Milk Curdling Prevention: প্রচণ্ড গরমে দুধ প্রায়ই ফেটে যায়? ফোটানোর সময় যোগ করুন এক চিমটি এই জিনিস

Milk Curdling: গ্রীষ্মকালের ক্রমাগত বাড়তে থাকা তাপমাত্রা হল দুধের সবচেয়ে বড় শত্রু। তীব্র গরমে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে এবং দুধের মধ্যে থাকা 'ল্যাকটোজ' উপাদানটিকে অ্যাসিডে রূপান্তরিত করে ফেলে।

Advertisement
প্রচণ্ড গরমে দুধ প্রায়ই ফেটে যায়? ফোটানোর সময় যোগ করুন এক চিমটি এই জিনিসদুধ ফেটে যাওয়ার সমাধান

গ্রীষ্মকালে রান্নাঘরের জিনিসপত্র দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। কাঁচা শাকসবজি হোক বা রান্না করা খাবার, কোনও কিছুই দীর্ঘক্ষণ বাইরে ফেলে রাখলে তা নষ্ট হতে বাধ্য। দুধেরও খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। গ্রীষ্মকালে ঘন ঘন দুধ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় মানুষ প্রায়ই বিপাকে পড়েন। এমনকী, সদ্য ফোটানো দুধও সন্ধ্যার মধ্যেই নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় বারবার ফোটানোর পরেও দুধে ছানা কেটে যায় বা দলা পাকিয়ে যায়। এর ফলে কেবল দুধই নষ্ট হয় না, টাকাও অপচয় হয়, যা সত্যিই অত্যন্ত হতাশার।

গ্রীষ্মকালের ক্রমাগত বাড়তে থাকা তাপমাত্রা হল দুধের সবচেয়ে বড় শত্রু। তীব্র গরমে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে এবং দুধের মধ্যে থাকা 'ল্যাকটোজ' উপাদানটিকে অ্যাসিডে রূপান্তরিত করে ফেলে। ঠিক এই কারণেই দুধ টক হয়ে যায় এবং ছানা কেটে যায়। আপনিও যদি ঘন ঘন দুধ নষ্ট হয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভুগে থাকেন, তবে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। কিছু সহজ ও ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করে দুধ নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচানো এবং দীর্ঘ সময় ধরে তা সতেজ রাখা সম্ভব।

কেনার পরই দুধ ফুটিয়ে নিন: বাজার বা ডেইরি শপ থেকে দুধ কিনে বাড়ি আনার পরই তা ফুটিয়ে নিন। এতে দুধে উপস্থিত অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়ে যায় এবং দুধ দ্রুত নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা পায়। গ্রীষ্মকালে দুধ দীর্ঘক্ষণ সতেজ রাখার জন্য দিনে অন্তত ১ থেকে ২ বার ফুটিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

ঠান্ডা করে অবিলম্বে ফ্রিজে রাখুন: দুধ ফোটানোর পর তা দীর্ঘক্ষণ বাইরে ফেলে রাখবেন না। দুধের তাপমাত্রা কিছুটা কমে বা ঠান্ডা হয়ে এলেই তা অবিলম্বে ফ্রিজে ঢুকিয়ে দিন। ফ্রিজের দরজার তাকে দুধ রাখবেন না, এ বিষয়ে সতর্ক থাকুন; কারণ ফ্রিজের দরজা বারবার খোলা-বন্ধ করার ফলে ওই অংশের তাপমাত্রা ওঠানামা করতে থাকে। দুধ সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজের ভেতরের তাকগুলোই সবচেয়ে উপযুক্ত, যেখানে তাপমাত্রা বা শীতলতা সর্বদা স্থির থাকে। এতে দুধ দীর্ঘ সময় ধরে সতেজ ও ভাল থাকে।

Advertisement

পরিষ্কার ও শুকনো পাত্র ব্যবহার করুন: গ্রীষ্মকালে দুধ গরম করা বা সংরক্ষণ করার জন্য সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং সম্পূর্ণ শুকনো পাত্র ব্যবহার করুন। ভেজা বা অপরিষ্কার পাত্র ব্যবহার করলে তাতে ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি ঘটে এবং দুধ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। দুধ সংরক্ষণের জন্য স্টিলের পাত্রকেই সবচেয়ে উপযুক্ত বলে মনে করা হয়।

এক চিমটি বেকিং সোডার কৌশল: দুধ ফোটানোর সময় তাতে এক চিমটি বেকিং সোডা মিশিয়ে দিলে দুধ টক হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি ধীরগতি হয়ে যায়। এর ফলে দুধ দ্রুত নষ্ট হওয়া বা ছানা কেটে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়। তবে খেয়াল রাখবেন, বেকিং সোডার পরিমাণ যেন খুব সামান্য হয়; অন্যথায় দুধের স্বাদ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। 

বারবার গরম করা থেকে বিরত থাকুন: দুধ বারবার গরম ও ঠান্ডা করলে এর গুণমান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দুধ ছানা হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। সবচেয়ে ভাল হয়, আপনার ঠিক যতটুকু দুধ প্রয়োজন, কেবল ততটুকুই গরম করে নিলে এবং বাকিটা ফ্রিজে রেখে দিলে।

ছোট ছোট অংশে সংরক্ষণ করুন: আপনার কাছে যদি প্রচুর পরিমাণে দুধ থাকে, তবে তা একটি বড় পাত্রে না রেখে ছোট ছোট পাত্রে ভাগ করে রাখুন। এতে প্রতিবার ব্যবহারের সময় পুরো দুধটুকু ঢেলে নেওয়ার প্রয়োজন হবে না এবং অবশিষ্ট দুধ নিরাপদ ও সতেজ থাকবে।

 

POST A COMMENT
Advertisement