
শীত চলে যাওয়ার পর থেকেই মশার উপদ্রব বাড়তে শুরু করে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর জানালা খুললেই ঘরে ঢুকে পড়ে অসংখ্য মশা। শুধু বিরক্তিই নয়, মশার কামড় থেকে হতে পারে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়ার মতো মারাত্মক রোগ। তাই সময় থাকতেই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। কীভাবে বাড়ি থেকে মশা দূর করা যায়, রইল কিছু সহজ উপায়।
মশা সাধারণত জমা জলে ডিম পাড়ে। তাই বাড়ির আশপাশে কিংবা ফুলের টবে জমা জল থাকলে তা ফেলে দিন। এসি বা ফ্রিজের পিছনে জমে থাকা জলও নিয়মিত পরিষ্কার করুন।
বাড়ির জানালায় মশার জাল লাগালে মশা সহজে ঢুকতে পারবে না। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর জানালা খোলা থাকলে মশার উপদ্রব বাড়ে, তাই এই ব্যবস্থা নিলে অনেকটা উপকার পাওয়া যাবে।
বিছানা, পর্দা, কার্পেটের মতো জায়গায় ধুলো জমতে দিলে তাতেও মশা লুকিয়ে থাকতে পারে। নিয়মিত পরিষ্কার করলেই মশার সংখ্যা কমবে।
প্রাকৃতিক উপায়ে মশা তাড়ানোর জন্য নিম তেল মোমবাতিতে বা ল্যাম্পে দিয়ে জ্বালাতে পারেন। এছাড়া কর্পূর গরম জলে ফেলে ঘরে ছড়িয়ে দিলে মশা কমে যাবে।
তুলসো ও লেমন গ্রাস গাছ মশা দূর করতে দারুণ কার্যকরী। এগুলোর গন্ধ মশা সহ্য করতে পারে না। তাই বারান্দা বা ঘরের কোণে এই গাছ রাখলে উপকার মিলবে।
মশা হালকা হওয়ায় ফ্যানের বাতাসে উড়ে যায়। তাই মশার উপদ্রব বেশি হলে ঘরে ফ্যানের স্পিড বাড়িয়ে দিন। এসি চালিয়ে ফ্যান বন্ধ করে ঘুমোবেন না।
মশা দূর করতে বাজারে অনেক ধরনের ধূপকাঠি ও লিকুইড রিপেলেন্ট পাওয়া যায়। তবে রাসায়নিক জাতীয় কিছু ব্যবহার করলে ঘর ঠিকমতো বাতাস চলাচল করে এমনটা নিশ্চিত করুন। সত্যি বলতে এই ৭ নম্বর স্টেপটি যত কম ব্যবহার করবেন, ততই ভাল।
রাতে ঘুমানোর সময় মশারি টাঙালে মশার কামড় থেকে সহজেই রক্ষা পাওয়া যায়। বিশেষ করে ছোট শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি খুবই দরকারি।
মশা শুধু বিরক্তিকর নয়, এটি নানা রোগের বাহকও। তাই ঘর পরিষ্কার রাখা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। উপরের নিয়মগুলি মেনে চললে বাড়ি থেকে মশা সহজেই দূর করা সম্ভব।