তালের বড়া রেসিপিবাঙালির উৎসব-পার্বনের মধ্যে জন্মাষ্টমী অন্যতম। এদিন নাড়ু গোপালের আরাধনা হয় বাংলার ঘরে ঘরে। আর জন্মাষ্টমীর উৎসব সম্পূর্ণ হয় না তালের বড়া ছাড়া। কিন্তু শুধু পার্বণে নয়, তালের মরসুম এলে এখনও বহু বাড়িতেই তালের বড়া তৈরি হয়। উপাদান মোটমুটি এক রকম হলেও, রন্ধনপ্রণালীতে কিছু তফাত থেকেই যায়। ঠিক সেই কারণেই কোনও কোনও বাড়ির তালের বড়া ভীষণ সুস্বাদু হয়। ঠান্ডা হলেও বড়ার স্বাদ থাকে দারুণ। ভিতরটি থাকে নরম। আবার উপকরণের পরিমাণের এদিক-ওদিক হলে কষ্ট করে তৈরি করা বড়া শক্তও হয়ে যেতে পারে।
তালের গুণমান যত ভাল হবে, তালের বড়ার স্বাদও ভাল হবে। তালের বড়া তৈরির জন্য দরকার পাকা তাল। কিন্তু তালের তেতো ভাব অনেক সময়ই বড়ার স্বাদকে নষ্ট করে দেয়। তাই আসুন শিখে নিই তালের শাঁস বের করা থেকে বড়ার রেসিপি। যাতে আপনিও পারফেক্য় তালের বড়া বানাতে পারেন।
উপকরণ
পাকা তালের শাঁস-১ কাপ
গুড় বা চিনি-৩/৪ কাপ (তালের মিষ্টি অনুযায়ী পরিমাণ ঠিক করে নিন)
গমের আটা বা চালের গুঁড়ো – ১/২ কাপ (চালের গুঁড়ো দিলে হালকা ক্রিস্পি হবে, গমের আটা দিলে বেশি নরম হবে)
নারকেল কুরানো – ১/৪ কাপ (স্বাদ ও নরমভাবের জন্য)
এক চিমটি লবণ – স্বাদ ভারসাম্যের জন্য
সোডা বা বেকিং পাউডার – অল্প (নরমভাব আনতে)
ঘি – ১ চা চামচ (মিশ্রণে দিলে বড়া তুলতুলে হয়)
প্রণালী
তালের বড়ার মূল প্রাণ হচ্ছে তাল। পুরোপুরি পাকা, মিষ্টি আর সুঘ্রাণযুক্ত তাল ব্যবহার করলে বড়ার স্বাদ ও নরমভাব দুটোই বাড়ে। কাঁচা বা আধাপাকা তাল ব্যবহার করলে বড়া শক্ত হয়ে যায়, কষাভাব থেকে যায়।
তালের খোসা ছাড়িয়ে শাঁস বের করে নরমভাবে মেখে নিন। তারপর কাপড় বা ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে নিন, যাতে আঁশ বাদ যায়। এই ছাঁকা রস বড়াকে মসৃণ আর নরম রাখতে সাহায্য করে।
সব উপকরণ ভালভাবে মিশিয়ে মসৃণ ব্যাটার তৈরি করুন। মিশ্রণ খুব ঘন হলে বড়া শক্ত হবে, আর খুব পাতলা হলে ভাজার সময় ছড়িয়ে যাবে। তাই মাঝারি ঘনত্ব রাখুন।
মিশ্রণ তৈরি করার পর অন্তত ৩০ মিনিট ঢেকে রেখে দিন। এতে আটা বা চালের গুঁড়ো ফুলে উঠবে। বেকিং পাউডারের কাজ শুরু হবে, ফলে বড়া ফুলবেও আবার নরমও হবে।
ভাজার জন্য মাঝারি আঁচে তেল গরম করুন। তেল অতিরিক্ত গরম হলে বড়ার বাইরের অংশ দ্রুত লাল হয়ে ভেতর কাঁচা থেকে যাবে, আর তেল কম গরম হলে বড়া বেশি তেল শুষে নেবে, শক্ত হবে।
এক চামচ করে মিশ্রণ তেলে ছাড়ুন এবং হালকা নাড়ুন যাতে আটকে না যায়। আঁচ মাঝারি থেকে কম রাখুন। ধীরে ভাজলে ভেতর পর্যন্ত সমানভাবে সেদ্ধ হবে এবং নরম থাকবে, বাইরে হালকা খাস্তাও হবে।
বড়া তেল থেকে তুলেই চাপ দেবেন না, এতে ভেতরের বাষ্প বেরিয়ে গিয়ে শক্ত হয়ে যাবে। কিচেন টিস্যুতে রেখে স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হতে দিন।
মিশ্রণে দুধের বদলে নারকেলের দুধ ব্যবহার করলে স্বাদ বাড়ে ও নরমভাব আরও বেশি হয়। গুড় গলানোর সময় সামান্য আদার রস দিলে হজমে সাহায্য করে ও আলাদা সুবাস আনে।