ঢেঁড়সআমাদের দেশের প্রতিটি পরিবারে কোনো না কোনোভাবে ঢেঁড়স খাওয়া হয়। এটি দিয়ে সবজি ও ভুজিয়া সহঅনেক পদ তৈরি করা হয়। ঢেঁড়স শুধু খেতেই সুস্বাদু নয়, স্বাস্থ্যের জন্যও খুব উপকারী। ঢেঁড়স ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ফাইবার, ফোলেট, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর, যা শরীরকে অনেক রোগ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এই কারণেই ভারতীয় রান্নাঘরে ঢেঁড়স একটি প্রিয় খাবার।
আপনার খাদ্যতালিকায় ঢেঁড়স কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করবেন?
১. ঢেঁড়সের তরকারি: আপনি খুব কম তেল এবং মশলা ব্যবহার করে দ্রুত ঢেঁড়সের তরকারি তৈরি করতে পারেন। এটি জল-ভাত, রুটি, পরোটা বা পুরির সঙ্গে খাওয়া যায়। ঢেঁড়সের তরকারি খেতে খুবই সুস্বাদু।
২. ভাজা ঢেঁড়স: আপনি ঢেঁড়স ভেজেও খেতে পারেন। এই মুচমুচে ঢেঁড়স ভাজা একটি চমৎকার নাস্তা। ঢেঁড়সের উপর সামান্য বেসন এবং মশলা ছিটিয়ে ডুবো তেলে বা এয়ার-ফ্রাই করে নিন। পরিবারের সবাই ভাজা ঢেঁড়স পছন্দ করবে।
৩. ঢেঁড়স ভর্তা: আপনারা হয়তো আলু এবং বেগুনের ভর্তা খেয়েছেন, কিন্তু ঢেঁড়স ভর্তাও বানাতে পারেন। ঢেঁড়স ভালোভাবে ভেজে নিন এবং এর সঙ্গে টমেটো, পেঁয়াজ ও মশলা যোগ করে ঢেঁড়স ভর্তা তৈরি করুন।
৪. ঢেঁড়সের তরকারি: আপনি হয়তো ডিমের তরকারি, বেসনের তরকারি এবং আলুর তরকারি খেয়েছেন, কিন্তু আপনি কি কখনও ঢেঁড়সের তরকারি খেয়ে দেখেছেন? যদিনা খেয়ে থাকেন, তবে একবার চেষ্টা করে দেখুন। ঢেঁড়সের তরকারি নারকেল, দুধ বা দই দিয়ে তৈরি করা হয়। দক্ষিণ ভারতীয় খাবারের স্বাদের সঙ্গে ঢেঁড়সের তরকারি খেতে দারুণ লাগে।
৫. গ্রিলড ঢেঁড়স: আপনার জেনে রাখা উচিত যে গ্রিলড ঢেঁড়স খুব সুস্বাদু হয়। এটি তৈরি করতে, প্রথমে একটি প্যানে সর্ষের তেল গরম করুন। তারপর, মেথি এবং লালমরিচ দিয়ে ফোড়ন দিন, এরপর কাটা ঢেঁড়স যোগ করুন। স্বাদমতো লবণ দিয়ে রান্না করুন। ভাজার সময় এক চা চামচ বেসন এবং হিং যোগ করুন। এটি এর স্বাদ আরও বাড়িয়ে তুলবে।
৬. ঢেঁড়সের আচার: আপনি ঢেঁড়সের আচারও তৈরি করে খেতে পারেন। ঢেঁড়সের আচার খেতে খুব সুস্বাদু হয়।
ঢেঁড়স খাওয়ার উপকারিতা
শুধু একটি বা দুটি নয়, বরং অসংখ্য। ঢেঁড়স সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ঢেঁড়সে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে, যা সঠিক হজমে সাহায্য করে। ঢেঁড়স খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ হয়। ঢেঁড়সের ফাইবার কোলেস্টেরল কমায়, যা হৃৎপিণ্ডের জন্য উপকারী। ঢেঁড়সের পলিফেনল এবং ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ঢেঁড়স খাওয়া উচিত।
ঢেঁড়সে ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে, যা হাড়কে মজবুত করে। ঢেঁড়স বিটা-ক্যারোটিনে সমৃদ্ধ, যা দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে কার্যকর। ঢেঁড়স ভিটামিন সি-তে ভরপুর, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ঢেঁড়সে প্রদাহ-বিরোধী যৌগ রয়েছেযা প্রদাহ এবং সম্পর্কিত দীর্ঘস্থায়ী রোগ কমাতে সাহায্য করে। ঢেঁড়সে ভিটামিন এ এবং সি রয়েছে, যা ত্বকের জন্য ভালো বলে মনে করা হয়।