Human Brain : হু হু করে সাইজ কমছে মানুষের মস্তিষ্কের, যে কোনও দিন লোপ পাবে স্মৃতিশক্তি

মানুষের মস্তিষ্ক ক্রমাগত সঙ্কুচিত হচ্ছে। আকার কমছে। এতে লোপ পেতে পারে স্মৃতিশক্তি। এমনকী যে কোনওদি আপনি অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন। তাই কী কী করা দরকার এখন থেকেই জেনে সচেতন হল।

Advertisement
হু হু করে সাইজ কমছে মানুষের মস্তিষ্কের, যে কোনও দিন লোপ পাবে স্মৃতিশক্তি প্রতীকী ছবি
হাইলাইটস
  • মানুষের মস্তিষ্ক ক্রমাগত সঙ্কুচিত হচ্ছে
  • কারণ কী জানেন ?

মানুষের মস্তিষ্ক ক্রমাগত সঙ্কুচিত হচ্ছে। আকার কমছে। কারণ জলবায়ু পরিবর্তন।  জলবায়ু পরিবর্তনের হার যেমন বাড়বে। মানুষের মস্তিষ্ক ততটাই ছোট হতে থাকবে। নতুন এক গবেষণায় এই ভয়ঙ্কর তথ্য সামনে এসেছে। আসুন জেনে নিই কি বলছে এই গবেষণা? (সমস্ত ছবি: AP/Getty/Flickr)

মানুষের কাছে জলবায়ু পরিবর্তন এবং এর সাথে মানবদেহের পরিবর্তনের ৫০ হাজার বছরের পুরানো রেকর্ড রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের বিজ্ঞানী জেফ মরগান স্টিবল অধ্যয়ন করেছেন কিভাবে মানুষ পরিবর্তনশীল জলবায়ুর চাপ সহ্য করে। তাঁর গবেষণাপত্রে তিনি লিখেছেন যে এই মুহূর্তে সারা বিশ্বে যেভাবে আবহাওয়ার পরিবর্তন হচ্ছে। তাপমাত্রা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মানুষের মনে বোঝা সহজ নয়। কিন্তু এর কারণে মানুষের মন সংকুচিত হয়ে ছোট হয়ে আসছে। এর প্রভাব পড়ছে আচরণেও। এমনকী এর ফলে আপনার স্মৃতিশক্তি ও লোপ পেতে পারে। 

গবেষণায়, জেফ মরগান ২৯৮ জন মানুষের মস্তিষ্কের আকার নিয়ে গবেষণা করেছেন। মানে বৃদ্ধ মানুষের জীবাশ্ম মস্তিষ্ক। যেগুলো ৫০ হাজার বছরের পুরনো থেকে নতুন। গবেষণাটি বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং বৃষ্টিপাতের ডেটাও দেখেছিল। কিন্তু তা থেকেই বিস্ময়কর তথ্য সামনে আসছে। গবেষণায় উল্লেখ, যখনই আবহাওয়া গরম থাকে। মস্তিষ্কের গড় আকার কমতে শুরু করে। অন্যদিকে, এটি শীতকালে প্রসারিত হয়। জেফ মরগান বলেছেন যে এটি আমার পুরানো গবেষণায়ও প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু আমি এর শিকড়ে যেতে চেয়েছিলাম। সময়ে সময়ে মানুষের মন পরিবর্তন হতে থাকে। কিন্তু এর গবেষণা খুবই কম হয়েছে।

জেফ বলেন, গত কয়েক মিলিয়ন বছরে অনেক প্রজাতির প্রাণীর মস্তিষ্ক বেড়েছে। বিকশিত হয়েছে। উল্টোটা ঘটছে মানুষের সাথে। জেফ ৫০ হাজার বছর পুরনো ২৮৯টি মানুষের খুলির ৩৭২  পরীক্ষা করেছেন। এর পাশাপাশি যে ভৌগোলিক স্থান থেকে খুলিটি পাওয়া গেছে তার আবহাওয়াও খতিয়ে দেখা হয়েছে। যাতে জলবায়ু সম্পর্কে জানা যায়। হলসিনের শুরু থেকে অর্থাৎ প্রায় ১২ হাজার বছর আগে, মানুষের মস্তিষ্কের আকার ১০.৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। জেফ বলেছেন যে শেষ হিমবাহ সর্বোচ্চ ছিল ১৭ হাজার বছর আগে। এরপর থেকে প্রতিনিয়ত তাপমাত্রার পরিবর্তন হচ্ছে। আবহাওয়া বদলে যাচ্ছে। যার কারণে মানুষের মন ছোটো হয়ে যাচ্ছে।

Advertisement

মানব মস্তিষ্ক ৫ থেকে ১৭ হাজার বছরের মধ্যে আরও সঙ্কুচিত হয়েছে। এর কারণ বৈশ্বিক উষ্ণতা। তা ক্রমাগত বাড়ছে। যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে মানুষের মনে খারাপ হবে। সাইজ ছোট হবে। ছোট মস্তিষ্ক শরীরের উপর প্রভাব ফেলবে। আচরণ প্রভাবিত হবে। কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, এটাই গবেষণার বিষয়। জেফ বলেন, আমার গবেষণায় এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানুষের মস্তিষ্ক সঙ্কুচিত হচ্ছে। আকার ছোট হয়ে আসছে। ভবিষ্যতে আরও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছে। ব্রেইন, বিহেভিয়ার অ্যান্ড ইভোলিউশন জার্নালে এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের দাবী, মস্তিষ্ক ছোটো হওয়ার ফলে মানুষের আচরণ ও ব্যবহারে প্রভাব পড়ছে। মেজাজে বিশেষত। খিটখিটে স্বভাব, কোনও কিছুতে সন্তুষ্ট না হওয়ার মতো আচরণ প্রকাশ্যে আসছে। যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও ভালো নয়। রাগ, ক্রোধ দ্রত হচ্ছে অনেকের। এটা ভালো লক্ষণ নয়। জলবায়ু পরিবর্তন যেমন মানুষের মস্তিষ্কের সংকুচিত হওয়ার একটা কারণ তেমনই বিজ্ঞানীদের দাবী, এর ফলে মদ্যপান, ঘুম কম হওয়া, প্রতিদিন অত্যন্ত স্পাইসি খাবার খাওয়া, মোবাইলের অভ্যেস, এই সব হল মস্তিষ্ককে ছোটো করার অন্যতম কারণ। এতে হতে পারে ব্রেন ক্যানসার। ভাবনাচিন্তাও লোপ পেতে পারে এতে। তাই সাবধান। 

 

POST A COMMENT
Advertisement