আলু খাওয়ার সঠিক নিয়ম কী?ভারতীয়দের হেঁশেলে সবচেয়ে দরকারি ও গুরুত্বপূর্ণ সবজি হল আলু। যা আট থেকে আশি সকলেই খেতে ভীষণ ভালোবাসেন। সবজি থেকে মাছের ঝোল কিংবা মাটন অথবা বিরিয়ানি বা আলুর পরোটা, আলু ছাড়া সব খাবারের স্বাদই ফিকে। তবে স্বাস্থ্য ও ওজনের প্রসঙ্গ যখন আসে, তখনই সবাই আলুকে তাঁদের ডায়েট থেকে বিতাড়িত করে দেয়। অতিরিক্ত পরিমাণে স্টার্চ হওয়ার দরুণ এই আলু ওজন বাড়ায় এবং একে অস্বাস্থ্যকর বলেই মনে করা হয়। আর এই জন্য অনেকেই আলু খেতে চান না। কিন্তু আদৌও আলু এতটা অস্বাস্থ্যকর?
Healthline.com অনুসারে, আলু যদি সঠিকভাবে ও সঠিক পরিমাণে খাওয়া হয় তাহলে এটা স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী প্রমাণিত হবে। তবে এটা কীভাবে রান্না করা হচ্ছে, তার ওপরও নির্ভর করে এবং কতটা পরিমাণে আপনি তা খাচ্ছেন। আসুন জেনে নিই আলু নিয়ে কিছু প্রচলিত ধারণা সম্পর্কে।
মিথ ১: আলুতে শুধুই ক্যালোরি থাকে
অনেকেই মনে করেন যে আলুতে কোনও ধরনের পুষ্টি নেই। যদিও এটা সত্যি নয়। আলুতে প্রাকৃতিক ফাইবার ভরপুর থাকে আর এতে ক্যালোরি এবং ফ্যাট কম থাকে। এতে ভিটামিন C, ভিটামিন B6 ও পটাশিয়ামও রয়েছে। এর অর্থ আলুতে শুধু কার্ব বা স্টার্চই থাকে না, বরং একাধিক জরুরি পুষ্টিও রয়েছে।
মিথ ২: আলু খেলে ওজন বাড়ে
আলু নিজে কখনও ওজন বাড়ায় না। বরং আলুকে যেভাবে রান্না করা হয়, সেই পদ্ধতির ফলে ওজন বাড়ে। ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, কাটলেট, টিক্কি বা চিলি পটাটোর মতো খাবারে বেশি পরিমাণ ফ্যাট ও ক্যালোরি থাকে, কারণ এগুলো সবই ছাঁকা তেলে ভাজা। তবে আলু সেদ্ধ করে, হালকা ভেজে, বেক বা গ্রিল করে খাওয়া হয়, তাহলে এতে ফ্যাট ও ক্যালোরি কম থাকে।
মিথ ৩: ডায়াবেটিসে আলু খেতে নেই
এটা সত্যি যে আলুতে গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স (GI) একটু বেশি থাকে, যাতে রক্তে শর্করার বাড়তে পারে। তবে এখানে সবচেয়ে জরুরি বিষয় মনে রাখার মতো হল আপনি কতটা খাচ্ছেন। আলু সেদ্ধ করলে এর স্টার্চ প্রতিরোধী স্টার্চে রূপান্তরিত হয়, যা ফাইবারের মতো কাজ করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে বাধা দেয়। প্রোটিন এবং ফাইবার সমৃদ্ধ সবজি দিয়ে আলু খাওয়া রক্তে শর্করা বৃদ্ধির ঝুঁকি আরও কমায়, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী হতে পারে।
মিথ ৪: আলুতে অস্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট থাকে
ওজন কমানোর জন্য প্রায়শই মানুষকে আলু এবং কার্বোহাইড্রেট এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে, খাদ্যতালিকা থেকে কার্বোহাইড্রেট সম্পূর্ণরূপে বাদ দেওয়া ঠিক নয়, কারণ এটি শক্তি হ্রাসের দিকে পরিচালিত করতে পারে। আলুর জটিল কার্বোহাইড্রেট এবং ফাইবার ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে, দীর্ঘ সময়ের জন্য শক্তির মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
Disclaimer: (এই খবরটি শুধুমাত্র তথ্যের জন্য। আপনার খাদ্যতালিকায় কোনও পরিবর্তন আনার আগে একজন ডাক্তার বা পুষ্টিবিদের সঙ্গে পরামর্শ করতে ভুলবেন না।)