বাতকর্মের নিরিখে এগিয়ে কারা?বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুসারে, মহিলাদের গ্যাস বেশি দুর্গন্ধযুক্ত হয়, অন্যদিকে পুরুষরা বেশি গ্যাস উৎপাদন করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে মহিলাদের বায়ুত্যাগে হাইড্রোজেন সালফাইডের ঘনত্ব বেশি থাকে, যার ফলে এর গন্ধ আরও তীব্র হয়।
এই প্রশ্নটি শতাব্দী ধরে বিতর্কের বিষয় হয়ে আসছে। এখন, ওয়াশিংটন পোস্টের 'আস্ক আ ডক্টর' কলামে প্রকাশিত একটি গবেষণা এর উত্তর পাওয়া গিয়েছে। গবেষণাটি বলছে, মহিলাদের বাতকর্ম বা ফ্ল্যাটাস বেশি দুর্গন্ধযুক্ত হয়, কিন্তু পুরুষরা বেশি গ্যাস উৎপাদন করে।
আমাদের শরীর প্রতিদিন খাদ্য হজম করে। পাকস্থলী ও অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া খাদ্যকে ভেঙে গ্যাস তৈরি করে। বেশিরভাগ গ্যাসই গন্ধহীন—যেমন নাইট্রোজেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড, অক্সিজেন এবং হাইড্রোজেন। তবে, কিছু গ্যাসে সালফার থাকে, যা দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। সবচেয়ে তীব্র গন্ধযুক্ত গ্যাস হলো হাইড্রোজেন সালফাইড, যার গন্ধ পচা ডিমের মতো।
একজন সাধারণ মানুষ দিনে ১০ থেকে ২৩ বার বাতকর্ম করে। প্রতিবার বায়ু ত্যাগের পরিমাণ অল্প হলেও, খাদ্যাভ্যাস, ব্যাকটেরিয়া এবং শারীরিক গঠনের ওপর নির্ভর করে এর গন্ধ ও পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।
গবেষণাটি কীভাবে পরিচালিত হয়েছিল? বিজ্ঞানীরা কী করেছিলেন?
গবেষণাটি পরিচালনা করেন ডক্টর মাইকেল লেভিট। গ্যাস নিয়ে তাঁর ব্যাপক গবেষণার কারণে তিনি ‘কিং অব ফার্টস’ নামেও পরিচিত। এই গবেষণায় ১৬ জন সুস্থ পুরুষ ও মহিলা অংশগ্রহণ করেন।
বিজ্ঞানীরা গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর জন্য মানুষকে বিনস ও জোলাপ খাইয়েছিলেন। এরপর, প্রত্যেক ব্যক্তির শরীরে একটি বিশেষ সিস্টেম লাগানো হ, একটি রেক্টাল টিউব যা গ্যাস সংগ্রহ করে একটি ব্যাগে জমা করত। এভাবে সমস্ত গ্যাস সংগ্রহ করা হয়েছিল। এরপর গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করে তাতে হাইড্রোজেন সালফাইডের পরিমাণ মাপা হয় এবং দুজন বিচারক (যাঁরা জানতেন না যে এটি মানুষের গ্যাস) গন্ধটি শুঁকে ০ থেকে ৮ এর স্কেলে তার মাত্রা নির্ধারণ করেন। ফলাফল ছিল হতবাক করার মতো।
পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের গ্যাসে হাইড্রোজেন সালফাইডের ঘনত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। বিচারকরা মহিলাদের গ্যাসকে আরও দুর্গন্ধযুক্ত ও তীব্র বলেও মূল্যায়ন করেছেন। এর মানে হলো, মহিলাদের গ্যাসের গন্ধ আরও বেশি প্রকট।
পুরুষদের গ্যাসের বিশেষত্ব কী?
গবেষণাটিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। পুরুষরা বেশি বায়ু ত্যাগ করে। প্রতিবার বায়ু ত্যাগের পরিমাণ মহিলাদের তুলনায় বেশি ছিল—প্রায় আধা কাপ। এর মানে হলো, মহিলাদের গ্যাসে দুর্গন্ধযুক্ত যৌগগুলির ঘনত্ব বেশি ছিল, কিন্তু পুরুষদের গ্যাসেও ঘনত্ব বেশি হওয়ায় দুর্গন্ধযুক্ত গ্যাসের মোট পরিমাণ প্রায় সমান ছিল। এর মানে হলো, নাকের উপর এর প্রভাব একই রকম হতে পারে, কিন্তু মহিলাদের গ্যাসে এর ঘনত্ব বেশি তীব্র।
মহিলাদের দেহে হাইড্রোজেন সালফাইডের মাত্রা বেশি কেন?
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এটি অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া, হরমোন এবং খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। মহিলাদের শরীরে থাকা নির্দিষ্ট কিছু ব্যাকটেরিয়া সালফারযুক্ত পদার্থগুলোকে আরও সহজে ভেঙে ফেলে। কিছু গবেষণায় এও দেখা গেছে, মহিলারা নির্দিষ্ট কিছু খাবার (যেমন শাকসবজি বা প্রোটিন) ভিন্নভাবে হজম করে। তবে, এই পার্থক্য ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব সবচেয়ে বেশি – অতিরিক্ত ব্রোকলি, বিনস, ডিম বা মাংস খেলে দুর্গন্ধ বাড়তে পারে।
বিমানে কেন বেশি গ্যাস উৎপন্ন হয়?
ওয়াশিংটন পোস্টের নিবন্ধটিতে আরও একটি আকর্ষণীয় তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বেশি উচ্চতায় উড়োজাহাজের ভেতরের বায়ুচাপ কম থাকে। এর ফলে অন্ত্রে আগে থেকে থাকা গ্যাস প্রসারিত হয়। একারণেই বিমানে ভ্রমণের সময় অনেকের পেটে অতিরিক্ত গ্যাস হয় বা অস্বস্তি বোধ করেন। এটি কোনও রোগ নয়, বরং পদার্থবিজ্ঞানের একটি নিয়ম।
এতে কি কোনও লাভও আছে?
মজার ব্যাপার হলো, অল্প পরিমাণে হাইড্রোজেন সালফাইড উপকারী হতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এই গ্যাস রক্তনালীকে শিথিল করতে এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। তবে, বেশি পরিমাণে এটি কেবল দুর্গন্ধ সৃষ্টি করতে পারে। তাহলে কার গ্যাসের গন্ধ বেশি তীব্র? গবেষণায় দেখা গেছে, মহিলাদের গ্যাসের গন্ধ বেশি তীব্র, কিন্তু পুরুষরা বেশি গ্যাস উৎপাদন করে। এই গবেষণাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আমাদের শরীরের ক্ষুদ্রতম প্রক্রিয়াগুলোও কতটা আকর্ষণীয় এবং বৈজ্ঞানিক হতে পারে। গন্ধ নিয়ে বিব্রত হওয়ার পরিবর্তে, এটি বোঝাটাই শ্রেয়।
আপনার গ্যাস যদি ঘন ঘন দুর্গন্ধযুক্ত হয়, তাহলে ডাক্তারের সঙ্গেকথা বলুন – কখনও কখনও এটি খাদ্যাভ্যাস বা হজমের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। বিজ্ঞান একটি গুরুতর গবেষণার মাধ্যমে এই বহু পুরনো মজাদার বিতর্কের নিষ্পত্তি করেছে। এখন, পরের বার যখন কেউ জিজ্ঞাসা করবে কার বাতকর্ম বেশি দুর্গন্ধযুক্ত, আপনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উত্তর দিতে পারবেন – মহিলাদের বাতকর্ম বেশি তীব্র, পুরুষদের আবার পরিমাণে বেশি।
Science has finally settled the age-old debate of whose farts smell worse — men or women.
— The Washington Post (@washingtonpost) April 23, 2026
A study found women’s flatus had greater odor intensity, but men produced more gas volume, writes our Ask a Doctor columnist. https://t.co/9YUWaezEBi
(এই নিবন্ধটি ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত ‘আস্ক আ ডক্টর’ কলাম এবং এ সম্পর্কিত ১৯৯৮ সালের একটি গবেষণার উপর ভিত্তি করে রচিত। প্রদত্ত তথ্য শুধুমাত্র জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে, কোনও চিকিৎসা পরামর্শ নয়।)