মৌরি ভারতীয় রান্নাঘরের এটা অত্যন্ত পরিচিত মশলা হল মৌরি। খাবারে স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি, মৌরি শরীরের জন্য খুবই উপকারী। সকালে খালি পেটে মৌরির জল পান করার সহজ অভ্যাস আপনার হজম, বিপাক এবং হরমোনের ভারসাম্য উন্নত করতে পারে।
আয়ুর্বেদে, মৌরিকে একটি অপরিহার্য ভেষজ হিসাবে বিবেচনা করা হয়, যা হজম এবং ডিটক্সিফাই করার জন্য বিশেষভাবে উপকারী। বেশীরভাগ মানুষ মৌরিকে ঠান্ডা মনে করলেও, আয়ুর্বেদে এর প্রভাবকে গরম হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এটি হজমের আগুন বাড়ায়, একই সাথে শরীরের বাইরের অংশকে ঠান্ডা করে, তাই লোকেরা এটিকে ঠান্ডা বলে মনে করে।
পাকস্থলীর জন্য উপকারী - মৌরি গ্যাস, ফোলাভাব, অ্যাসিডিটি এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য একটি ঔষধ। খাবারের পরে এটি চিবিয়ে খাওয়া বা সকালে খালি পেটে এর জল পান করলে পাচনতন্ত্র উন্নত হয় এবং বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যায়।
ওজন কমাতে সহায়ক - আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, এটি ওজন কমানোর জন্যও উপকারী, কারণ এটি তাৎক্ষণিকভাবে বিপাক বৃদ্ধি করে, খিদে নিয়ন্ত্রণ করে এবং ফোলাভাব কমায়।
মহিলাদের জন্য উপকারী - মৌরি মহিলাদের জন্যও খুব উপকারী বলে বিবেচিত। এটি ব্রেস্ট মিল্ক বাড়াতে, পিরিয়ডের ব্যথা উপশম করতে এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। এই কারণে, এটিকে উপকারী ভেষজ বলা হয়, যা শরীর এবং মানসিক স্বাস্থ্য উভয়ের জন্যই উপকারী।
আধুনিক বিজ্ঞানও মৌরির বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছে। এতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়, যা কোষগুলিকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং ক্যান্সারের মতো রোগের ঝুঁকি কমায়। মৌরি আইবিএস (অনিয়মিত অন্ত্র সিন্ড্রোম) রোগেও উপশম করে। মৌরি জল তৈরির দুটি সহজ উপায় রয়েছে।
* রাতে এক থেকে দুই চা চামচ মৌরি জলে ভিজিয়ে রাখুন এবং সকালে পান করুন।
* মৌরি হালকা করে গুঁড়ো করে দুই কাপ জলে ফুটিয়ে ছেঁকে নিন এবং অর্ধেক হয়ে গেলে গরম পান করুন। সকালে খালি পেটে মৌরি জল পান করা ভাল, কারণ এটি হাইড্রেশন বাড়ায়, হজম বাড়ায় এবং বিষাক্ত পদার্থ দূর করে।
আপনি যদি ওজন কমাতে চান, তাহলে খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে এটি খেতে পারেন। যদিও এটি কোনও জাদুকরী প্রতিকার নয়, তবে প্রতিদিন খেলে ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে ফল দেখা যাবে। গর্ভাবস্থা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, মৃগীরোগ, রক্ত পাতলা করার ওষুধের ব্যবহার ইত্যাদি কিছু ক্ষেত্রে মৌরি সাবধানতার সঙ্গে খাওয়া উচিত। এই ক্ষেত্রে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা প্রয়োজন। মৌরির সঙ্গে জিরা এবং জোয়ান মিশিয়ে খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়।