Kerala Off Beat Place: সামনের শীতে কেরলম যাওয়ার প্ল্যান? ঘুরে আসতে পারেন এই ৫টি অজানা গ্রামে

কিন্তু অধিকাংশজন এটা জানেন না যে এখানে এমন কিছু সুন্দর গ্রামও রয়েছে, যেখানকার জীবনযাপন এখনও ধীর গতিতে চলে। যেখানে নেই শহুরে কোলাহল, ভিড়। চারিদিকে শুধুই সবুজ প্রকৃতি, পাহাড়, চাষের ক্ষেত ও স্থানীয় সংস্কৃতি দেখার সুযোগ রয়েছে।

Advertisement
সামনের শীতে কেরলম যাওয়ার প্ল্যান? ঘুরে আসতে পারেন এই ৫টি অজানা গ্রামে  কেরালার ৫ অচেনা গ্রাম
হাইলাইটস
  • কেরলম মানেই এক দারুণ নৈসর্গিক প্রাকৃতিক দৃশ্যের হাতছানি।

কেরলম মানেই এক দারুণ নৈসর্গিক প্রাকৃতিক দৃশ্যের হাতছানি। পকেটে যদি আপনার জোর থাকে তাহলে সাতপাঁচ না ভেবেই আপনি কেরলম-এ ঘুরে আসতে পারেন। দক্ষিণের এই রাজ্যে ঘোরার কথা আসলেই সবার আগে আলেপ্পির হাউসবোট কিংবা মুন্নারের চা বাগানের কথাই সবার আগে মনে আসে। যাঁরা ঘুরতে ভালোবাসেন কেরলমে গিয়ে এই দুটো জায়গা তাঁরা অবশ্যই যাবেন। কিন্তু অধিকাংশজন এটা জানেন না যে এখানে এমন কিছু সুন্দর গ্রামও রয়েছে, যেখানকার জীবনযাপন এখনও ধীর গতিতে চলে। যেখানে নেই শহুরে কোলাহল, ভিড়। চারিদিকে শুধুই সবুজ প্রকৃতি, পাহাড়, চাষের ক্ষেত ও স্থানীয় সংস্কৃতি দেখার সুযোগ রয়েছে। তাই কেরলমে গিয়ে আপনি যদি প্রকৃতির কাছাকাছি কিছু শান্তিপূর্ণ মুহূর্ত কাটাতে চান, তাহলে কেরলমের এই সিক্রেট গ্রামগুলিতে অবশ্যই যেতে পারেন। 

কান্থাল্লুর
পশ্চিমঘাট পর্বতের কোলে অবস্থিত কান্থাল্লুর তার ফল উৎপাদনের জন্য পরিচিত। এটি দক্ষিণ ভারতের অল্প কয়েকটি জায়গার মধ্যে অন্যতম, যেখানে আপেল, কমলা, আলুবোখরা এবং স্ট্রবেরির মতো ফলের চাষ হয়। এখানকার সবুজ ফলের বাগান এবং প্রাচীন মুনিয়ারা ডলমেন পর্যটকদের আকর্ষণ করে। গ্রামটির সরলতা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য একে বিশেষ করে তুলেছে। কান্থাল্লুর ভ্রমণের সেরা সময় হল সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস।

ছবি সৌজন্যে: সংগৃহীত

ভাট্টাভাদা
মুন্নার থেকে প্রায় ৪২ কিমি দূরে অবস্থিত এই পাহাড়ি গ্রাম, যেখানে পাহাড়ের ধাপে ধাপে রয়েছে ক্ষেত, পাথরের বাড়ি এবং জৈব চাষ। উপজাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী জীবনযাত্রার জন্য পরিচিত। গ্রামের এই শান্ত পরিবেশ শহরের ভিড়ভাট্টা থেকে দূরে এক প্রশান্তির অনুভূতি দেয়। ভাট্টাভাদা ভ্রমণের সেরা সময় হল অক্টোবর থেকে মার্চ মাস। 

ছবি সৌজন্যে: সংগৃহীত

মারায়ুর
মারায়ুর তার চন্দন কাঠের বনের জন্য বিখ্যাত। এই গ্রামটি ইতিহাস ও প্রকৃতির এক অনন্য মিশ্রণ। এখানে ৩,০০০ বছরের পুরনো মুনিয়ারা ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। এখানকার ঐতিহ্যবাহী মারায়ুর গুড়ও খুব জনপ্রিয়। সংস্কৃতি ও ইতিহাসে আগ্রহীদের জন্য এই জায়গাটি একটি বিশেষ স্থান। মারায়ুর ভ্রমণের সেরা সময় হল নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি। 

Advertisement

কুম্ভালাম্ভি
কোচি শহরের কাছে অবস্থিত শান্ত দ্বীপ, যা তার ব্যাকওয়াটার, চাইনিজ ফিশিং নেট এবং স্থানীয় জীবনযাত্রার জন্য পরিচিত। এই গ্রামে কোনো বড় হোটেল না থাকলেও, পর্যটকরা হোমস্টেতে থেকে স্থানীয় সংস্কৃতিকে কাছ থেকে অনুভব করতে পারেন। এখানে মাছ ধরা এবং নারকেলের দড়ি তৈরির মতো ঐতিহ্যবাহী কার্যকলাপও উপভোগ করা যায়। কুম্ভালাঙ্গি ভ্রমণের সেরা সময় হলো অক্টোবর থেকে মার্চ মাস। 

ছবি সৌজন্যে: সংগৃহীত

উরুম্বিক্কারা
কুত্তিকানাম ও ভাগামনের মাঝে অবস্থিত উরুম্বিক্কারা একটি শান্ত ও স্বল্প পরিচিত একটি গ্রাম। ব্রিটিশ আমলে এটি একসময় একটি গুরুত্বপূর্ণ চা বাগান কেন্দ্র ছিল, আর এখন এখানে রয়েছে পুরোনো চা কারখানা এবং ঔপনিবেশিক আমলের ভবন। কুয়াশায় মোড়া পাহাড় ও সুন্দর পরিবেশ এটিকে প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য করে তুলেছে। উরুম্বিক্কারার সৌন্দর্য উপভোগ করার সেরা সময় হলো সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস। 

কেন এখানে ঘুরতে যাবেন?
আপনি যদি পর্যটকের ভিড়ে ঠাসা কেন্দ্রগুলি থেকে দূরে একটি শান্ত ও অনন্য জায়গার খোঁজ করে থাকেন, তবে কেরলমের এই গ্রামগুলি একটি দারুণ বিকল্প হতে পারে। এখানে আপনি পাবেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, স্থানীয় সংস্কৃতি এবং একটি স্বস্তিদায়ক পরিবেশ, যা আপনার ভ্রমণকে স্মরণীয় করে তুলবে। 

POST A COMMENT
Advertisement