scorecardresearch
 

লাখ টাকা কেজির বিদেশি সবজি ফলছে ভারতে, মারে ক্যান্সারের কোষ

ইউরোপ-আমেরিকা কাঁপিয়ে এবার ভারতে হাজির হপ শুট। পৃথিবীর সবচেয়ে দামি ফসল। দাম কত জানেন ? এক লাখ টাকা প্রতি কেজি। গোটা দেশে মাত্র ৫ কাঠা জমিতে হচ্ছে চাষ। তাতেই বাজিমাত।

পৃথিবীর সবচেয়ে দামী ফসল হপ শুট পৃথিবীর সবচেয়ে দামী ফসল হপ শুট
হাইলাইটস
  • এক কেজির দাম এক লাখ টাকা
  • ভারতে এই সবজি কোথাও বিক্রি হয় না
  • বিদেশে রপ্তানিই একমাত্র উপায়

এক কেজি সবজির দাম ১ লাখ(Lakh) টাকা ! প্রোফেসর শঙ্কুর গল্পও নয়, কষ্ট কল্পনা(Fiction)-ও নয়। এ খাঁটি সত্যি। পৃথিবীর সবচেয়ে দামি ফসল(World Costliest Crop) এটি। নাম হপ শুট(Hop Shoot)। মূলত ইউরোপ-আমেরিকায় ফলে। ভারতে(India) প্রথম পা রেখেছে এক পড়াশুনো করা হাইটেক(High tech) দেশি কৃষকের হাত ধরে। আপাতত এটাই সম্বল। তবে এর গুণ অনেক। জানা গিয়েছে ক্যান্সারের(Cancer) কোষ মারে এই ফসল।

বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফসল এবার ভারতে

বিশ্বের সবথেকে ব্যয়বহুল ফসল হিসাবে পরিচিত ‘হপ-শুট’ এবার ফলানো হচ্ছে ভারতে। নেপথ্যে বিহার(Bihar)-র ঔরঙ্গাবাদ জেলার করমডিহি গ্রামের কৃষক অমরেশ সিং। ২০১২ সালে হাজারিবাগের সেন্ট কলম্বাস কলেজ থেকে ইন্টারিমিডিয়েট পাস করার পর হপ-শুট চাষকেই নিজের পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছেন অমরেশ। ভারতে চাহিদা না থাকায় আপাতত বিদেশে রপ্তানি করছেন তিনি।

অমরেশ সিং

৫ কাঠা জমিতে উৎপন্ন হচ্ছে হপ শুট

শেষ ৭ বছর ধরে বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে হপ শুট চাষ করার শপথ নিয়েছেন বিহারের এই কৃষক। নিজের মাত্র ৫ কাঠা জমিতে বর্তমানে হপ-শুটস ফলাচ্ছেন তিনি। তাতে লাভও হচ্ছে ভাল। বছর ছয়েক আগে থেকেই এক কিলোর এই ফসলের জন্য ১ হাজার পাউন্ড পেতেন তিনি। ভারতীয় মুদ্রায় যা ১ লক্ষ টাকা। 

আপাতত গোটাটাই বিদেশে রফতানি হচ্ছে

ভারতে এই ফসলের বাজার প্রায় নেই বললেই চলে। বিদেশ থেকে যেটুকু অর্ডার আসে তার ভিত্তিতেই চাষাবাদ। তবে বর্তমানে বেশ কিছু ল্যাবরেটরি হপ শুটের গুণের কথা জানতে পেরে, এটা জোগাড় করার তালে রয়েছে। ফলে আরও চাষ বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে আর কেউ এখনও চাষে এগিয়ে আসেনি।

হপ শুট খেত

কেন এত দাম এই ফসলের

কিন্তু এই হপ শুটের বিশেষত্ব কী? কেন এত দাম ! পারতপক্ষে এই গাছের ফুল, ফল, কাণ্ড, মূল— সবটাই ব্যবহৃত হয় ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে। সাধারণ খাদ্য হিসাবে ব্যবহারের পাশাপাশি তা থেকে তৈরি হয় বিয়ার(Beer)। অন্যদিকে এর নির্যাস থেকে বানানো হয় ক্যানসার, যক্ষ্মা, অনিদ্রা, মানসিক বিভিন্ন রোগের ওষুধ। কখনও ত্বকের উজ্জ্বল্য বজায় রাখতেও ইউরোপীয়রা ব্যবহার করেন এর রস। আর সে জন্যই দামের নিরিখে বাকি সকল সবজির তুলনায় আকাশছোঁয়া হপ-শুট।

 

ইউরোপে এর ব্যাপক চাষ

একাদশ শতকে প্রথম আবিষ্কার হয়েছিল এর ভেষজ গুণ। তারপর ইউরোপের বেশ কিছু দেশেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে হপ-শুটস। বর্তমানে রাশিয়া, জার্মানি, ব্রিটেন, ফ্রান্স ইত্যাদি পশ্চিমের দেশগুলিতেই মূলত চাষ হয় এই ফসলের। তবে অমরেশবাবুর হাত ধরে এই ফসল পা রেখেছে ভারতেও।

বিপণনে জোর অমরেশের

বারাণসীর জাতীয় উদ্ভিদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে রীতিমতো গবেষণা চলছে এই ফসলের ফলন নিয়ে। হিমাচলে এর চাষ আগে হলেও বাজারের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে বিগত কয়েক বছর আগে। তবে চাষের পাশাপাশি বিপণনে জোর দিয়ে যে এটিকেও লাভজনক করে তোলা যায়, নতুন করে সেই পথ দেখাচ্ছেন বিহারের অমরেশ সিং।

 

 
; ; ;