নিরামিষ মাংসপরের মাসেই বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গাপুজো। আর পুজো মানেই দেদার খাওয়া-দাওয়া, লেট নাইট ঠাকুর দেখা, প্যান্ডেল হপিং। এই সময় অনেক বাড়িতেই নিরামিষ খাওয়ার চল থাকে। আবার অনেক বনেদি বাড়ির পুজোতে মায়ের ভোগে থাকে পাঁঠার মাংস। তবে সেটা আমিষভাবে নয়, সম্পূর্ণ নিরামিষভাবে তৈরি করা হয়। বাঙালিরা নিরামিষ মাটনও রাঁধতে জানেন তবে বিহারের মৈথিলী মাংসের রেসিপিও একেবারে পেঁয়াজ-রসুন ছাড়াই। খেতে হয় অসাধারণ। পুজোর যে কোনও একটি দিনেই এই মৈথিলী মাংস রেঁধে নিতে পারেন।
উপকরণ
খাসির মাংস, টক দই, আদা বাটা, লাল লঙ্কার গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো, জিরে গুঁড়ো, দারচিনির গুঁড়ো, হিং, ঘি, ৪-৫টি ছোট এলাচ, চিনি, সর্ষের তেল ও স্বাদমতন নুন।
পদ্ধতি
মাটন ম্যারিনেট করে রাখুন। যার জন্য টক দই, লঙ্কার গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো, জিরে গুঁড়ো, সর্ষের তেল, দারুচিনি গুঁড়ো, আদাবাটা আর হিং মাখিয়ে নিন মাংসের গায়ে।
ঘণ্টা দুয়েকের জন্য মাংসটা ম্যারিনেট করে রাখলে রান্নাটা তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে এবং মাংসের মধ্যে সব মশলা ঢুকবে। সারারাত ম্যারিনেট করে রাখতে পারলে খুব ভাল।
এরপর কড়াই গরম করুন। তার মধ্যে ম্যারিনেট করে রাখা মাংসটা দিয়ে দিন। ঢাকা দিয়ে মাংসটা সিদ্ধ করুন। মিনিট দশেক পরে ঢাকা সরিয়ে স্বাদমতো নুন এবং গরম জল মিশিয়ে দিন।
মাংসটা একটু নেড়েচেড়ে দিয়ে আবার ঢাকা দিয়ে দিন। আর এক কাপ গরম জল দিয়ে প্রেশার কুকারেও মাংসটা দিয়ে দিতে পারেন।
মাংসটা সিদ্ধ হয়ে গেলে পাশের গ্যাসে আর একটা কড়াই গরম বসান। তাতে ঘি গরম করুন। এক চিমটে চিনি দিয়ে দিন। চিনিতে রং ধরলে এর মধ্যে ছোট এলাচ, লবঙ্গ, দারুচিনির টুকরো এবং হিং মিশিয়ে দিন। সুগন্ধ বেরোলে এতে রান্না করা মাংসটা মিশিয়ে দিন।
মিনিট পাঁচেক ভালো করে কষে নিন। ঝোলের উপর তেল ভেসে উঠলে বুঝবেন তৈরি মৈথিলী মাংস। গরম ভাত, পোলাও বা পরোটা-লুচির সঙ্গে পরিবেশন করতে পারেন মৈথিলী মাংস।