টকডালের উপকারিতাগরমের তাপ রোজই বাড়ছে। বৈশাখের আগেই চৈত্রের গরমে প্রাণ ওষ্ঠাগত। আর এই সময় শরীর ও মনকে ঠান্ডা রাখতে অনেকেই অনেক কিছু খেয়ে থাকেন। এখন গাছে গাছে ঝুলছে কাঁচা আম। বাজারেও মিলছে তা। মরশুমের এই কাঁচা আম দিয়ে খেতে পারেন ভিন্ন স্বাদের টক ডাল। এটি যেমন খেতে সুস্বাদু তেমনি পুষ্টিগুণেও ভরা। সকাল কিংবা দুপুরের খাবারে ভাতের সঙ্গে আমের টক ডাল হতে পারে এই সময়ের অন্যতম মেন্যু।
টক ডালের উপকার
বিশিষ্ট চিকিৎসকদের মতে মুসুর ডাল দিয়ে কাঁচা আমের টক ডাল এই গরমে হজমের জন্য উপকারী এবং গরমের ক্লান্তি ভাব ও এবং মুখের অরুচি ভাব কাটাতে একমাত্র এই টক ডালে আছে এই উপকার। তাছাড়া এই ডাল খাওয়ার পর ঘুমও ভাল হয়।
কাঁচা আম ও মুসুর ডালের পুষ্টি
মসুর ডাল প্রোটিনের আধার। তাই একে মাংসের বিকল্প হিসেবেও ধরা হয়। মসুর ডাল শুধু সুস্বাদুই নয় এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিগুণ। যেমন, খনিজ পদার্থ, আঁশ, খাদ্যশক্তি, আমিষ, ক্যালসিয়াম, লৌহ, ক্যারোটিন, ভিটামিন বি-২ ও শর্করা ইত্যাদি। অন্যদিকে কাঁচা আম ভিটামিন সমৃদ্ধ ও মিনারেলে ভরপুর। এতে আছে ক্যারোটিন ও ভিটামিন, যা চোখ ভালো রাখার জন্য দরকারি। কাঁচা আমে বিটা ক্যারোটিন থাকায় হৃৎপিণ্ডের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়াও এতে আছে ভিটামিন বি-১ ও ভিটামিন-২। আছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাসিয়াম।
কীভাবে করবেন টক ডাল
টক ডাল তৈরি করতে আপনার লাগবে মুসুর এক কাপ, কাঁচা আম একটি, হলুদ গুঁড়ো আধা টেবিল চামচ, চিনি আধা টেবিল চামচ, সর্ষে এক চামচ, শুকনো লঙ্কা দু-তিনটি, সর্ষের তেল এক টেবিল চামচ, নুন স্বাদমত।
পদ্ধতি
প্রথমে নুন ও হলুদ দিয়ে মুসুর ডাল সেদ্ধ করে নিন। আম কেটে নিন সরু সরু করে।
অন্য একটি কড়াইতে সর্ষের তেল গরম করে তাতে গোটা সর্ষে, গোটা শুকনো লঙ্কা ও কেটে রাখা আমগুলো দিয়ে দিন।
নাড়াচাড়া করে সেদ্ধ করা মুসুর ডাল দিয়ে দিন। এতে চেরা কাঁচালঙ্কা দিন।
স্বাদমতো নুন ও চিনি দিয়ে দিন। ডাল একটু ফুটে উঠলেই নামিয়ে নিন আম দিয়ে টক ডাল।
গরম ভাতে এই ডাল ঠান্ডা করে খাবেন। দারুণ ভাল লাগবে।