Hair Color Without Dye: রাসায়নিক ডাই না লাগিয়ে এভাবে চুল রং করুন! পার্লারের মতো লুক হবে

Natural Hair Colour: রাসায়নিক উপাদানে পূর্ণ হেয়ার ডাই ব্যবহারের ফলে অনেকের চুল অত্যধিক শুষ্ক ও ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং মাথার ত্বকে জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তির সৃষ্টি করে। সেক্ষেত্রে, অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, ব্যয়বহুল এবং রাসায়নিক উপাদানে পূর্ণ হেয়ার ডাই ব্যবহার না করেই কি চুল রং সম্ভব?

Advertisement
রাসায়নিক ডাই না লাগিয়ে এভাবে চুল রং করুন! পার্লারের মতো লুক হবে   প্রতীকী ছবি

বর্তমান সময়ে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার প্রভাব কেবল মানুষের ত্বকেই নয়, চুলের ওপরেও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠছে। অল্প বয়সেই চুল পেকে যাওয়া বা ধূসর হয়ে যাওয়া এখন একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে; যা শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক- সব বয়সের মানুষের মধ্যেই মানসিক উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। মাথায় দু-একটি সাদা চুল দেখলেই অধিকাংশ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং তাৎক্ষণিকভাবে হেয়ার ডাই বা চুলের রং ব্যবহার করতে শুরু করেন। 

রাসায়নিক রং শুরুতে চুলকে দেখতে বেশ সুন্দর করে তুললেও, বারবার ব্যবহারের ফলে চুল তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলে। রাসায়নিক উপাদানে পূর্ণ হেয়ার ডাই ব্যবহারের ফলে অনেকের চুল অত্যধিক শুষ্ক ও ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং মাথার ত্বকে জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তির সৃষ্টি করে। সেক্ষেত্রে, অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, ব্যয়বহুল এবং রাসায়নিক উপাদানে পূর্ণ হেয়ার ডাই ব্যবহার না করেই কি চুল রং সম্ভব?

যদি আপনার মনেও এই প্রশ্নটি জাগে, তবে এর উত্তর হল- হ্যাঁ, অবশ্যই সম্ভব। আপনার ঘরেই এমন অনেক প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে, যা ব্যবহার করে আপনি কেবল চুল রাঙাতেই পারবেন না। বরং চুলকে করে তুলতে পারবেন কোমল, উজ্জ্বল এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল। আপনিও যদি বারবার হেয়ার ডাই ব্যবহার করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েন, তবে এই সহজ ঘরোয়া উপায়গুলো আপনার জন্য অত্যন্ত সহায়ক হতে পারে।

চা পাতা ও আমলা দিয়ে তৈরি করুন প্রাকৃতিক রং

আপনি যদি আপনার চুলে হালকা কালো বা বাদামী আভা বা 'টোন' দিতে চান, তবে চায়ের লিকার এক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। এর জন্য, জলে চা পাতা দিয়ে তা ভাল করে ফুটিয়ে নিন। এরপর সেই মিশ্রণে আমলকীর গুঁড়ো এবং সামান্য হেনা মিশিয়ে একটি লোহার পাত্রে নিয়ে কিছুক্ষণ ধরে জ্বাল দিন। মিশ্রণটি পুরোপুরি ঠান্ডা হতে দিন। এরপর এটি আপনার চুলে লাগান এবং প্রায় এক ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন। এই পদ্ধতিটি আপনার চুলে একটি প্রাকৃতিক ও গাঢ় আভা এনে দিতে পারে।

Advertisement

জবা ফুলও হতে পারে আপনার চুলের পরম বন্ধু  

আপনার চুলের যত্নে জবা ফুল হতে পারে এক আশীর্বাদস্বরূপ। এটি কেবল আপনার চুলের পুষ্টিই জোগায় না, বরং চুলের রং বা আভা উন্নত করতেও সহায়তা করে। এর জন্য, জবা ফুল ও পাতা বেটে একটি পেস্ট বা মিশ্রণ তৈরি করে নিন এবং তাতে চা পাতা ও আমলকী মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি আপনার চুলে লাগিয়ে ৪০ থেকে ৫০ মিনিট অপেক্ষা করুন এবং এরপর চুল ধুয়ে ফেলুন। এর ফলে আপনার চুলে একটি মৃদু, প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা এবং সুন্দর আভা ফুটে উঠবে।

কফি এবং লিকার চা-ও হতে পারে সহায়ক

আপনি যদি আপনার চুলে গাঢ় কালো রঙের পরিবর্তে বাদামী আভা বা 'ব্রাউন টোন' দিতে চান, তবে কফি এবং লিকার চা হতে পারে আপনার জন্য চমৎকার বিকল্প। বিশেষজ্ঞদের মতে, কড়া লিকারের চা কিংবা কফি ব্যবহার করলে চুলে কিছুটা গাঢ় আভা বা শেড আনা সম্ভব। তবে মনে রাখবেন, এর ফল বা প্রভাব খুব ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। তাই কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে হলে এটি নিয়মিত ব্যবহার করা প্রয়োজন। রাসায়নিক ডাই বা রঞ্জকের তুলনায় এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলোকে চুলের জন্য অধিক শ্রেয় মনে করা হয়। কারণ এগুলোতে কোনও কঠোর রাসায়নিক পদার্থ থাকে না; তবে একেকজনের চুলের ওপর এদের প্রভাব একেকরকম হতে পারে। তাই, চুলে নতুন কিছু প্রয়োগ করার আগে সর্বদা একটি 'প্যাচ টেস্ট' করে নেওয়া উচিত। এছাড়া, আপনার চুল যদি ইতিমধ্যেই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে কিংবা আপনার মাথার ত্বকে কোনও সমস্যা থাকে, তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

আপনি যদি আপনার চুলকে সুস্থ রাখতে চান, তবে কেবল চুলে রং করাই যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান, মানসিক চাপ কমানো এবং নিয়মিত চুলে তেল মালিশ করাও অপরিহার্য।


 

POST A COMMENT
Advertisement