চুল পেকে যাচ্ছে?Premature Grey Hair: আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হঠাৎ দু’-একটি সাদা চুল চোখে পড়েছে? বয়স খুব বেশি নয়। তবু মাথার চুল দ্রুত পেকে যাচ্ছে? অনেকেই এমন হলে চিন্তায় পড়েন। কেউ আবার সঙ্গে সঙ্গে তেল, শ্যাম্পু বা ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার শুরু করেন। কিন্তু চুল পাকার পিছনে সব সময় বয়স দায়ী নয়।
চুলের রং তৈরি হয় মেলানিন নামের একটি রঞ্জক পদার্থ থেকে। চুলের ফলিকলের মেলানোসাইট কোষ এই রং তৈরি করে। সময়ের সঙ্গে এই কোষের কাজ কমে গেলে চুল ধীরে ধীরে ধূসর বা সাদা হতে থাকে। সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে এমনটা হওয়া স্বাভাবিক। তবে অনেকের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম বয়সেই চুল পেকে যেতে পারে।
কম বয়সে চুল পাকার অন্যতম কারণ হতে পারে বংশগত প্রবণতা। বাবা-মা বা পরিবারের অন্য সদস্যদের অল্প বয়সে চুল পেকে গেলে পরবর্তী প্রজন্মেও একই প্রবণতা দেখা যেতে পারে। অর্থাৎ শুধু চুলের যত্ন না নেওয়ার জন্যই চুল সাদা হচ্ছে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
ভিটামিনের ঘাটতিও কারণ হতে পারে
শরীরে কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতির সঙ্গে অকালপক্ব চুলের সম্পর্ক পাওয়া গিয়েছে। বিশেষ করে ভিটামিন B12-এর ঘাটতি নিয়ে একাধিক গবেষণায় সম্পর্ক দেখা গিয়েছে। ভারতীয় তরুণদের উপর করা একটি গবেষণাতেও অকালপক্ব চুলের সঙ্গে কম B12 এবং ফেরিটিনের মাত্রার সম্পর্ক পাওয়া গিয়েছিল।
তবে তাই বলে নিজের ইচ্ছায় ভিটামিনের ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে ঘাটতি আছে কি না জানা ভাল।
থাইরয়েডের সমস্যাও নজরে রাখুন
থাইরয়েড হরমোনের পরিবর্তনের সঙ্গেও অল্প বয়সে চুল পাকার সম্পর্ক থাকতে পারে। গবেষণায় হাইপোথাইরয়েডিজম এবং অকালপক্ব চুলের মধ্যে সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে।
তাই খুব কম বয়সে হঠাৎ অনেক চুল সাদা হতে শুরু করলে এবং অন্য কোনও শারীরিক সমস্যাও থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
অতিরিক্ত মানসিক চাপ?
এই প্রশ্নের উত্তর পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ চুলের ফলিকলের রঞ্জক তৈরির কোষের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। শরীরে স্ট্রেসের সময় নির্দিষ্ট হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। তার প্রভাব চুলের রং তৈরির প্রক্রিয়াতেও পড়তে পারে।
তবে একটি-দু’দিনের চিন্তা বা কাজের চাপেই হঠাৎ চুল সাদা হয়ে যায়; এমন সরল ব্যাখ্যা বিজ্ঞানসম্মত নয়। অকালপক্ব চুলের পিছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
চুল পাকা আটকাতে কী করবেন?
প্রথমেই খাবারের দিকে নজর দিন। প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন, শাকসব্জি, ফল এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ রাখুন। পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস করুন। মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন। ধূমপান করলে তা ছাড়ার চেষ্টা করুন। সূর্যের অতিরিক্ত রশ্মি থেকেও চুলকে সুরক্ষিত রাখা ভাল। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শেও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণের উপর জোর দেওয়া হয়।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এক বার পেকে যাওয়া চুলকে নিশ্চিত ভাবে আগের রঙে ফিরিয়ে দেওয়ার কোনও প্রমাণিত চিকিৎসা বর্তমানে নেই। যদি কোনও ভিটামিনের ঘাটতি বা অন্য শারীরিক সমস্যা এর পিছনে থাকে, সেই কারণের চিকিৎসা করলে কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
তাই অল্প বয়সে চুল পাকা শুরু হলে শুধু দামি তেল বা ঘরোয়া টোটকার উপর ভরসা না করে কারণটি খুঁজে দেখা বেশি জরুরি। বংশগত কারণ হলে তা স্বাভাবিক প্রবণতাও হতে পারে। আবার পুষ্টির ঘাটতি বা থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে তার সমাধান করা সম্ভব।