যদিও আজকাল অনেক কোম্পানির আচার পাওয়া যায়, কিন্তু ঘরে তৈরি আচারের স্বাদ আলাদা।আমের চাটনির নাম শুনলেই জিভে জল আসে, তাই ভাবুন খেতে কতটা সুস্বাদু হবে। আজ আমরা একটি সুস্বাদু এবং টক-মিষ্টি আমের চাটনির রেসিপি শেয়ার করছি। আমের চাটনির টক-মিষ্টি স্বাদ যেকোনো খাবারের আনন্দ দ্বিগুণ করে দেয়। আমের চাটনি স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। এটি হজমেও সহায়ক বলে মনে করা হয়।
আম এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। তাই দেরি করবেন না। এখানে আমের চাটনির রেসিপিটি শিখে নিন এবং আজই বাড়িতে তৈরি করুন। আপনি এই আমের চাটনি রুটি-সবজি, ডাল-ভাত, পুরি-পরোটা, পাকোড়া বা অন্য যেকোনো খাবারের সঙ্গে উপভোগ করতে পারেন।
আমের চাটনি তৈরির উপকরণ:
১. ছোট আম
২. কাঁচা লঙ্কা
৩. রসুনের কোয়া
৪. আদার টুকরো
৫.খলে পাতা
৬. ভাজা জিরার গুড়ো
৭. এক চিমটি হিং
৮. কালো লবণ
৯. স্বাদমতো সাধারণ লবণ।
১০. গুড়, চিনি বা মধু
১১. ভাজা ছোলা
১২. চিনাবাদাম
১৩.পুদিনা পাতা
১৪. সর্ষে
আমের চাটনি কীভাবে বানাবেন?
আমের চাটনি বানানোর জন্য, প্রথমে কাঁচা আমটিজল দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। তারপর এর খোসা ছড়িয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। আমের থেকে আটিগুলো ফেলে দিন। আপনার জানা উচিত যে এই চাটনি বানানোর জন্য আমটি একেবারে কাচা এবং শক্ত হওয়া উচিত, তবেই এটি সুস্বাদু হবে। আপনি আমের চাটনিতে চিনাবাদাম বা ভাজা ছোলা যোগ করতে পারেন। আপনি চাইলে শুধু আমের চাটনিও বানাতে পারেন। এবার একটি মিক্সিং জারে কাটা আমের সঙ্গে কাচা লঙ্কা, রসুন, পুদিনা, আদ এবং সবুজ ধনে পাতা দিয়ে দিন। এরপর এতে ভাজা জিরার গুঁড়ো, হিং, কালো লবণ এবং সাধারণ লবণ যোগ করুন।
এই উপকরণগুলো যোগ করে আপনি চাটনি তৈরি করতে পারেন। যদি আপনি হালকা মিষ্টি পছন্দ করেন, তাহলে সামান্য গুড়, চিনি বা মধু যোগ করতে পারেন। তারপর, মিক্সিং জারে সামান্য জল দিয়ে চাটনিটি বেটে নিন। খেয়াল রাখবেন চাটনিটি যেন খুব পাতলা না হয়ে বরং সামান্য ঘন হয়। চাটনিটি ভালোভাবে বাটা হয়ে গেলে, একটি বাটিতে ঢেলে নিন। এই ঝাল আমের চাটনি খাওয়ার জন্য প্রস্তুত।
চাইলে এই চাটনিতে সামান্য সর্ষের ফোড়নও দিতে পারেন। এর জন্য, একটি ছোট প্যানে কিছুটা তেল গরম করে তাতে সর্ষের বীজ এবং শুকনো লাল লঙ্কা দিন, এবং যখন সেগুলো ফুটতে শুরু করবে, তখন চাটনির উপর ঢেলে দিন। এটি চাটনির স্বাদবাড়িয়ে তোলে। আপনি যদি নতুন এবং সুগ্ধদু কিছু চেষ্টা করতে চান, তাহলে অবশ্যই আমের চাটনি তৈরি করুন।
আমের চাটনি খাওয়ার উপকারিতা
আমের চাটনি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এই চাটনি গরমকালে শরীরকে ঠান্ডা রাখতেও সাহায্য করে। আমের চাটনিতে থাকা ছেজ্বলা এবং চিনাবাদাম কে প্রোটিনের একটি ভালো উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই চাটনি খেলে পেশী গঠনে সহায়তা হয়। আমের চাটনিতে থাকা পুদিনা এবং জিরা গরমকালে পেট ঠান্ডা রাখে এবং হজমে সাহায্য করতে পারে। আমের চাটনি খেলে ওজন কমাতেও সাহায্য হতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, এই আমের চাটনিতে চিনি, গুড় এবং মধু যোগ করা হয়েছে। এর উচ্চ প্রোটিন উপাদানের কারণে, এটি খাওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে।