বেদানাকে সাধারণত সুপারফুড বলা হয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজে সমৃদ্ধ এই ফল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর। তবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বেদানা সব মানুষের জন্য উপকারী নয়। কিছু ক্ষেত্রে এটি উপকারের বদলে মারাত্মক ক্ষতিও করতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, নিচের পাঁচ ধরনের মানুষের বিশেষভাবে সতর্ক থাকা উচিত।
১. নিম্ন রক্তচাপের রোগীরা
বেদানা রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। তাই যাদের আগে থেকেই নিম্ন রক্তচাপ বা হাইপোটেনশন আছে, তাদের জন্য এটি বিপজ্জনক হতে পারে। অতিরিক্ত বেদানা খেলে মাথা ঘোরা, দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।
২. অস্ত্রোপচারের আগে রোগীরা
ডাক্তাররা সাধারণত সার্জারির দুই সপ্তাহ আগে বেদানা খাওয়া এড়াতে বলেন। কারণ এটি রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে এবং অ্যানেস্থেশিয়ার সঙ্গেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া ঘটাতে পারে। ফলে অস্ত্রোপচারের সময় অতিরিক্ত রক্তপাতের আশঙ্কা থাকে।
৩. হজমের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিরা
বেদানায় থাকা ট্যানিন অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে গ্যাস, পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া কিংবা পেটব্যথার মতো সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। তাই যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে, তাদের বেদানা খাওয়ার সময় সতর্ক থাকা উচিত।
৪. নির্দিষ্ট ওষুধ গ্রহণকারীরা
যারা ACE ইনহিবিটর, স্ট্যাটিন, বিটা-ব্লকার কিংবা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান, তাদের বেদানা এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। বেদানায়র কিছু উপাদান এসব ওষুধের কার্যকারিতা বদলে দিতে পারে, যার ফলে জটিল স্বাস্থ্য সমস্যার আশঙ্কা তৈরি হয়।
৫. অ্যালার্জি আক্রান্তরা
যদিও খুব কম ক্ষেত্রেই বেদানায় অ্যালার্জি দেখা যায়, তবে যাদের আগে থেকেই পীচ বা আপেলের মতো ফলে অ্যালার্জি আছে তাদের ঝুঁকি বেশি। অ্যালার্জির লক্ষণ হিসেবে মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, ত্বকে ফুসকুড়ি, চুলকানি বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় অ্যানাফিল্যাক্সিসও হতে পারে।