ঝিঙের রসগোল্লাঝিঙে দেখলে অনেকেই নাক সিঁটকান। বিশেষত শিশুরা। পুষ্টিকর এই সবজি নিয়ে সারাক্ষণ শিশুর পিছন পিছন ঘুরে নাজেহাল হয় মায়েরা। না ঝোলে, না তরকারিতে, কোনওভাবেই ঝিঙে মুখে তুলতে চায় না তারা। কিন্তু শিশুকে এই পুষ্টিকর সবজি খাওয়ার দারুণ এক রেসিপি রয়েছে। মায়েরা চটপট বানিয়ে ফেলতে পারেন ঝিঙের রসগোল্লা।
ঘি, কাজুবাদাম দিয়ে তৈরি এই ঝিঙের এই রসগোল্লা শিশুদের পছন্দ হবেই হবে। শুধু শিশুরাই নয়, বড়রাও যারা ঝিঙে খেতে পছন্দ করেন না, তারাও খাবেন তৃপ্তি করে।
কী কী উপকরণ লাগবে?
২টি বড় ঝিঙে, ১টি গাজর, একটু বরবটি, ৫০ গ্রাম মটর ডাল, পরিমাণ মতো সর্ষের তেল, ২ চা-চামচ আদাবাটা, ২টি তেজপাতা, ২টি দারচিনি, ৪টি এলাচ, ১ চা-াচমচ গোটাজিরে, ১২টি কাজু, আধ লিটার গরম দুধ, ১ চা-চামচ চিনি, ১ চা-চামচ ঘি, স্বাদমতো কাঁচালঙ্কা, গোলমরিচের গুঁড়ো, স্বাদমতো নুন।
কীভাবে বানাবেন ঝিঙের রসগোল্লা?
২ ঘণ্টা ধরে মটর ডাল এবং পোস্ত জলে ভিজিয়ে রাখতে হবে। ঝিঙগুলির খোসা ছাড়িয়ে ডুমো ডুমো করে কেটে নিতে হবে। গোল গোল করে কেটে নিতে হবে গাজর। বরবরটিগুলিকে ২ ভাগ করতে হবে।
মিস্কিতে বাটতে হবে ডাল, ৫ গ্রাম আদা, স্বাদমতো নুন। আদা একটু দানা দানা থাকলেই ভাল। তারপর ওই মিশ্রণ দিয়ে বড়া বানিয়ে নিন। কড়াইয়ে সর্ষের তেল দিয়ে ডালের এই বড়াগুলি ভেজে নিন। ওই তেলেই তেজপাতা, এলাচ, দারচিনি, জিরে ফোড়ন দিয়ে আদাবাটা মিশইয়ে দিন বাকিটা। খানিকক্ষণ নাড়াচাড়া করে তাতে দিন ঝিঙে, গাজর ও বরবটি। মিনিটখানেক নাড়িয়ে নুন দিন। তারপর আরও খানিকক্ষণ ভাজুন।
মিক্সিসে কাজুবাদাম ও সামান্য দুধ মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে নিন। এবার সেটি মিশিয়ে দিন কড়াইয়ে। সঙ্গে এক গ্লাস গরম দুধও ঢেলে দিন।
সবজির নিজস্ব জল বেরিয়ে এলে বুঝতে হবে সেগুলি প্রায় সেদ্ধ হয়ে গিয়েছে। এবার দুধ ও কাজুবাদাম দিয়ে ভাল করে ফুটিয়ে নিন। তারপর গোলমরিচের গুঁড়ো মিশিয়ে দিন। ঢাকা দিয়ে কম আঁচে রান্না করুন। কাঁচালঙ্কা চিরে দিয়ে দিন কড়াইয়ে। এরপর তাতে ডালের বড়া, চিনি ও ঘি মিশিয়ে দিন ভাল করে নাড়িয়ে। ব্যস তৈরি ঝিঙের রসগোল্লা।