লক্ষ্মীপুজোর ভোগে সুজি-লুচিধনদেবী মা লক্ষ্মীকে তুষ্ট করতে কোজাগরী পূর্ণিমার পুজোয় শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে ভোগ নিবেদনের গুরুত্ব অপরিসীম। মা লক্ষ্মী কেবল ধনের দেবী নন, তিনি শ্রী, সমৃদ্ধি এবং অন্নপূর্ণার প্রতীক। কথিত রয়েছে, লক্ষ্মীপুজোর রাতে ভক্তিভরে মনঃপূত নৈবেদ্য নিবেদন করলে গৃহের দারিদ্র্য দূর হয়। তাই পুজোর থালায় নির্দিষ্ট কিছু ঐতিহ্যবাহী প্রসাদ রাখা একান্ত আবশ্যক বলে মনে করা হয়। ২৫ অক্টোবর রীতি মেনেই সকলের বাড়িতে কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো করা হবে। এই সময় অনেকেই মা লক্ষ্মীকে খিচুড়ি-লাবড়া, পায়েসের ভোগ দেন। আবার কেউ কেউ লুচি-সুজির ভোগও দিয়ে থাকেন। আসুন তাহলে জেনে নিন এই লুচি ও সুজি কীভাবে তৈরি করবেন?
কোজাগরী ভোগে ঘিয়ে ভাজা লুচির সঙ্গে সুজির হালুয়া নিবেদনের প্রথা রয়েছে। জ্যোতিষ ও শাস্ত্রে ঘৃত এবং শস্যদানা সমৃদ্ধি ও প্রাচুর্যের বাহক। সুজি ও ঘৃত সহযোগে তৈরি মিষ্টি প্রসাদ মায়ের নৈবেদ্যে পূর্ণতা আনে। দেবীকে সন্তুষ্ট করতে এবং পারিবারিক উন্নতি তরান্বিত করতে এই উপাচার অর্পণ করার বহুল প্রচলন রয়েছে।
লুচির উপকরণ
ময়দা ১ কেজি
ঘি
সামান্য চিনি ও নুন
ভাজার জন্য ঘি বা সাদা তেল
পদ্ধতি
প্রথমে লুচি তৈরির জন্য ময়দায় ঘি ও চিনি-নুন মিশিয়ে ভাল করে ময়ান দিয়ে দিন। খুব ভালভাবে অনেকক্ষণ ধরে মাখলে তবেই ডো নরম হবে আর লুচি ফুলবে। এরপর কড়াইতে ঘি অথবা সাদা তেল ভাল করে গরম করে নিতে হবে। এবার ডো থেকে ছোট ছোট লেচি কেটে নিয়ে লুচির আকারে বেলে ছাঁকা তেলে ভেজে নিন। ব্যস তৈরি আপনার সাদা লুচি। এবার সুজি তৈরির পালা।
সুজির হালুয়া উপকরণ
সুজি ২ কাপ
দুধ ১ লিটার
চিনি
কাজু ও কিশমিশ
এলাচ
তেজপাতা
ঘি
পদ্ধতি
প্রথমে শুকনো কড়াইতে সুজি ভেজে নিন। সামান্য লাল হলে নামিয়ে নিন। দুধ ফুটিয়ে রাখুন। এরপর কড়াইতে ঘি গরম করে প্রথমে কাজু-কিশমিশ ভেজে আলাদা করুন। ওই ঘিতে গোটা এলাচ ও তেজপাতা দিন। সুন্দর গন্ধ বেরোলে সুজি দিয়ে দিন। একটু নাড়াচাড়া করেই এতে ফুটিয়ে রাখা দুধ ও চিনি যোগ করুন। দুধ শুকিয়ে আসলেই কাজু-কিশমিশ দিয়ে নামিয়ে নিন। ওপর থেকে ঘি ছড়িয়ে দিলে আরও ভাল। এরপর লুচি ও সুজির হালুয়া নিবেদন করুন লক্ষ্মীদেবীকে।