন। কয়েক দিনের মধ্যেই আপনি এর সুফল বা পার্থক্য লক্ষ্য করতে পারবেন। মনে রাখবেন, প্রতি ৮-১০ দিন অন্তর তেজপাতাগুলো বদলে দেবেন; কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এদের গন্ধ ম্লান হয়ে আসে।
বেকিং সোডা ও চিনি
এই তালিকার দ্বিতীয় উপায়টি হল বেকিং সোডা এবং চিনির মিশ্রণ। সমপরিমাণ বেকিং সোডা ও চিনি একসঙ্গে মিশিয়ে একটি ছোট পাত্রে বা প্লেটে রাখুন। চিনি আরশোলার আকৃষ্ট করে। আর অন্যদিকে বেকিং সোডা এদের তাড়াতে সাহায্য করে। রাতে ঘুমানোর আগে এই মিশ্রণটি নির্দিষ্ট স্থানে রেখে দেওয়াটা বিশেষ কার্যকরী।
রাতে সিঙ্ক সম্পূর্ণ শুকনো রাখা
রাতে সিঙ্কে বা বাসন ধোয়ার জায়গায় অপরিষ্কার বাসনপত্র ফেলে রাখা মানেই হল আরশোলাদের আমন্ত্রণ জানানো। আরশোলা মূলত ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে জায়গাতেই বেশি আকৃষ্ট হয়। তাই, বাসন ধোয়ার পর সিঙ্ক এবং এর আশেপাশের জায়গাটি ভাল করে মুছে বা শুকিয়ে নিতে ভুলবেন না। রাতে ভেজা কাপড়, স্পঞ্জ কিংবা জলের পাত্রগুলো খোলা অবস্থায় ফেলে রাখবেন না।
লেবুর জল
রান্নাঘর পরিষ্কার করার সময় জলের সঙ্গে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এটি কেবল গ্যাস ও মেঝে পরিষ্কারই করে না। এমন একটি সুবাস তৈরি করে যা আরশোলা একদমই পছন্দ করে না। এর ফলে রান্নাঘরটি বেশ সতেজ ও সুগন্ধযুক্তও হয়ে ওঠে।
লবঙ্গ ও নিম
মশলার কৌটো বা খাবার রাখার আলমারিতে ২-৩টি লবঙ্গ রেখে দিন। নিম পাতাও ব্যবহার করা যেতে পারে। এর তীব্র গন্ধ আরশোলা দূরে রাখতে সাহায্য করে।
ময়লার বাস্কেট
আপনি যদি প্রতিদিন ময়লার বাস্কেট পরিষ্কার না করেন, তবে আরশোলা সহজেই সেদিকে আকৃষ্ট হয়। রাতে রান্নাঘরের বর্জ্য ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করুন এবং সপ্তাহে অন্তত দুবার ময়লার ঝুড়িটি ধুয়ে নিন।
ছোট ফাটলও বড় সমস্যার কারণ হতে পারে
আরশোলা প্রায়শই পাইপলাইন, আলমারির ফাটল কিংবা দেয়ালের ছোট ফাঁক-ফোকর দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। তাই, এই জায়গাগুলো বন্ধ করে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট ছোট ফাঁকও বন্ধ করে দিলে আরশোলার উপদ্রব উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।
এসব ঘরোয়া টোটকার বাইরেও মনে রাখতে হবে, অপরিষ্কার ও অগোছালো স্থানে আরশোলার আনাগোনা বেশি হয়। তাই ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখলে আরশোলার উপদ্রব কমাতে পারবেন। ঘরকে এমনভাবে সাজান এবং আসবাবপত্র এমনভাবে রাখুন, যাতে আরশোলা বাসা বাঁধতে না পারে।